এখন তো সমান সমান

৯৯ তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলে ফেললো । আর তার চার পাঁচ বছর পরে দেশে ডিশের লাইন ঢাকা থেকে আস্তে আস্তে ছড়াতে শুরু করলো । দুইয়ে মিলিয়ে আমরা ক্রিকেটের জাতি হয়ে যাই আসলে নতুন শতাব্দীর প্রথম ভাগেই । আর আমরা ক্রিকেট খেলা দেখা যখন শুরু করি , তখন থেকেই পন্টিং এর হাত ধরে অজিদের সোনালি প্রজন্মের উত্থান দেখেছি আস্তে আস্তে । ৯৯ এর বিশ্বকাপটা অস্ট্রেলিয়া ডমিনেশন করে জিততে পারে নাই । ২০০৩ বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়া জিতেছে বিশ্বকাপের আগে ওয়ার্নিকে হারিয়ে ফেলার পরেই । একদম আগাগোড়া সব ম্যাচ জিতেই মুকুট পড়েছে অজিরা । ২০০৭ এর বিশ্বকাপটাও একইভাবে । মাঝের চারটে বছর শুধু ওদেরই গল্প । এই সময়টায় অজিরা নতুন যাদের খেলাত , তারাও পন্টিং আর ম্যাকগ্রাদের ছায়াতে কেমনে জানি অনেক ভালো খেলে ফেলত । জনসন কিংবা ওয়াটসন যখন যে খেলেছে , সে-ই ম্যাচ উইনার হয়েছে । তখন এদের দেখে লাগত , অজিদের ফিউচারও তো অনেক ভালো । এরা কবে হারতে শুরু করবে ?

২০০৫ এর এশেজে দর্পপতন দেখেছি , ২০০৭ এর বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডের সাথে একটা ওয়ানডে সিরিজ খুব সম্ভব অস্ট্রেলিয়ানরা বেশ ভালোভাবেই হেরে যায় । সেটা অবশ্য নিউজিল্যান্ডে । আর সেই সিরিজের ক্যাপ্টেন ছিলেন খুব সম্ভবত মাইকেল হাসি । যাই হোক , আজ ২০০৭ বিশ্বকাপের ঠিক ৮ বছর পরে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া ঠিক কোন জায়গায় আছে ? টেস্ট দলটায় ডেপথের যে অভাব আছে , সেটা তো এশেজেই প্রমাণ হয়ে গেলো । মিডল অর্ডারে স্টিভ স্মিথ ছাড়া তেমনভাবে ম্যাচ উইনার কোথায় ?? এডাম ভোজেসকে দিয়ে অজিরা চমক দিতে চেয়েছিলো , কিন্তু তা যুদ্ধের ময়দানে ধোপে টিকলো কোথায় ?? ক্রিস রজার্স কিছুদিন সার্ভ করে গেলেন দলকে । কিন্তু বয়সটা একটু বেশিই ছিলো ক্রিসের । অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের ব্যাটিং এর সমস্যাটা কমন । গেল কয়েক বছরে যারা এসেছে , তাদের কেউই অনেকদিন সার্ভিস দেবার বার্তাটা নিয়ে আসেন নাই । কেই ভালো খেলতে খেলতে বয়স পেরিইয়ে গেছে , আবার কেউ কেউ ফর্ম হারিয়ে ফেলেছে খুব জলদি ।

টেস্ট দলটার যে সমস্যাটা আছে , সেটা আবার লিমিটেড ওভারের দলটার নেই । মিডল অর্ডার মোটামুটি স্ট্যাবল এবং বেইলি ছাড়া বাকিরা ভালো সার্ভিস দেবার ক্ষমতা রাখেন । ম্যাক্সওয়েল-মিচেল মার্শ-ওয়াট্টোরা আছে , সাথে স্টিভ স্মিথ তো আছেই । ডেভিড ওয়ার্নার আর ফিঞ্চ ডেস্ট্রাক্টিভ । সে জন্যেই সব মিলিয়ে হোমে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপটা জিতে ফেলতে খুব একটা কষ্ট অজিদের হয় নাই । এত ভালো ব্যাটিং লাইনটা ব্যাক আপ পেয়েছে স্টার্ক – কামিন্স আর কৌল্টার নাইলদের পেইস ব্যাটারির কাছ থেকে । জশ হ্যাজলওড অস্ট্রেলিয়ার সব ফরম্যাটে অনেক দিনের বড় ভরসা হয়ে থাকবে সবকিছু ঠিক থাকলে ।

সব মিলিয়ে , স্টিভ স্মিথ যে ওয়ানডে দলটা পাচ্ছেন , সেটা দক্ষিণ আফ্রিকার চাইতে একটু দুর্বল । কিন্তু বাকিদের চাইতে কম না ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty − 19 =