এই না হলে সেমিফাইনাল ?

ক্রিকিনফো

বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান আর শ্রীলংকা… আমাদের এ জায়গাটাকে বলা হয় সারা দুনিয়ায় ক্রিকেটের সবচাইতে ভালো বাজার । একটা সেমিতে ভারত আর অস্ট্রেলিয়া … আরেকটায় দক্ষিণ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ড । প্রথম সেমিফাইনালটা ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা আর স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের । এ উপমহাদেশে ১২৫ কোটি লোক যদি ক্রিকেটে ভারতের জয়টাকে খুব করে চায় , তাহলে এটাও মাথায় রাখুন ৩০ কোটি লোক এমনও আছে , যারা ভারতের হারটাকে ততোটাই গভীর করে চায় । সে হিসেবে যত উত্তেজনা তার পুরোটাই দখল করে নেবার কথা ২য় সেমিফাইনাল । তবে একটা কারণে এবার স্পেশাল ছিলো ১ম সেমিফাইনালটাও । একটা নতুন ফাইনালিস্ট ! তা সে দক্ষিণ আফ্রিকাই হোক , আর স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডই হোক ।

ভাগ্যের প্রথম খেলায় হাসি দক্ষিণ আফ্রিকার । টসে জিতে ব্যাটিং এ দক্ষিণ আফ্রিকা । শুরুটা তাদের হয় ভয় পাইয়ে দেবার মতো । চটজলদি ফিরে গেলেন দুই ওপেনার আমলা আর ডি কক । তারপর ফ্যাফের লড়াই । কখনো সাথে পেয়েছেন রুশোকে … আবার কখনো অন্যপাশে দাঁড়িয়ে চড়াও হতে দেখেছেন অধিনায়ক ভিলিয়ার্সকে । স্থিতিশীল ইনিংসের পরে পাওয়ারপ্লেটা পেয়ে একটু একটু খুলে খেলছিলেন ফ্যাফ । আর অন্যপাশে এসে বেশ ভালোভাবেই তার কাজ শুরু করে দিয়েছেন এবি । সাড়ে তিনশো খুবই দৃষ্টিসীমার মধ্যে ।

৩৮ ওভারে ২১৬/৩ … ক্রিজে ফ্যাফ আর ডি ভিলিয়ার্স … ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটে বল লাগছে বেশ সুন্দরমতোই ।

কিন্তু ভাগ্যের কাছেই যে অনেকটা পিছিয়ে ছিলো প্রোটিয়ারা । নিউজিল্যান্ডের আকাশ পক্ষ দিলো নিউজিল্যান্ডেরই । অনেকক্ষণ খেলা বন্ধ রইল বৃষ্টিতে । আবার শুরু হবার পরে খেলা কেটে ছোট হলো ৪৩ ওভারের ম্যাচে । পরের ৫টি ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা করেছে তাদের দিক থেকে সবটুকুই । ৫টি ওভারে রান এসেছে ৬,১৭,২০,৭,১৫ । ৩০ বল ৬৫ রান । মিলার করে গেলেন ১৮ বলে ৪৯ আর এবি অপরাজিত থাকলেন ৪৫ বলে ৬৫ রান ।

ক্রিকিনফো
আরো বড় হতে পারত এবির ইনিংস

২৮১/৫ … (৪৩ ওভার ) ডি/এলে নিউজিল্যান্ডের ৪৩ ওভারে লক্ষ্যটা একটু বড় হয়ে গেলো । ২৯৮ রানের টার্গেট পেলো কিউইরা ।

ম্যাককুলাম শুরু করলেন তার স্বাভাবিক মেজাজের চাইতেও কড়া মেজাজে । লম্বা রাস্তা পাড়ি দিতে শুরুটা যেমন হওয়া দরকার ছিলো । ৭ম ওভারের প্রথম বলে আউট হবার আগেই দলকে এগিয়ে দিয়ে গেছেন অনেকটা । দলের বোর্ডে তখন রান ৭১ … ওখান থেকে বাকিদের কাজটা ছিলো অন্তত দুটো ভালো ইনিংস বের করা । ম্যাকের ২৬ বলে ৫৯ এর পরে যেন ছোটখাট এক মড়ক লাগলো ইনিংসে । রানরেট কমে গেলো । ম্যাককুলামকে যতোটা ভালো মনে হচ্ছিলো , বাকিদেরকে মনে হচ্ছিলো ঠিক ততোটাই চাপগ্রস্থ । ৭১/১ থেকে ১৪৯/৪ । ম্যাককুলামের পরে একে একে নেই কেইন, গাপটিল, টেলর । ততক্ষণে রিকোয়ার্ড রেটটা আবার এসে গেছে স্বাগতিকদের ভয় ধরিয়ে দেবার মতো জায়গায় ।

ক্রিকিনফো
ম্যাককুলাম যাবার পরে ধসের গল্প

নেহাত মন্দভাগ্য প্রোটিয়াদের । তা না হলে ইলিয়ট কেন জীবনের সেরা ইনিংসটা খেলে দেবেন ? সাথে প্রথম বিশ্বকাপটাই রাঙিয়ে দেবার স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকা কোরি এন্ডারসনও জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচে দিয়ে দিলেন নিজের পুরোটা । দুজনের ৯৮ বলে ১০৩ রানের পার্টনারশিপ রানের গতিকে ফেরালো একদম ঠিকঠাক গতিতে ।

কোরি এন্ডারসন ফিরে গেলে উত্তেজনা ফেরে ম্যাচে । তখনো ৩০ বলে ৪৬ রান দরকার কিউইদের । ইলিয়ট মারছিলেন … তবে স্টেইনের দারুন ৪১ নাম্বার ওভারটি ভাবনায় ফেলে দেয় স্বাগতিকদের । মাত্র ৬ রান দেওয়াতে হিসেবটা দাঁড়ায় ১২ বলে ২৩ রানের । কিন্তু শেষ রক্ষে আর হলো না । মর্কেল আর স্টেইনের করা শেষ দুটো ওভার থেকে দরকারটুকু ঠিক মতোই তুলে নিলেন ইলিয়ট । আর স্টেইনের করা ৪৩ তম ওভারের ৫ নম্বর বলটায় মেরে দিলেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ছক্কা ।

ক্রিকিনফো
দিনটি ইলিয়টের

ম্যাচ জেতানো ইনিংসের সুবাদে এই অবিস্মরণীয় ম্যাচের সেরা ইলিয়ট ।

ক্রিকিনফো
আরো বড় হলো হতাশা-উপাখ্যান

দুর্ভাগ্য ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকার ! সাহসিকতা ছিলো নিউজিল্যান্ডের । দোলাচল ছিলো ! পতন ছিলো ! সেখান থেকে উত্তরণ ছিলো ! এই না হলে সেমিফাইনাল !!!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

five × 5 =