এখন যৌবন যারঃ স্টিভ স্মিথ

স্টিভ স্মিথ
স্টিভ স্মিথ
স্টিভ স্মিথ
বয়স – ২৫ বছর ২৫৪ দিন
ওয়ানডে ক্যারিয়ার (৫০ ম্যাচ)
ব্যাটিং – ৩৮ ইনিংস – ১১৪৭ রান – গড় ৩৫ – স্ট্রাইক রেইট ৮৮
বোলিং- ৩৩ ইনিংস – ২৭ উইকেট – ইকোনোমি ৫.২ – গড় ৩২

স্টিভ স্মিথকে নিয়ে কিছু লিখতে বললে বা কিছু বলতে বললে বিচিত্র পৃথিবীর প্রতি দশজনের ৮ জনই শুরু করবেন একই রকম ভাবে । নেট ঘেঁটে স্টিভ স্মিথের গেল তিন চার মাসের দারুন সব ইনিংসগুলোর একটা লম্বা ফিরিস্তি দেওয়াটাই বোধহয় এই মুহূর্তে স্টিভ স্মিথকে নিয়ে কিছু বলা শুরু করার সবচাইতে সহজ এবং জনপ্রিয় উপায় । আমি সে রাস্তায় হাঁটবো না । আমার কাছে তার চাইতেও হাজারগুণে রোমাঞ্চকর লাগে স্টিভ স্মিথের আকস্মিক উত্থানের গল্পটা । আমার কাছে ভালো লাগে পন্টিং-ম্যাকগ্রা-গিলি-ওয়ার্নি-হেইডেনরা যাবার পর কীভাবে মাইকেল ক্লার্ক স্টিভ স্মিথ-রায়ান হ্যারিস আর ওয়ার্নারদের নিয়ে একটু একটু করে অজিদের নিয়ে গেলেন তাদের হারানো সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের মতো জায়গায় ..

দুই প্রজন্মঃ স্টিভ স্মিথ ও শেন ওয়ার্ন
দুই প্রজন্মঃ স্টিভ স্মিথ ও শেন ওয়ার্ন
.

“যখন যা চাই, তখন তা পাই না” – জন্মের ইতিহাস থেকে মানুষের হাহাকারের বড় কারণ হয়েছে এই বাক্যটি । অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটও হয়তো শেন ওয়ার্ন ও স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলকে একসাথে চায় নি । ক্যারিয়ার জুড়েই হতাশাই সঙ্গী হয়েছে স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের শেন ওয়ার্নের সমসাময়িক হওয়াতে । আর সেই অস্ট্রেলিয়াই ২০০৭ এর একদম শুরুতে ওয়ার্নির অবসরের পর একটা রিপ্লেসমেন্ট খুঁজে বেরিয়েছে হন্যে হয়ে । জেসন ক্রেজ্জা থেকে শুরু করে এশটন এগার- বাদ যায় নি কেউই । সে প্রক্রিয়াতেই উঠে আসা অনেকের মধ্যেই একজন স্টিভ স্মিথ । যার টেস্ট আর ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যায় ২০১০ সালে । মূলত লেগস্পিনটার কারণেই । টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুটা একদম খারাপ ছিলো না স্মিথের । মাইক হাসি, মাইকেল ক্লার্ক আর মার্কাস নর্থের মিডল অর্ডারে জায়গা হয় না স্মিথের । ব্যাট করেন ৭, ৮ এমনকি ৯ এ । অভিষেকে প্রথম বল হাতে নেন চতুর্থ ইনিংসে । পাকিস্তানের কাঁধে বিশাল টার্গেটের চাপকে কাজে লাগিয়ে তুলে নেন ৩টি উইকেট । তবে একই টেস্টের ৪র্থ ইনিংসে আরেক পার্টটাইমার মার্কাস নর্থও ৬ উইকেট নিয়ে ফেলায় স্পিনার স্মিথকে আড়ালে ঢাকা পড়ে যেতে হয় । তারপর কীভাবে যেন খেলে ফেলেন ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপটাও । তবে তার আগে করে ফেলেন বলার মত আরেকটা কাজ । ২০১০ এ ক্যারিবিয়ানে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পেয়ে যান অনেকগুলো উইকেট । তার ১১ উইকেট ছিলো পুরো টুর্নামেন্টের মধ্যে ২য় সর্বোচ্চ । তবে ২০১১ বিশ্বকাপে উপমহাদেশে এসে করতে পারলেন না বলার মত কিছুই । ক্যারিয়ারে সাফল্য আসছিলো, কিন্তু ছেড়ে ছেড়ে । দলে জায়গাটা নিশ্চিত ছিলো না । সবচাইতে বড় দুশ্চিন্তার জায়গাটা ছিলো নিজেই বুঝতে পারছিলেন না তার জায়গাটা আসলে কী? না তিনি স্ট্রাইক বোলার , না তিনি দলের ব্যাটিং অর্ডারের অপরিহার্য অংশ । সাথে সাথে ন্যাথান লায়ন আর জেসন ক্রেজ্জারা আসতে লাগলেন । স্মিথ হয়তো টের পেয়ে গেলেন শূধু স্পিনার স্মিথের জায়গাটা নিশ্চিত নয় ক্রিকেট ইতিহাসের সবচাইতে সফল দলটির স্কোয়াডে ।

প্রথমে বোলিংটাই আসল কাজ ছিলো স্টিভ স্মিথের
প্রথমে বোলিংটাই আসল কাজ ছিলো স্টিভ স্মিথের

“একজনের উত্থানের উপাখ্যান শুরু হবে আরেকজনের পতনের গল্প থেকেই” – যেমনভাবে স্টিভ স্মিথের উপর ব্যাটিং এর দ্বায়িত্বটা বেড়ে যায় ২০১০ এর পরে মার্কাস নর্থ, ব্র্যাড হ্যাডিনদের ফর্মে ক্রমশ নিচের দিকে নামতে থাকলে । আর ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথের অজি মিডল অর্ডারে একটা আলাদা জায়গা হয়ে যায় ২০১৩ সালে মাইকেল হাসি অবসর নিয়ে নিলে । পাকা দুই বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে ২০১৩ সালে মোহালিতে স্মিথ ৯২ রানের ইনিংসটা যদি হয় বোলার স্মিথ থেকে ব্যাটসম্যান স্মিথ হয়ে উঠার সংগ্রামের সফলতার প্রথম ধাপ, তাহলে সংগ্রামের সূচনাটা ছিলো অনেক আগেই। ২০১০-১১ সালের ওশেজ থেকে ৬ নাম্বারে খেলা স্মিথ পেয়ে যান বেশ কিছু ভালো সূচনা । সেঞ্চুরি আসছিলো না । আর আস্তে আস্তে উঠতে উঠতে ২০১৩ এর এশেজে পেয়ে যান কাঙ্ক্ষিত শতকটাও । উঠা নামার গ্রাফটা স্টিভেন স্মিথের ক্যারিয়ারে ঐ পর্যন্তই । তারপর শুধু উত্থানের কাহিনী ।

অবশেষে ব্যাটিংটাই পায়ের নিচে শক্ত মাটি এনে দেয় স্মিথকে
অবশেষে ব্যাটিংটাই পায়ের নিচে শক্ত মাটি এনে দেয় স্মিথকে

ব্যাটসম্যান স্মিথ ব্যাটিং গ্রামারের ক্লাসের ১ নম্বর রোলধারী ছাত্র হয়তো নয় । ভিতর দিকে শাফল করা বলে কিছুটা দুর্বলতা ছিলো । তবে যা প্রতিনিয়ত শিখছেন তা মাঠে গিয়ে করে দেখানোর ক্ষমতাটা বিশাল । নেতা স্টিভ স্মিথের বড় গুণ খুব সম্ভবত প্রতিনিয়ত শেখার আগ্রহ । ব্যাটসম্যান স্মিথের শট প্লেইসমেন্ট অসাধারণ , স্পিনে ভালো স্লগ করতে পারেন । আর স্মিথের ওয়ানডের ভালো ইনিংসগুলোর বড় বৈশিষ্ট্য খুব ভালো স্ট্রাইক রোটেশনের ক্ষমতা ।

স্টিভ স্মিথের ব্যাপারে উল্লেখ করার মত আরেকটি তথ্য হলো , ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথের শুরুটা কিছুটা সময় নিলেও প্রথম থেকেই অসাধারণ একজন এথলেট ছিলেন । দারুন রানিং বিটুইন দ্যা উইকেট , চনমনে ফিল্ডার আর সবচাইতে চোখে পড়ার মত ব্যাপার হলো নিজের সবটুকু মাঠে ঢেলে দিয়ে দলের স্পিরিটটাকে দারুনভাবে সমুন্নত রাখার ক্ষমতা । স্টিভ স্মিথের মধ্যে থাকা অসাধারণ প্রাণপ্রাচুর্যও অনেকখানি ভূমিকা রেখেছে এত দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার মত দলের টেস্ট সাইডের নেতৃত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে।

ফিল্ডিংটাও দারুন স্টিভ স্মিথের
ফিল্ডিংটাও দারুন স্টিভ স্মিথের

স্মিথ দারুন সৌভাগ্যবান । বয়স এখন ২৫ ! দারুন ফর্মে আছেন আর এমন সময়েই পেয়ে গেলেন নিজের মাটিতে বিশ্বকাপ । সুযোগটা তাই ভালোভাবেই পাচ্ছেন হল অফ ফেইমে নিজের নামটা লিখিয়ে ফেলার ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × 1 =