ইকার ক্যাসিয়াস : ওহ ক্যাপ্টেইন, মাই ক্যাপ্টেইন!

ইকার ক্যাসিয়াস : ওহ ক্যাপ্টেইন, মাই ক্যাপ্টেইন!
আমি রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থন করি ২০০১-০২ মৌসুমের পর থেকে । আগের মৌসুমে জিদান এসেছে কেবল । এসেই বাজিমাত । রিয়াল মাদ্রিদের রেকর্ড নবম শিরোপা , “গ্যালাক্টিকোস” , হেনতেন “সংবাদপত্র” নলেজ , মানে এসব খবর জানি পত্রিকা পড়ে পড়ে । যাহোক , ইউরোপিয়ান কাপের নবম শিরোপা – একদম টিপিক্যাল গ্লোরি হানটার ফ্যান হলাম । সাদা জার্সিটা খুব ভাল্লাগে , জার্সিতে এডিডাসের কালো থ্রি স্ট্রাইপ টা আরো ভাল্লাগে । মৌসুম এর শেষ আর বিশ্বকাপের শুরু হতে তো খুব বেশি দেরী হয়না , হয় কি ?
২০০২ জাপান কোরিয়া বিশ্বকাপ । প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা নিয়ে দেখা প্রথম বিশ্বকাপ । কারন , ১৯৯৮ এর সময় আমি ছোট অনেক , ৫ বছর বয়স । কিছুই মনে নাই অলমোস্ট ।
আমি ফ্রান্সের ডাই হার্ড ফ্যান তখন । ওই যে , “পেপার বিদ্যা” । গ্লোরি হান্টার ছিলাম তো ! জিনেদিন জিদান খেলে ( যিনি আমার প্রিয় খেলোয়াড় ওইসময় ) , আবার ফ্রান্স দলটা শালা টানা বিশ্বকাপ সাথে আরো কি একটা জিতসে (ইউরো ২০০০ ) – অন্য দল সাপোর্ট করার কোন কারনই খুঁজে পেলাম না । বাসা থেকে ব্রাজিল সাপোর্টের ব্যাপারে বিশেষ জোরাজুরি করা হল , পতাকা কিনে দিলেন মামা – কিন্তু পছন্দ হলো না । হলুদ একটা রঙ হইল ! ফ্রান্সের জার্সিটা নীল । আবার আমার প্রিয় এডিডাসের থ্রি স্ট্রাইপ ও আছে ।
সেনেগালের কাছে হারার সাথে সাথে আমি দল চেইঞ্জ করলাম । ফ্রান্স তেমন সুবিধার দল না , সেনেগাল মেনেগালের কাছে হারে কেমনে কি । নেক্সটে একটা ম্যাচ ছিল আর্জেন্টিনা – নাইজেরিয়ার । ঠিক করলাম , আর্জেন্টিনা ট্রাই করে দেখি ।জার্সিটা সুন্দর আছে । আকাশী সাদা । আবার এডিডাসের থ্রি স্ট্রাইপ ও আছে । আগ্রহ নিয়ে আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে বসলাম । পুরো ম্যাচে ফুটবলটা আমি কমই দেখলাম , মুগ্ধ চোখে ফ্রেঞ্চ কাট দাড়িওয়ালা , সোনালী বাদামী লম্বা চুলের এক প্লেয়ারকেই দেখলাম । বাতিস্তুতা , গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা । ফিফা ৯৮ এ , দুই ঘন্টা ধরে খুঁজে খুঁজে ইতালির এক অপরিচিত ক্লাব ফিওরেন্তিনা থেকে তাকে মাদ্রিদে ট্রান্সফার করে ফেললাম , “হিয়েরো” কে বেচে দিয়ে ( দামে পোষাইত না ) ।
ওইটা আমার আর্জেন্টিনা সাপোর্টের শুরু ।
কিন্তু আমার জন্য , ২০০২ বিশ্বকাপটা আসলে আরেকটা কারনে আরো অনেক বেশি মনে থাকবে । একজন সেকেন্ড চয়েস গোলরক্ষকের কারনে । যার আসলে টুর্নামেন্ট খেলারই কথা ছিল না । প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকের পায়ে আঘাত লাগায় , তিনি দলে সুযোগ পান ।
স্পেনের কোন এক ম্যাচে তাকে আমি দেখি । জার্সির পিছে লেখা , “ক্যাসিল্লাস” , কিন্তু কমেন্টেটর রা তাকে ডাকে ক্যাসিয়াস । বাচ্চা একটা ছেলে । এই ছেলেই রিয়াল মাদ্রিদের গোলকিপার । ক্যাসিয়াস আর ক্যাসিল্লাস সেম জিনিস । যাকে আমি অনেক কষ্ট করেও , ফিফা ৯৮ এ পেলাম না , ওখানে মাদ্রিদের গোলকিপার ক্যানিজেয়ার্স আর ইলনার, তাতে কি – ক্যানিজেয়ার্সের নাম চেইঞ্জ করে ক্যাসিয়াস বানায় নিলাম ।
জার্সি দেখে দল সমর্থন করা , কিংবা চেহারা দেখে খেলোয়াড় সমর্থন করার শিশুসুলভ ব্যাপারটি আমার ছিল , ভালমতই ছিল – এখনও আছে বোধকরি ( এইজন্য মনে হয় হিগুয়েনকে আমার খুব ভাল্লাগে , সেরা নাম্বার নাইন মনে হয় ! )
যা হোক । সেটা ছিল ইকার ক্যাসিয়াসের সাথে আমার প্রথম পরিচয় । পরিচয় শব্দটায় আপত্তি ? করেন সমস্যা নাই ।
ইকার ক্যাসিয়াস : ওহ ক্যাপ্টেইন, মাই ক্যাপ্টেইন!
gollachhut.com
২০১৩ এর শেষের দিকে , ফেসবুক লিভ করে , সিভিল লাইফ লিভ করে , এয়ার ফোর্স একাডেমিতে ট্রেনিং এ যাওয়ার পর থেকে – ইনবক্সে , কমেন্টে , সামনাসামনি – সবরকমের মাধ্যমে , আমি যে টপিকটা নিয়ে লেখার জন্য সবচে বেশি রিকুয়েস্ট পেয়েছি – সেটা হচ্ছে , “ইকার ক্যাসিয়াস” । আমি লেখক নই । ফুটবলের মত এত ভাস্ট একটা ব্যাপারের আবেগটুকু টাইপ করে ফোটানোর যোগ্যতা আমার নাই । যারা সত্যি সত্যি লেখালেখি করে , ( লাইক কৌশিক – একজনের নামই আমার বলতে ইচ্ছে হয় ) তারা পারবে । আর স্ট্যাটিস্টিকস – ট্যাকটিকস বাদ দিয়ে যদি সত্যিই আপনি ফুটবল আবেগটা চান টাইপ করা – উৎপল শুভ্র সত্যিই বড় একটা নাম । তবে আমার পছন্দ মোস্তফা মামুন । ফুটবল খেলাটা ভালবাসি বলে , ফুটবল খেলার বাইরেও ফুটবল নিয়ে পড়াশোনা , আলোচনা করতে ভাল লাগে । পোস্ট দিয়ে , বা কমেন্ট করে যেটাই করি সেটা আসলে “লেখা” না । আলোচনা ।
এই একটা টপিক – যে টপিক মানুষ সবচেয়ে বেশিবার আলোচনা করতে অনুরোধ করেছে ( ক্ষেত্রবিশেষে কেও আদেশ দিয়েছে ) – এই টপিকটা নিয়ে পড়াশোনার করার মত সাহস টুকুও আমার নাই । ইকার ক্যাসিয়াস যে রিয়াল মাদ্রিদে খেলেনা এখন , সেটা আমার এখনও বিশ্বাস হয়না । তাই , পেস ১৬ ( ২০১৫-১৬ মৌসুম ) এ আমার দলে ইকার ক্যাসিয়াস আছে । তার এট্রিবিউটস সব ৯৯ । শিশুসুলভ বায়াজড ভালবাসা ।
আমি যেই সময়টা ট্রেনিং এর কারনে , অনুপস্থিত ছিলাম – ইকার রিলেটেড অনেক গেঞ্জাম হয়েছে , ক্যাসিয়াস মৌসুমে লোপজের কাছে এক নাম্বার স্থান হারিয়েছে , পরের মৌসুমে ইউ সি এল খেলেছে শুধু , কোপাতে ৯০০+ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ড করেছে না কি জানি একটা , আবার তার পরের মৌসুমে আবার এক নাম্বার গোলকিপারও হয়েছে লিগের ম্যাচগুলোতেও ।
আমি ফিরে দেখি , ক্যাসিয়াস নেই । দলের এক নাম্বার জার্সি পড়েন নাভাস । আমি শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি । ক্যাসিয়াস আর নাই রিয়ালে ? কি হয়েছে – কেন হয়েছে – কিভাবে হয়েছে কিচ্ছু জানতে সাহস হয়নাই । আমার ভাগ্যটা খুবই ভাল – ঐ সময় আমি ছিলাম না । থাকলে হয়তো এফ এফ বি ডি সহ বেশ কিছু গ্রুপ থেকে ব্যানড হতাম গালিগালাজ করার কারনে ।
যেটা বলছিলাম , ইকার ক্যাসিয়াস টপিকে পড়াশোনা করার সাহসও আমার হয়না । লেখা বা আলোচনা করাটা অনেক পরের ব্যাপার । সবসময় মনে হয়েছে , এই লেখাটা লেখতে গেলে আমি শেষ করতে পারব না , মাঝপথে ল্যাপটপ বন্ধ করে দেব , নাহলে গলায় দলামত আটকে যেতে থাকবে , নাহয় কিছু একটা হবে – শেষ করতে পারব না ।
যেহেতু শুরু করেছি , এই পোস্ট সম্পর্কে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । কেউ কিছু এক্সপেক্ট করবেন না । এই লেখাটা হবে অনেক অনেক খাপছাড়া একটা লেখা । কোন যুক্তির বালাই নাই । কোন ট্যাক্টিকস নাই । কোন লজিক নাই । কোন এনালাইসিস নাই । একজন বায়াজড ইকার ফ্যানের কথা ।
ইকার ক্যাসিয়াসের হাইট হচ্ছে , ৫ ফিট সাড়ে ১১ ইঞ্চি । একজন গোলকিপারের জন্য একদম এভারেজ হাইটই হলো অন্তত ৬ ফিট ২ । সেখানে ইকার এমনকি ৬ ফিটও না । আমি নিজে গোলকিপিং করি । আমি জানি হাইট জিনিস গোলকিপিং করার জন্য । আমার হাইট ৫ ফিট ৭ ইঞ্চি – এইটা নিয়ে দুনিয়ার একটা জায়গায়ই আমার আফসোস হয় – গোলপোস্টের নিচে ।
ক্রসিং , সেটপিস , দুরপাল্লার শট – এইসমস্ত মোকাবেলা করতে, একদম বাই ডিফল্ট ইকার একটা ডিসএডভান্টেজে থাকতেন , তার হাইটের কারনে ।
কিন্তু তিনি তো ইকার ক্যাসিয়াস । শারীরিক ল্যাকিংস , তিনি পুষিয়ে দিতেন দুর্দান্ত রিফ্লেক্স দিয়ে । অসাধারণ পজিসন সেন্স দিয়ে । তার রিফ্লেক্সের সবচে ভাল উদাহরন হলো , ২০০৯-১০ মওসুমে সেভিয়ার সাথে একটা সেইভ আছে । সেভিয়ার একজন মাইনাস করেন , ইকার পোস্টের একপাশে থেকে অন্যপাশে জাম্প করে পুরোটা কাভার করে স্ট্রাইকারের নেয়া শটটি ঠেকিয়ে দেন । এটা কিভাবে সম্ভব ? কিভাবে সম্ভব এই রিফ্লেক্স?
আমি স্পেনের ফ্যান নই । কিন্তু শুধু মাত্র ইকার খেলত দেখে আমি কখনো চাইতাম না স্পেন গোল খাক । আশ্চর্যের ব্যাপার , ২০১০ এর পুরো বিশ্বকাপে স্পেন গোল হজম করেছে মাত্র ১/২ টি যদি ভুল না হই ( সুইজারল্যান্ডের / চিলির দুইটার একটার সাথে ) । বাকি সব ক্লিন শিট ! কোয়াটারে ০-১ এর একটা ম্যাচে পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিলেন । ফাইনালে রবেনের ওইরকম দুইটা ওয়ান অন ওয়ান ঠেকালেন । শুধু নরমাল “খেলোয়াড়ি” এট্রিবিউটস দিয়ে এই পার্ফর্মেন্স হয়না । খেলোয়াড়ি এট্রিবিউটসের বাইরে আরো কিছু এট্রিবিউটস থাকে । লিডারশিপ , ডিটারমিনেশন , ফাইটিং স্পিরিট । ক্যারিশমা । ইকার ক্যাসিয়াস ছিলেন একজন ক্যারিশম্যাটিক প্লেয়ার । ক্যারিশম্যাটিক পার্সোনালিটি ।
শুধু বিশ্বকাপ কেন বলব , ইউরো ? বুফনের ইতালি , আর ইকারের স্পেনের সেই টাইব্রেকার তো ভোলা সম্ভব না । সেটাও ক্যারিশমা । বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার এক বিরলপ্রায় ক্ষমতা নিয়ে জন্ম তার ।
ক্যাসিয়াস আসলে ক্যাসিয়াস হয়েছেন অন্য কারনে । হিয়েরো-স্যাঞ্চিস জুটি ভাঙার পর থেকে পেপে-রামোস জুটি আসার আগ পর্যন্ত মাদ্রিদ ডিফেন্স ছিল সবসময়েই বি গ্রেড ( ক্যানাভারোকে আলাদা রেখে হিসেব করেন ) রিয়াল মাদ্রিদের হেলগুয়েরা – ইভান ক্যাম্পো , পরবর্তীতে “রগচটা পেপে” – মেটযেল্ডার ধরনের ডিফেন্ডারদের নিয়ে দিনের পর দিন মাদ্রিদের গোলবার আগলে গেছেন , লাস্ট ম্যান অব ডিফেন্স হয়ে । ম্যাচের পর ম্যাচ মাদ্রিদকে বাচিয়েছেন । তার অগুনতি সেইভ আছে , যেগুলো আপনি সেইভ করার আগের মুহুর্ত পর্যন্ত শিওর গোল বলে দেবেন ।
তার লিডারশিপ কিংবদন্তী তুল্য । বেকেনবাওয়ার আর দেশমের পর , মাত্র তিন নাম্বার ক্যাপটেন হিসেবে বিশ্বকাপ , ইউরো আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেছেন । ক্যাপটেন হিসেবে লা লিগ জিতেছেন , লিগ কাপ কোপা দেল রে জিতেছেন , উএফা সুপার কাপ জিতেছেন , ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ জিতেছেন – শুধু জেতেননি কনফেডারেশনস কাপ ।ফুটবলের সর্বকালের সেরা কি না সেই বিতর্কে যাবনা , তবে বেকেনবাওয়ার পরবর্তী যুগে সেরা কয়েকজনের ক্যাপ্টেনের একজন তিনি ।
বিশ্বকাপে ইনিয়েস্তার গোলের পর সবাই উতসবে ব্যস্ত , তিনি কিছু পরে কান্নায় ভেঙে পরেন । আবেগ । ফিফা ওয়ারল্ড কাপ সাউথ আফ্রিকাঃ ইকার ক্যাসিয়াস মোমেন্ট নামে একটা ভিডিও আছে , দেখবেন , তিনি বলেন , “আমি ভাগ্যবান । প্রথম সেভ ছিল ৫০-৫০ । আমি ঠেকিয়েছি পা দিয়ে । আর দ্বিতীয়টি তে রোবেন আগেই ইমব্যালেন্সড ছিল , পিকে এবং পুয়োলকে তাদের ট্যাকলের জন্য ধন্যবাদ ।” টিমমেটদের প্রতি ক্যাপ্টেনের প্রশংসাবাক্য , কিংবা বিনয় – খুব সম্ভবত এটাকেই বলে ।
লা দেসিমা জয়ে , মার্সেলোর কথা মনে পড়ে ? কোন একটা গোলের পরে , খেলার মধ্যে সব বাদ দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদছেন মার্সেলো , ক্যাসিয়াস তাকে জড়িয়ে ধরে আছেন ।
কিংবা ডর্টমুন্ডের সাথে বাদ পড়ার ম্যাচে কান্নায় ভেঙে পড়া সার্জিও র‍্যামোস কে আগলে ধরে রাখা ? আবেগ ।
ইকার ক্যাসিয়াস একটা আবেগের নাম । একটা অনুভূতির নাম । একটা ব্র্যান্ডের নাম ।
লেখতে লেখতে আমার মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে । ক্যাসিয়াস আর রিয়াল মাদ্রিদে নাই ! ক্যাপ্টেন নাই আর ! তার শেষ প্রেস কনফারেন্সে টা আমি কোনমতে দেখে শেষ করেছি । অদ্ভুত একটা ভিডিও । যে কয়েকটা ভিডিও দেখলেই গলা ধরে আসে , কন্ঠ ভারী হয়ে যায় – তার মধ্যে একটা । ইকার কথা বলা শুরু করল । “শুভ সন্ধ্যা ” – বলে সে থেমে গেল । কান্না আটকানোর কি অসহ্য চেষ্টা । মাঝখানে নীল গ্লাস থেকে পানি খেল । বাচ্চা দের মত কাঁদতে শুরু করল । পৃথিবীর সেরা ক্লাব এর সেরা গোলকিপার , ২৫ বছরের সম্পর্ক শেষে প্রেস কনফারেন্স করছেন । পাশে কেউ নাই , না কোচ – না আগামি ক্যাপ্টেন , না প্রেসিডেন্ট । একজন মহিলা তাকে একটি টিস্যু এগিয়ে দিল । অসহ্য একটা দৃশ্য ।
শুভ জন্মদিন সেইন্ট ইকার, মাদ্রিদে থাকুন বা না থাকুন, সকল মাদ্রিদ ভক্তদের হৃদয়ে আপনি থাকবেন সদাজাগ্রত!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

10 + seventeen =