এখন যৌবন যারঃ কেইন উইলিয়ামসন

পুরো নামঃ কেইন স্টুয়ার্ট উইলিয়ামসন
(ডানহাতি ব্যাটসম্যান, ডানহাতি অফব্রেক বোলার)
বয়সঃ ২৪ বছর ১৮১ দিন
ওডিআই ক্যারিয়ার
৬৫ ম্যাচ
ব্যাটিং ৬০ ইনিংস – ২৪৫২ রান – গড় ৪৬.২৬ – সর্বোচ্চ স্কোর ১৪৬*
বোলিং ৪০ ইনিংস – ২৪ উইকেট – ইকোনোমি ৫.৫৬ – সেরা বোলিং ৪/২২

কেইন উইলিয়ামসনের চোখ জুড়ানো ব্যাটিং
কেইন উইলিয়ামসনের চোখ জুড়ানো ব্যাটিং

আমাদের মত উপমহাদেশীয় ক্রিকেট ফলোয়ারদের কাছে কেইন উইলিয়ামসনের আসল পরিচয় হলো, দলের বাকিদের চাইতে স্পিনটা বেশ ভালো সামলান । ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা কিংবা বাংলাদেশের সাথে নিউজিল্যান্ডের স্লো উইকেটে খেলা হলে তাই নিউজিল্যান্ডের মূল ভরসা হয়ে দাঁড়ান এই কেইন উইলিয়ামস । এবং ব্যাপারটা যে নিছকই গালকথা নয়, তাও উইলিয়ামসন প্রমাণ করেছেন ক্যারিয়ারের একদম সূচনা থেকেই। ভারতের অভিষেক টেস্টেই শতক হাঁকান আহমেদাবাদে । আর অভিষেক ওয়ানডে সেঞ্চুরি? সেটাও এসেছে এই সাবকন্টিনেন্টেই । বাংলাদেশের বিপক্ষে ঢাকায় । তার জন্য ক্যারিয়ারে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪টি ওয়ানডে ম্যাচ ।
কেইনকে বলা হত নিউজিল্যান্ডের মাইকেল ক্লার্ক । তাদের দুজনের মিল অনেক দিক দিয়েই । দুজনের সবচাইতে বড় মিলটা খুব সম্ভবত বাহারি সব স্ট্রোক খেলায় । শ্রমিকসুলভ ব্যাটিং নয়, বরং ক্রিকেট সৌন্দর্যের পুজারি দুজনেই । ক্লার্ককে তার অসাধারণ ক্রিকেট সেন্স আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য বলা হত রিকি পন্টিং আর শেন ওয়ার্নের প্রজন্মের পরে অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যত নেতা । ২০০৮ সালে মালেশিয়ায় অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ায় কেইন উইলিয়ামসনকেও ভাবা হত নিউজিল্যান্ডের ভবিষ্যতের কান্ডারি ।

অধিনায়কত্ব করেছেন বয়সভিত্তিক দল থেকেই
অধিনায়কত্ব করেছেন বয়সভিত্তিক দল থেকেই

ম্যাককুলাম, গাপটিল, রস টেলর আর কেইন উইলিয়ামসনের ব্ল্যাকক্যাপ্স টপ অর্ডারে উইলিয়ামসনের কাজ তার ধ্রুপদী স্ট্রোকে স্থিতি এনে দেওয়া । অভিজ্ঞ রস টেলর আর ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ভালোবাসেন দ্রুত রান তুলতে । সেদিক থেকে কেইন উইলিয়ামসনের মূল দ্বায়িত্ব হলো প্রথমে দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে নিশ্চিত করা যে, ব্যাটিং লাইনআপের লেজটা যাতে খুব দ্রুত বেরিয়ে না যায় । আবার দল ভালো সূচনা পেলে উইকেটের চারপাশে স্ট্রোক খেলে প্রতিপক্ষের বোলিং লাইনের অবশিষ্ট মনোবলটুকু একদম চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেওয়াতেও সিদ্ধহস্ত কেইন উইলিয়ামসন । পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের ব্যাটিংটাকে ভালোভাবে একদম পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়াটাই কেইন উইলিয়ামসনের সবচাইতে বড় স্পেশ্যালিটি ।

টেলর আর উইলিয়ামসনের যেকোন একজনই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন
টেলর আর উইলিয়ামসনের যেকোন একজনই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন

২০১১তে উপমহাদেশে বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড দলে ছিলেন । খেলেছিলেন সর্বসাকুল্যে ৪টি ম্যাচ । তাতে ছিলো প্রোটিয়াদের বিপক্ষে অপরাজিত ৩৮ রানের এক ইনিংস। তবে অনেক বড় কিছু করার যে পদক্ষেপ কেইন উইলিয়ামসন ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিয়েছিলেন, তাতে উজ্জ্বল রঙ ছড়াতে শুরু করলেন নিজের দেশে পাখা মেলতে যাওয়া বিশ্বকাপের মাস কয়েক আগে থেকে । আর তাতে আবার এশিয়ান দেশগুলো । ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগের দুই মাসে কেইন উইলিয়ামসন করে ফেললেন তিন তিনটি ওয়ানডে সেঞ্চুরি । দুটো পাকিস্তানের বিপক্ষে আর একটি শ্রীলংকার বিপক্ষে । শ্রীলংকার সাথে ছিলো একটি ৯৭ রানের ইনিংসও । বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আবারো পাচ্ছেন শ্রীলংকাকে । আর অভিষেক ওয়ানডে সেঞ্চুরিতেও পরাজিত দলে থাকার দগদগে পুরোনো জ্বালা জুড়ানোর সুযোগটা পাচ্ছেন বাংলাদেশকে পেয়েও ।

জাত চিনিয়েছিলেন ২০১১ বিশ্বকাপেই
জাত চিনিয়েছিলেন ২০১১ বিশ্বকাপেই

চব্বিশে পা রাখলেও মুখাবয়ব থেকে এখনো কৈশোরটা বিলীন হয় নি কেইন উইলিয়ামসের । নিউজিল্যান্ড এর আগে যখন বিশ্বকাপে স্বাগতিক হয়েছিল, তখন কেইন উইলিয়ামসনের বয়স ২ বছর । নিউজিল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ায় সেই বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত রান সংগ্রাহকের তালিকার চূড়ায় থেকে স্মরণীয় করে রেখেছিলেন উইলিয়ামসনেরই স্বদেশি মার্টিন ক্রো । নিজের দেশের বিশ্বকাপটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চেষ্টার ত্রুটি যে কেইন উইলিয়ামসনও রাখবেন না তা বলা যায় হলফ করেই । তবে চ্যালেঞ্জটা বিশাল ! তবে বিশ্বকাপের আগের হোম সিরিজগুলোর পারফরম্যান্স দিয়ে কিউইরা দেখিয়ে দিয়েছে তারাও প্রস্তুত । আর কেইন উইলিয়ামসন প্রতি ম্যাচেই দেখিয়ে দিচ্ছেন তিনিও প্রস্তুত ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

16 + eight =