ই-ইউ, নন ই-ইউ কোটা : বার্সা ও রিয়ালের হিসাব

 
ব্রেক্সিট ব্রেক্সিট করে দুনিয়া মাতোয়ারা, যেটা কিনা ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে ই-ইউ, নন ই-ইউ কোটার খেলোয়াড়সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে অনেকের মনে। লা লিগার ক্লাবগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে মূল স্কোয়াডে সবসময় তিনজন নন ই-ইউ খেলোয়াড় থাকতে পারবে, কমও না বেশীও না। তাই বার্সায় নন ই-ইউ খেলোয়াড় বেশী খেলছে বা রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বেশী হচ্ছে সেরকম ভাবার কোন অবকাশ নেই।
 
কেউ যদি কাজের কারণে বা অন্য কারণে স্পেইনে ৫ বছরের চেয়ে বেশী থাকে তবে সে চাইলে স্পেইনের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে। সেক্ষেত্রে ওয়ার্ক পারমিট বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। এই কারণেই বার্সেলোনার বর্তমান স্কোয়াডে মেসি, আদ্রিয়ানো, আলভেস ই-ইউ প্লেয়ার। লিওনেল মেসি-জাভিয়ের ম্যাশেরানো আর দানি আলভেস-আদ্রিয়ানো যথাক্রমে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল এর হলেও তাঁদের নন-ইইউ প্লেয়ার ধরা হয়না, কেননা তাঁরা স্পেইনে যথাক্রমে ১৪, ৫, ১২ ও ৯ বছর ধরে খেলছেন ও তাঁদের স্পেইনের নাগরিকত্বও আছে, তাঁরা দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী (আর্জেন্টিনা-স্পেইন, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল)। ফলে তাঁদের নন-ইইউ প্লেয়ার ধরা হয় না। একই কারণে চিলির ক্লদিও ব্রাভোও ই-ইউ প্লেয়ার কারণ তিনি স্পেইনে খেলছেন ২০০৬ সাল থেকে। আবার ম্যাশেরানোর ইতালিয়ান পাসপোর্ট থাকার কারনে সে ঐদিক দিয়েও ই-ইউ প্লেয়ার, এরকম নিয়ম আছে। ফলে মেসি, ম্যাশেরানো, আলভেস, আদ্রিয়ানো, ব্রাভো কেউই নন-ইইউ খেলোয়াড় নন। রাফিনহা আলকান্তারা লা মাসিয়া প্রোডাক্ট, স্পেইনের পাসপোর্ট আছে, তাই তিনিও ইইউ প্লেয়ার।
 
বাকি থাকে লুইস সুয়ারেজ, নেইমার ও ডগলাস। বার্সেলোনার নন ই-ইউ কোটায় খেলছেন এখন এই তিনজনই। তিনজনের প্রত্যেকে স্পেইনে ৫ বছরের কম খেলছেন বিধায় তাঁদের কারোরই স্পেইনের নাগরিকত্ব নেই। সুয়ারেজ দুই বছর আগে স্পেইনে এসেছেন লিভারপুল থেকে, নেইমার সান্তোস থেকে বার্সায় পাড়ি জমিয়েছেন তিন বছর হল। আর ডগলাস ত এসেছেনই দেড় বছর। কারোরই স্পেইনের পাসপোর্ট ও নেই, নাগরিকত্ব ত নেই-ই। ফলে তাঁরা বার্সার তিনজন নন ই-ইউ প্লেয়ার।
 
ওদিকে রিয়াল মাদ্রিদের নন-ইউ দেশ থেকে খেলোয়াড় আছেন মোট ছয়জন (লক্ষ্য রাখুন, নন ই-ইউ দেশ বলেছি, নন-ইউ প্লেয়ার বলিনি!) – যারা হলেন কোস্টারিকান গোলরক্ষক কেইলর নাভাস, কলম্বিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হামেস রড্রিগেজ, ওয়েলশ উইঙ্গার গ্যারেথ বেল, ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাকযুগল মার্সেলো ও দানিলো ও মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। এদের মধ্যে নাভাস স্পেইনে আছেন ২০১০ থেকে, তাই তিনি স্প্যানিশ নাগরিক, অর্থাৎ ই-ইউ প্লেয়ার। মার্সেলো রিয়ালেই খেলছেন ২০০৬ সাল থেকে। বাকী থাকেন বেল, ক্যাসেমিরো, রড্রিগেজ ও দানিলো। হামেস রড্রিগেজ রিয়ালে এসেছেন ২০১৪ বিশ্বকাপের পর, দানিলো এসেছেন গত মৌসুমে, ক্যাসেমিরো ও বেল আছেন তিন বছর ধরে। তাই তাঁরা এখনো স্পেইনের নাগরিক হননি। আগে ব্রিটিশ খেলোয়াড় গ্যারেথ বেলকে ধরা হত ই-ইউ খেলোয়াড় হিসেবে। ব্রিটেন ই-ইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে এখন তিনি হবেন রিয়াল মাদ্রিদের নন ই-ইউ খেলোয়াড়। রিয়াল মাদ্রিদের মত ক্লাব নন ই-ইউ কোটায় খেলোয়াড় রাখতে পারে মাত্র তিনজন। বেল নন ই-ইউ খেলোয়াড় হয়ে যাওয়ার ফলে মাদ্রিদে নন ই-ইউ খেলোয়াড় এখন হবেন উইঙ্গার গ্যারেথ বেল, ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো, ব্রাজিলিয়ান রাইটব্যাক দানিলো ও কলম্বিয়ান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হামেস রড্রিগেজ। এখন এই চারজনের মধ্যে মাদ্রিদকে একজনকে বিক্রি করতেই হবে ফিফার নিয়ম মানতে গেলে। তবে এরই মধ্যে আবার কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে ওয়েলস ব্রিটেন থেকে বেরিয়েও আসতে পারে। সেক্ষেত্রে গ্যারেথ বেল আবার ই-ইউ এর অন্তর্ভুক্ত খেলোয়াড়ই হয়ে যাবেন আগের মত। যদিও এটা নিশ্চিত নয় এখনো।
 
মোটামুটি বার্সা ও রিয়ালের বর্তমান ই-ইউ, নন ই-ইউ কোটার হিসাব এরকমই!

কমেন্টস

কমেন্টস

2 thoughts on “ই-ইউ, নন ই-ইউ কোটা : বার্সা ও রিয়ালের হিসাব

  1. ছোট একটি সংশোধনী দিচ্ছি, মাসচেরানোর পূর্বপুরুষ ইতালিয়ান হওয়ায় তিনি ইতালিয়ান পাসপোর্টধারী এবং ইতালিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেই বার্সেলোনায় খেলছেন।

মন্তব্য করুন

18 − 14 =