একদিকে গৌরব, অন্যদিকে লজ্জা

কিরগিস্তান কে ১০ গোল দিয়েছে আমাদের মেয়েরা। আবারো দেখা গেছে ৯০ মিনিট এক তালে প্রেসিং, গতি, পায়ের কারুকাজে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা এবং শেষ ১০-১৫ মিনিটে অনেক গুলো গোল করা। এই ম্যাচে বোনাস হিসেবে এসেছে দুর্দান্ত একটি ফ্রি কিকে সরাসরি গোল আর অধিনায়ক কৃষ্ণার উইং থেকে টপ কর্নারে মারা অসাধারণ আরেকটি গোল। এটা যদি হয় গৌরবের কথা, তাহলে লজ্জার কথাও আছে তবে সেটি আবারো আমাদের বীরপুরুষ ফুটবলারদের কল্যাণে! যে মালদ্বীপকে এক সময় আট গোল দিয়েছি আমরা হেসেখেলে, তারাই এখন আমাদের পাঁচ গোলে হারায়! ভাবা যায়! অবশ্য লজ্জার দিক থেকে অসম্ভবকে সম্ভব করাই আমাদের পুরুষ ফুটবলারদের কাজ, এখানে অনন্ত জলিল ফেল!

প্রথম ম্যাচ থেকেই এই মেয়েদের ফিটনেস মুগ্ধ করার মতো, বলেছিলাম পুরুষ দল হাফ টাইমের পর খোলসে ঢুকে পড়ে আর এই মেয়েরা হয় দুর্দান্ত। আমাদের বীরপুরুষেরা সেই কথাকে সত্যি প্রমাণ করতেই কিনা, দ্বিতীয়ার্ধে এক হালি গোল হজম করে হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়লেন। মালদ্বীপ নিলো মধুর প্রতিশোধ! টম সেন্টফিট তার দলের খেলোয়াড়দের ফিট করতে পারেননি, এই ম্যাচ তার দুঃস্বপ্নে হানা দিতে পারে অনেকদিন। তবে সামনে ভুটান ম্যাচ, ঐদিন এরা তাকে কাঁদতে বাধ্য করবে কিনা, সেটা আল্লাহই জানেন!

মেয়েদের দলের সমন্বয়, জেতার ইচ্ছা যতটাই বেশি, আমাদের বীরপুরুষদের ততই কম! তারা যেন হারার আগেই হেরে বসে থাকেন! কোন ইচ্ছা, চেষ্টা কিচ্ছুর বালাই নেই। অধিনায়ক মামুনুলের সব থেকে বড় ব্যর্থতা বলা হবে দলের স্পিরিট বাড়াতে না পারা, একটি দল হয়ে কখনোই খেলতে না পারা।

দয়া করে এই মেয়েদের দেখে কিছু শিখুন, প্লিজ! না হলে তো মনে হচ্ছে ভুটানের কাছে হেরেও আপনারা হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়বেন! এভাবে হয়না, এটা স্রেফ অর্থের অপচয়! কবে যে আমাদের বীরপুরুষেরা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাটা বুঝবেন?!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two × one =