এই ইউরোর নতুন তারকারা

প্রত্যেকটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টই বিশেষত খেলোয়াড়দের নিজেদেরকে তুলে ধরার মঞ্চ। এখানে অনেক গ্রেট খেলোয়াড় যেমন নিজেদের লেগ্যাসিটা যে ফ্লুক নয় সেটা প্রমাণ করার জন্য, নিজেদের নামটাকে ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল করে লিখানোর জন্য মুখিয়ে থাকেন, তেমন অনেক ফ্লপ প্লেয়ারদেরকেও দেখা যায় কোন এক বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে গা ঝাড়া দিয়ে আবার ফিনিক্স পাখির মত উঠে দাঁড়াতে। আবার অনেক নাম না জানা খেলোয়াড়রাও যেকোন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকেই বেছে নেন বিশ্বমঞ্চে নিজেদেরকে প্রমাণ করার সুযোগ হিসেবে। ফলে দেখা যায় টুর্নামেন্ট শেষ হবার পর সেসব তথাকথিত নাম না জানা খেলোয়াড়দের নিয়েই বড়সড় ক্লাবগুলার কাড়াকাড়ি লেগে যায়। ২০০৬ বিশ্বকাপের কথাই ধরা যাক। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ইংলিশ দলের নজরকাড়া পারফর্মার বলতে সেবার ছিলেন তৎকালীন বায়ার্ন মিউনিখ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ওয়েইন হারগ্রিভস। টুর্নামেন্ট শেষে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিনে নেয় তাঁকে। ২০১০ বিশ্বকাপের পর ঘানার সুপারস্টার স্ট্রাইকার আসামোয়াহ জিয়ান কে কিনে নেয় ইংলিশ ক্লাব স্যান্ডারল্যান্ড, স্লোভাকিয়ার গোলরক্ষক ইয়ান মুচার জায়গা হয় এভারটনে।
২০১১ সালের কোপা আমেরিকার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় সেবাস্তিয়ান কোয়াতেসকে টুর্নামেন্ট শেষেই নাসিওনাল থেকে দলে ভেড়ায় লিভারপুল, আবার ২০১৩ কনফেডারেশানস কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার পাওলিনিওর জায়গা হয় করিন্থিয়ান্স থেকে টটেনহ্যাম হটস্পারে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স দেখে ত অনেক নাম না জানা তরুন খেলোয়াড়ই নতুন ক্লাবে নাম লেখাতে সমর্থ হন। টুর্নামেন্টের পর বসনিয়ান মিডফিল্ডার মোহামেদ বেসিচ ফেনারভার্কোস থেকে চলে আসেন এভারটনে, দুই দেশের দুই লেফটব্যাক (আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডস) মার্কোস রোহো ও ডেলেই ব্লিন্ড নাম লেখান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। কলম্বিয়া ও কোস্টারিকার হয়ে দুর্দান্ত খেলা দেখিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ঠিকানা বানান হামেস রড্রিগেজ ও কেইলর নাভাস, ইকুয়েডরিয়ান স্ট্রাইকার এনার ভ্যালেন্সিয়াকে কিনে নেয় ওয়েস্টহ্যাম। ২০১২ ইউরোর কথাই চিন্তা করুন। সেবার প্রথম ম্যাচে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডেনমার্কের স্পেইন-বধের নায়কের কথা মনে পড়ে? তার নাম ছিল মাইকেল ক্রন-ডেলি। সেই পারফরম্যান্স দেখেই কিনা, ড্যানিশ ক্লাব ব্রন্ডবি থেকে তাঁকে কিনে আনলো স্প্যানিশ ক্লাব সেল্টা ভিগো। চেক রাইটব্যাক থিওডোর জেব্রাসেলাসি পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানোর পুরষ্কার পেলেন ওয়ের্ডার ব্রেমেনে নাম লিখিয়ে, আরেক রাইটব্যাক পর্তুগালের হোয়াও পেরেইরাকে কিনে নিলো ভ্যালেন্সিয়া।
এভাবেই প্রত্যেকটা টুর্নামেন্ট মূলত এসব অপরিচিত খেলোয়াড়দের কাছে একটা বিরাট বড় সুযোগ হিসেবে আসে, বিশ্বের নামীদামী ক্লাবের কাছে নিজেদের প্রতিভাকে দেখানোর মঞ্চ হিসাবে আসে। ইউরো ২০১৬ বা ব্যতিক্রম হবে কেন? এর মধ্যেই অনেক তথাকথিত অপরিচিত খেলোয়াড়েরা নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন/দেখাচ্ছেন, তাদের নিয়ে এবারের দলবদলের জানালায় ফিসফিস শুরু হয়ে গিয়েছে বড় বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে। দেখে নেওয়া যাক কোন কোন তথাকথিত খেলোয়াড় নজর কাড়লেন এইবার, ইউরো ২০১৬ থেকেই কোন কোন খেলোয়াড়ের সুপারস্টারডমের শুরুটা হল!

বলে রাখা ভালো, এর মধ্যেই ইউরো ২০১৬ এর অনেক তারকা নিজেদের ক্লাব পরিবর্তন করে নামকরা ক্লাবে চলে এসেছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইতালিয়ান ক্লাব তোরিনোর পোলিশ সেন্টারব্যাক কামিল গ্লিক, আন্ডারলেখটের বেলজিয়ান রাইটব্যাক থমাস মিউনির ও ইউক্রেইনের উইঙ্গার অলেক্সান্দর জিনচেঙ্কো। গ্লিক চলে গেছেন ফরাসী ক্লাব মোনাকোতে, মিউনিরের স্থান হয়েছে ফরাসী চ্যাম্পিয়ন পিএসজিতে আর জিনচেঙ্কোকে কিনে নিয়েছে গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি। তাই সঙ্গত কারণেই তাঁদেরকে আর এই তালিকায় রাখছিনা –

  • মিলান বাদেলজ (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, ক্রোয়েশিয়া)

মডরিচ-কোভাচিচ-রাকিটিচ-পেরিসিচ-ব্রোজোভিচ ; তারকা ভরা ক্রোট মিডফিল্ডে এই নামটা একটু অচেনাই বলা চলে। গত বছরগুলোতে হ্যামবুর্গ ও ফিওরেন্টিনার মত ক্লাবগুলোতে খেলা এই মিডফিল্ডার এবারের ইউরোতে নিজের আগমনী বার্তা ঘোষণা করেছেন সাড়ম্বরেই। চার ট্যাকল, তিন ইন্টারসেপশান ও ৫০টা সফল পাস দিয়ে গ্রুপপর্বে ক্রোয়েশিয়ার স্পেইন-বধের পিছে তাঁর অবদানই ছিল সবচাইতে বেশী।

আগ্রহী ক্লাব – এসি মিলান, টটেনহ্যাম হটস্পার, এএস রোমা

মিলান বাদেলজ
মিলান বাদেলজ
  • বারতোশ কাপুস্তকা (লেফট উইঙ্গার, পোল্যান্ড)

পোলিশ এই উইঙ্গারের প্রতিভা সম্পর্কে পোল্যান্ডের বাইরে সেরকম কেউই জানত না। কিন্তু এবার নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার পর থেকেই বিশ্ব জেনে যায় ক্র্যাচোভিয়া ক্র্যাকোতে খেলা এই পোলিশ তরুণ সুপারস্টার সম্বন্ধে। সাধারণত বাম উইঙে খেলে স্বাচ্ছ্বন্দ্যবোধ করা কাপুস্তকা খেলতে পারেন সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও।

আগ্রহী ক্লাব – লেস্টার সিটি, সাউদাম্পটন

বারতোশ কাপুস্তকা
বারতোশ কাপুস্তকা
  • অ্যাডাম ন্যাগি (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, হাঙ্গেরি)

রাউন্ড অফ সিক্সটিনে বাদ পড়ে গেলেও এবার ইউরোতে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে অনেকেরই মন জয় করে নিয়েছে পুসকাস-ককসিস-হিদেকুটির উত্তরসূরিরা। আর সেই দুর্দান্ত ফুটবলের পিছনে তরুণ সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার অ্যাডাম ন্যাগির ভূমিকা অনেক বেশী। দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারের মাঝখানে বসে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক সহায়তা দেওয়া এই মিডফিল্ডারের স্ট্যামিনা প্রচুর, হাঙ্গেরির অনেক আক্রমণের শুরুটা হয়েছেও তাঁকে দিয়েই। হাঙ্গেরির ফেরেনভার্কোসে খেলা এই মিডফিল্ডারের জন্য এর মধ্যেই ১.২ মিলিয়ন পাউন্ডের অফার নাকচ হতে দেখেছে পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়ন বেনফিকা।

আগ্রহী ক্লাব – লিভারপুল, চেলসি, সাউদাম্পটন, অলিম্পিক মার্শেই, লেস্টার সিটি, বেনফিকা

অ্যাডাম ন্যাগি
অ্যাডাম ন্যাগি
  • দোমাগজ ভিদা (সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, ক্রোয়েশিয়া)

দেয়ান লভ্রেন না থাকায় ক্রোট ডিফেন্সে যে দুর্বলতা লক্ষ্য করাটা স্বাভাবিক ছিল ,সেটা সম্ভব হয়নি ডায়নামো কিয়েভে খেলা দোমাগজ ভিদা থাকার কারণে। তুলনামূলক পরিচিত সতীর্থ ভেদরান চরলুকার সাথে জুটি বেঁধে এবারের ইউরোতে একের পর এক চমৎকার পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। বল পায়ে পাস দিতে স্বচ্ছ্বন্দ এই ডিফেন্ডারের বাতাসে ভেসে আসা বল খেলতে পারার ক্ষমতাটাও লক্ষণীয়। খেলতে পারেন ফুলব্যাক হিসেবেও।

আগ্রহী ক্লাব – ফেনেরবাচে, এসি মিলান

দোমাগজ ভিদা
দোমাগজ ভিদা
  • ক্রিস গান্টার (সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, ওয়েলস)

এইবার ইউরোর সারপ্রাইজ প্যাকেজ বলতে যে দুটো টিমের কথা বোঝানো যাবে, তারা হল ওয়েলস আর আইসল্যান্ড। এর মধ্যে ওয়েলস ত আবার খেলে ফেলেছে সেমিফাইনালও। আর তাঁদেরকে সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়ার পেছনে সুপারস্টার গ্যারেথ বেল ছাড়াও আরও যাদের ভূমিকা রয়েছে তাদের মধ্যে ডিফেন্ডার ক্রিস গান্টারের নাম প্রথম দিকেই থাকবে। ইংলিশ ক্লাব রিডিংয়ে খেলা এই সেন্টারব্যাকের বাইআউট ক্লজ মাত্র এক মিলিয়ন পাউন্ড হওয়ায় অনেক ক্লাবই তাঁর উপর আগ্রহী, যাদের ডিফেন্সে সমস্যা।

আগ্রহী ক্লাব – সোয়ানসি সিটি, সেল্টিক

ক্রিস গান্টার
ক্রিস গান্টার
  • হাল রবসন-কানু (উইঙ্গার, ওয়েলস)

অথচ পরবর্তী মৌসুমে তাঁর ক্লাব নিয়ে চিন্তা করার কথা ছিল যে কোন ক্লাবে খেলবেন! রিডিংয়ের সাথে চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ায় পর বর্তমানে ফ্রি এজেন্ট হাল রবসন-কানু দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ‘ক্রুইফ-টার্নের’ মাধ্যমে দুর্দান্ত এক গোল করে। এবং তাতেই এখন নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করে দিয়েছে অনেক ক্লাব, তুলনামূলক সবসময়েই স্পটলাইটের বাইরে থাকা এই প্রতিভাবান উইঙ্গারকে নিয়ে।

হাল রবসন-কানু
হাল রবসন-কানু

আগ্রহী ক্লাব – এভারটন, সোয়ানসি সিটি, হাল সিটি

  • লাজলো ক্লাইনহাইসলার (মিডফিল্ডার, হাঙ্গেরি)

এই ইউরোতে হাঙ্গেরির আরেক নায়ক। খেলেন ওয়ের্ডার ব্রেমেনের হয়ে। স্ট্রাইকারের পেছনে খেলতে পছন্দ করা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের প্রতিভা সম্বন্ধে সবাই জানতে পারে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে, স্ট্রাইকার অ্যাডাম শালাইকে কে দিয়ে দুর্দান্ত গোল করানোর পর।

আগ্রহী ক্লাব – শালকে ০৪, স্পোর্টিং লিসবন, সাউদাম্পটন

লাজলো ক্লাইনহাইসলার
লাজলো ক্লাইনহাইসলার
  • র‍্যাগনার সিগুর্ডসন (সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, আইসল্যান্ড)

এবারের ইউরোতে আইসল্যান্ড রুপকথার আরেক নায়ক। রাশিয়ান ক্লাব এফসি ক্রাসনোদারের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার নিজের কাজ করার পাশাপাশি গোল করেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও, যেটা ইংলিশদের টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দেয়। তাঁর আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে আটকিয়ে পর্তুগালের সাথে দুর্দান্ত এক ড্রও এনে দেন তিনি।

র‍্যাগনার সিগুর্ডসন
র‍্যাগনার সিগুর্ডসন

আগ্রহী ক্লাব – লেস্টার সিটি, ওয়াটফোর্ড, টটেনহ্যাম হটস্পার, লিভারপুল, এভারটন, মিডলসব্রো

  • মাইকেল ম্যাকগোভার্ন (গোলরক্ষক, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড)

জার্মানি, স্লোভাকিয়া, পোল্যান্ডের সাথে একই গ্রুপে পড়ার পর যেখানে ইউরোর প্রথম রাউন্ড থেকেই নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিদায় নেওয়ার কথা, সেখানে গ্রুপপর্বে মাত্র দুই গোল খেয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠা নর্দার্ন আইরিশদের ডিফেন্সিভ এই সাফল্যের পিছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল গোলরক্ষক মাইকেল ম্যাকগোভার্নের। জার্মানির বিপক্ষে ষোল-ষোলটি সেইভ করা এই গোলরক্ষকের বর্তমানে ক্লাব নেই কোন, ফ্রি এজেন্ট।

আগ্রহী ক্লাব – সাউদাম্পটন, রেঞ্জার্স, নরউইচ সিটি, ব্রিস্টল সিটি

মাইকেল ম্যাকগোভার্ন
মাইকেল ম্যাকগোভার্ন
  • জোনাস হেক্টর (লেফটব্যাক, জার্মানি)

এই ইউরোর আগে থেকেই জোনাস হেক্টরের প্রতি আগ্রহী ছিল লিভারপুল। কেন আগ্রহী, সেটা এবারের ইউরোতে মোটামুটি ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন এফসি কোলনের এই লেফটব্যাক। ইউরোতে প্রতিটা ম্যাচ শুরু করা হেক্টরের উপরে ইতালির বিপক্ষে পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভরসা রেখেছিল জার্মানরা, যেই পেনাল্টি স্কোর করে ইতালিকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেন তিনি।

জোনাস হেক্টর
জোনাস হেক্টর

আগ্রহী ক্লাব – লিভারপুল, আর্সেনাল, টটেনহ্যাম হটস্পার

  • মার্কো পিয়াকা (উইঙ্গার, ক্রোয়েশিয়া)

ডায়নামো জাগ্রেবের এই তরুণ উইঙ্গার এই ইউরোতে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে দেখিয়েছেন তাঁর ঝলক। চূড়ান্ত টেকনিক্যাল ও ক্ষিপ্র এই উইঙ্গার এই ইউরোতে স্পেইনের বিপক্ষে সাত-সাতটি ড্রিবল করে দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁকে নিয়ে মাতামাতিটা নিতান্তই অমূলক নয়। পিয়াকার আরেকটা সুবিধা তাঁর শারীরিক গড়ন। টেকনিক্যাল উইঙ্গাররা সাধারণত একহারা গড়নের হলেও ছয় ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার শক্তিশালী পিয়াকার উপস্থিতি মাঠে জানা যায় সহজেই।

আগ্রহী ক্লাব – এসি মিলান, লিভারপুল, জুভেন্টাস

মার্কো পিয়াকা
মার্কো পিয়াকা
  • রবি ব্র্যাডি (উইঙ্গার, আয়ারল্যান্ড)

এই ইউরোতে পরাশক্তিদের বিপক্ষে গোল করাটাকে মোটামুটি একটা অভ্যাসেই পরিণত করেছিলেন আইরিশ উইঙ্গার রবি ব্র্যাডি। গ্রুপপর্বে ইতালির বিপক্ষে তাঁর গোলটা ইতালিকে হারানোর জন্য যথেষ্ট হলেও পরে ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করতে পারলেও সেটা দলকে পরবর্তী রাউন্ডে তুলতে সমর্থ হয়নি। তবে তাতে ব্র্যাডির নিজের কোন ক্ষতি হয়নি, নজরে এসে গিয়েছিলেন বিভিন্ন ক্লাবের। লেস্টার সিটি ১২ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত দাম হাঁকিয়েও পায়নি ব্র্যাডিকে, নরউইচ চায় ২০ মিলিয়ন!

রবি ব্র্যাডি
রবি ব্র্যাডি

আগ্রহী ক্লাব – লেস্টার সিটি, সাউদাম্পটন, হাল সিটি, স্টোক সিটি, অ্যাস্টন ভিলা, স্যান্ডারল্যান্ড, ওয়েস্টহ্যাম

  • মিশাল পাজদান (সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, পোল্যান্ড)

২০০৮ সালের ইউরোর পোল্যান্ড দলে যখন ডাক পেলেন, জানা গেল তৎকালীন কোচ লিও বেনহ্যাকার তাঁর ডাকনাম দিয়েছেন “পিরানহা”। আটবছর পর এবারের ইউরোতে জানা গেল বেনহ্যাকার ভুল ছিলেন না। জার্মানির সাথে ম্যাচে সাতটি ইন্টারসেপশান করে জার্মানিকে গোলশূণ্য রাখার পেছনে সবচে বড় অবদান সেদিন এই পাজদানেরই ছিল।

আগ্রহী কাব – বার্সেলোনা, এফসি মাইঞ্জ

মিশাল পাজদান
মিশাল পাজদান

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 × 3 =