এইবার দাদারা খ্যান্ত দাও!

প্রথম ইনিংসের লিড ১৯২। দ্বিতীয় ইনিংসে টার্গেট ১৭৫। এরপর হার ৬৩ রানে। স্কোরলাইন দেখেই বুঝে যাওয়া উচিত কথা হচ্ছে ভারত ও শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট নিয়ে।

দীনেশ চান্দিমাল যখন ব্যাট করে, তখন বুঝলাম আর কেউ পারে নাই, কিন্তু এই ছেলে পারবে। সেটা পারলও। টপ অর্ডারের কেউ সঙ্গি দিতে না পারলেও লোউয়ার অর্ডার নিয়ে যেন রীতিমত যুদ্ধ করলো চান্দিমাল। তারপরেও ১৭৫ রানের টার্গেট মোটেও খুব বেশি না, যদিও গলের মাঠে চতুর্থ দিনে ব্যাটিং করাটা মোটেও সহজ না। কিন্তু দলটা যে ভারত! তাদের নাকি আছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী (!) ব্যাটিং লাইন-আপ!! এবং এতটাই বেশি শক্তিশালী যে ১১২ রানেই ফুটুস!!!

জনাব বিরাট কোহলি ভাইসাহেব শুরুতে বলেছিলেন, “ভারত এখন থেকে ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলবে।” এই যদি হয় ভয়-ডরহীন খেলার ধরণ, তাইলে মাশরাফি ভাইকে বলব, ভাই, ভয়-ডরহীন ক্রিকেটের নতুন অর্থ বের হয়ে গেছে, ভারতীয় সংস্করণে। :p :p

বেশি মজা লাগলো গাভাস্কারের কথা শুনে, “ভারতীয় ক্রিকেট দলের এখন বেছে নিতে হবে এমন ক্রিকেট, যা পুরো দলের সঙ্গে যায়, যা কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ সবার সঙ্গে যায়। আমার মতে, এভাবে এটাই আসল ক্রিকেট। আপনাকে অবশ্যই কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করে খেলতে হবে। সেটা না পারলে আগ্রাসনের কথা বলে কোনো লাভ নেই। দিন শেষে ওটা হাস্যকর হিসেবে প্রতীয়মান হয়।”

২০০ এর নিচে টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে হারার উদাহরণ এটাই একমাত্র না। ইতিহাসে আরো ৪/৫টা ম্যাচে এমন হারের উদাহরণ আছে। ১৮৭৭ সালে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার সিডনি টেস্টে ২য় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার দেয়া ৮৫ রানের টার্গেটে ইংল্যান্ড অল-আউট হয় ৭৬ রানে; ম্যাচটি ইংল্যান্ড হারে ৭ রানে। ওই টেস্ট ই জন্ম দেয় Ashes এর। কিন্তু তখন কোন দলই নিজেদের সেরা অমুক বলে দাবি করে নাই, এবং এখনো কেউ সেটা করে না (ভারত বাদে)। কিন্তু নিজেদের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন-আপ বলা একটা দল কিভাবে প্রথম ইনিংসে ৩৭৫ করার পর ২য় ইনিংসে ১১২ রানে অল-আউট হয়?!?

পরশুর নায়ক যদি দিনেশ চান্ডিমাল হন, শেষ দিনটা অবশ্যই রঙ্গনা হেরাথের। প্রথম ইনিংসে ৬৭ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন। কাল প্রিয় মৃগয়াক্ষেত্রে হেরাথের বল হয়ে উঠল জটিল এক ধাঁধা। আগের দিন লোকেশ রাহুলকে আউট করার পর কাল হেরাথের শিকার হয়েছেন আরও ছয়জন। টার্ন, বাউন্স তো ছিলই, নিজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র যেটি, জায়গামতো বল করে গেছেন অবিরত। লাঞ্চের আগে পরে ১৮ ওভারের স্পেলে মাত্র দুটি হাফ ভলি ও একটি শর্ট বলেই বুঝিয়েছেন হেরাথ কতটা নিখুঁত ছিলেন!

দেশের মাটিতে ভারতের সর্বশেষ টেস্ট জয় গত বছর জুলাইয়ে, লর্ডসে। ইংলিশদের ৯৫ রানে হারিয়েছিল ধোনির ভারত। এর পর আবারও ব্যর্থতার চোরাবালিতে হাবুডুবু। টানা নয় টেস্টে জয়হীন। এই নয়টির ছয়টিতেই হার। বাকি তিনটিতে ড্র। একটি ড্র গত জুনে ফতুল্লায়, বাংলাদেশের বিপক্ষে। লর্ডস টেস্টের ওই জয়টির আগে ভারতের সর্বশেষ জয় ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ২০১১ সালের জুনে। ২০১১ সালের জুন থেকে এখনো পর্যন্ত বিদেশের মাটিতে মোট ২৬ টেস্টে ভারতের জয় মাত্র দুটিতে, হার ১৬টিতে। আটটি ম্যাচ শেষ হয়েছে অমীমাংসিতভাবে।

হে ভারত, তথাকথিত ক্রিকেটের মোড়ল (!), অনেক ব্যবসা করলা তো ভাই ক্রিকেট নিয়ে, জেন্টেলম্যানদের খেলা করে উপহাস বানাইয়া ছাড়লা, এই বেলা খ্যান্ত দাও। এইবার একটু শুধরাও, নইলে আর কয়দিন পর জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড- এদের কাছেও হারতে শুরু করবা। খ্যান্ত দাও এলা।

ছবি – সংগৃহীত

Form is temporary, class is permanent, and Rangana Herath proved it himself. After taking a wicket of India.
Form is temporary, class is permanent, and Rangana Herath proved it himself. After taking a wicket of India.
A small example of fall of Indian Batting. Mr. Sharma walks back to pavilion to eat sharma.
A small example of fall of Indian Batting. Mr. Sharma walks back to pavilion to eat sharma.
175 run to defend, and they did it! Congratulations Srilanka!
175 run to defend, and they did it! Congratulations Srilanka!
Dinesh Chandimal after his extra-ordinary century, which gave to Srilanka a lead of 175 runs in second innings.
Dinesh Chandimal after his extra-ordinary century, which gave to Srilanka a lead of 175 runs in second innings.

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 + sixteen =