এক ‘গ্রেট’ ক্যারেক্টারের কথা

নিজের প্রথম দুই টেস্টেই সেঞ্চুরি করা গ্রেগ ব্লিউয়েটের জন্মদিন আজ। জন্মদিন অ্যাডাম ব্যাখারের। দারুণ সম্ভাবনা নিয়েও যাদের ক্যারিয়ার থেকে গেছে অপূর্ণ। ম্যাথু হেইডেন, মাইকেল ভনের জন্মদিন আজ। হেইডেনের আগ্রাসন, দাপুটে ও মেজাজি ব্যাটিং, ভনের আভিজাত্যমাখা পুল, স্কয়ার ও কাভার ড্রাইভ, আহ…!

উইফ্রেড রোডসের জন্মদিন আজ। প্রায় ৪০ হাজার ফার্স্ট ক্লাস রান, ৪২০৪ উইকেট। ইয়র্কশায়ার ক্রিকেটের প্রতীক, সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। তাঁর গল্প লিখেছি আগে।

আজ আরেকজনের গল্প করব। ক্রিকেটার হিসেবে গ্রেট তো নয়ই, টেনেটুনেও ‘খুব ভালো’ বলা যায় না। গড়পড়তা ক্রিকেটার, কিন্তু গ্রেট ক্যারেকটার!

১৯৬৯ সালের আজকের দিনে স্কটল্যান্ডের স্টার্লিংয়ে জন্ম। ছেলেবেলা থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, রাগবি সব খেলেছেন। স্কটল্যান্ডে অনুর্ধ্ব-১৮ ফুটবলের জাতীয় পর্যায়ে খেলেছেন, ফুলব্যাক হিসেবে চুটিয়ে খেলছেন তখন ফেল্টহাম রাগবি ক্লাবেও। তবে কিছুদিন পর থেকে শুধুই ক্রিকেট! ১৯৯২ সালে স্কটল্যান্ডের হয়ে ওয়ারউইকশায়ারের এক ম্যাচে নজর কাড়লেন কাউন্টি ক্লাবটির কর্তাদের। সেই বছরই চুক্তি, কাউন্টি অভিষেক। পুরো ক্যারিয়ার খেলেছেন এক কাউন্টিতেই। টিপিক্যাল ইংলিশ অলরাউন্ডার। সুইং বোলার আর মাঝারি মানের ব্যাটসম্যান। ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিয়ারে ৮৫১১ রান ও ৫৬৭ উইকেট।

মাঝে চার মাসের জন্য পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ। ১৯৯৭ সালে ওয়ানডেতে ভিন্ন অধিনায়ক ও প্রায় পুরো আলাদা দল গড়ে বিপ্লব করেছিল ইংল্যান্ড। অ্যাডাম হলিওকের সেই দলের হয়ে ডিসেম্বরে ওয়ানডে অভিষেক আজকের আলোচিত এই চরিত্রের। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ওভারেই নিয়েছিলেন ফিলো ওয়ালেস ও ব্রায়ান লারার উইকেট। পরে বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও গেলেন। সব মিলিয়ে ৯ ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়ার পর ইংল্যান্ড ক্যারিয়ারের সমাপ্তি।

৮ বছর পর তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পুনরুজ্জীবিত হলো জন্মভূমির হয়ে। এই দফায় স্কটল্যান্ডের হয়ে ১৬ ওয়ানডে খেলে ১৫ উইকেট, ফিফটিও করলেন একটি। যে তাড়নায় আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরা, সেই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নও পূরণ হলো ২০০৭ সালে স্কটল্যান্ডের হয়ে। ওই বছরই ক্যারিয়ারের শেষ।

এবং অনেক কিছুর শুরু। প্রথমে ইংল্যান্ডের প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান। আইপিএলে বিরুদ্ধে জোড়ালো কণ্ঠ তুলে আলোড়নও তুললেন খানিকটা। কদিনের মধ্যে ওয়াউইকশায়ারের একাডেমির প্রধান। পরের বছর ওয়ারউইকশায়ারের সহকারি কোচ। ২০১৩ সালে অ্যাশলি জাইলস ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার পর তিনি হলেন ওয়ারউইকশায়ারের প্রধান কোচ। আছেন এখনও, পেয়েছেন বেশ কিছু সাফল্যও। ও হ্যাঁ, বিবিসির ক্রিকেট পন্ডিত হিসেবে নাম কামিয়েছেন বেশ আগে থেকেই। ‘টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল-এর জনপ্রিয় বিশ্লেষক তিনি। জায়গা পেয়েছেন স্কটিশ ক্রিকেটের হল অব ফেমে।

BASSETERRE, ST KITTS AND NEVIS - MARCH 14:  Dougie Brown of Scotland during the ICC Cricket World Cup 2007 Group A match between Australia and Scotland at Warner Park on March 14, 2007 in Basseterre, St Kitts and Nevis.  (Photo by Shaun Botterill/Getty Images)

যথেষ্ট ইন্টারেস্টিং। তাঁকে নিয়ে লেখাই যায়। দুটি দেশের হয়ে ওয়ানডে খেলা মাত্র ৯ ক্রিকেটারের একজন তিনি, এটাও খেলার কারণ হতে পারে। তবে আসল কারণ এসবও নয়, সেটি আরও বিস্ময় জাগানিয়া। ২০০৭ সালে বিশ্বকাপ খেলেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ২০০৩ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন নামিবিয়ার কোচ! আগে কোচ হিসেবে গিয়েছেন বিশ্বকাপে, ৪ বছর পর গিয়েছেন ক্রিকেটার হিসেবে খেলতে!

প্রথমে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে, পরেরবার খেলোয়াড় হিসেবে…আমার ধারণা বিশ্বের কোনো খেলাতেই এই নজীর আর দ্বিতীয়টি নেই!

শুভ জন্মদিন, ডুগি ব্রাউন!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 + 9 =