একি অবস্থা দাদা!

কেরালা। ভ্রমণ বিলাসী মানুষ এটাকে বলে স্বর্গরাজ্য। ঢাকা শহরে মোটামুটি এবং ঢাকার বাইরে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা হলেও স্বর্গরাজ্য কেরালায় এখন গরমকাল। পর্যটন মৌসুম। এখানে এবারের সাফ ফুটবল হবে শুনে প্রথমে খুশি হলেও এখন এদের লেজে গোবরে অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ভুটানকে দিলেও এর থেকে ১০০ গুণ ভালো আয়োজন করতে পারতো। একি অবস্থা দাদা!

নো সিত- ঠিক এই কথাটাই এখন ওখানকার হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কের লাস্যময়ী অফিসারদের মুখে মুখে। আর এই সময়েই কিনা আফগানরা এসেছে ৪১ জন! আসার কথা ছিল ত্রিশ জন। টাকার গরম দেখিয়ে ওরা বাকিদের জন্য টাকা খরচ করে রুম নিয়েছে। ভালো কথা, কিন্তু এর জন্য অন্যদের বিরাট সমস্যা হয়েছে কারণ এটা পর্যটনের মৌসুম, রুম পাওয়াই কঠিন। কোচরা গতকাল এটা নিয়ে বেশ উচ্চকিত ছিলেন, কিন্তু যারা আয়োজক, তাদের আসলে ইচ্ছা নেই এগুলো ঠিক করার। খেলোয়াড়রা অনুশীলনের জন্য মাঠ পাচ্ছেন না! শক্ত মাঠে ইনজুরি হতে পারে জেনেও যেন ভ্রুক্ষেপ নেই কারও! প্রশ্ন উঠছে সাফকে নিয়ে, আয়োজন তাদের, অথচ তারা টাকা দিয়েছেন ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে! দিয়ে নিজেরা অসহায়ের মতো তাকিয়ে আছেন। কেরালা ফুটবল সংস্থার সাথে সর্বভারতীয় সংস্থার বিরোধের ফল নাকি এগুলো।
যাক, এবার নিজের দেশের কথায় আসি। ২০০৩ সালে সর্বশেষ সাফ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার দেশি কোচ মারুফের হাত ধরে মাত্র ১৮ দিনের অনুশীলনের পর ভারত গেছেন মামুনুল বাহিনী। অন্যরা এসেছে ৩-৪ মাসের ক্যাম্প করে। আফগানিস্তান আর মালদ্বীপ দুটোই শক্তিশালী দল। এদের হারাতে ইতালিয়ান স্টাইলের খেলা খেলতে হবে। তাই বলে লোপেজ মার্কা নয়! যে খেল দেখালেন এই ইতালিয়ান, বাপরে বাপ! কয় দিনে একেবারে হুলুস্থুল অবস্থা। মামুনুলের জায়গা বদলানো, স্ট্রাইকারকে ডিফেন্ডার বানিয়ে দেওয়া, এসব ভেল্কি থেকে রেহাই পেতেই মারুফের শরণ নিয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। মারুফ সময় কম পাচ্ছেন, কিন্তু হাত দিয়েছেন একদম ঠিক জায়গায়- মনোবল বাড়িয়ে দিতে চান তিনি। মনের বাঘে যে এই দলকে কিভাবে খায় সেটা বোঝা যায় জর্ডান, তাজিকিস্তানের বিপক্ষে ম্যচ দেখলে। শেষ মিনিটে গোল খাওয়ার অভ্যাসটা দূর করতেই হবে কিন্তু। এমিলিকে নয়া পাওয়া আমার কাছে একটা সুবিধা, কারণ সে নামের ভারে দলে থেকে দিনকে দিন লুল বাবা হয়ে যাচ্ছিলো। নবীন স্ট্রাইকার জীবন আর রনির উপর এবার গুরুদায়িত্ব। খেলাটা তৈরি হবে মাঝমাঠ থেকে, সেখানে কাণ্ডারি মামুনুল, তবে জামালের নয়া থাকাটা একটা বড় ধাক্কা দেবে আমাদের, প্রথম ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না।

২০০৩ সালে যেভাবে রজনী কোটানের হাতে কাপ রেখে উল্লাসে মেতেছিল বাংলাদেশ, তেমনি আশার বেলুন কিন্তু এবারো ফোলানো হয়েছে, ফেটে যাবে কিনা, সেটা বলবে সময়। তবে কাজটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। দেশের ফুটবলের জন্য দরকারি খুব করে এই সাফল্যটা। আশা করতে দোষ কি!
হারার আগে হার নয়!
হবে এবার সাফ জয়!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty − 5 =