ইকার ক্যসিয়াসের জন্য রুমাল বের করুন

অবশেষে সেই দিনটি চলে এল। ক্যাসিয়াস রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তিনি ফুটবল ছেড়ে দিচ্ছেন না, পোর্তোতে যাচ্ছেন। কিন্তু যে ক্লাবটিতে তিনি মাত্র নয় বছর বয়স থেকে খেলে আসছেন, আজকে তাঁর বিদায়ের দিনে তা আমাদের জীবনচক্রে অনেক স্মৃতি রেখে যাচ্ছে। আমি সেই ভিসেন্তে এবং অ্যারাকুস্টেইনের সময় থেকে মাদ্রিদের গোলরক্ষকদের দেখে আসছি; দুজনই জাতীয় পর্যায়ের গোলরক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে আমি ইকারের মত এত বেশি সেইভ করতে দেখিনি। ইকারের কল্যাণে মাদ্রিদ প্রতিপক্ষের এতই বেশি গোল এড়িয়ে গেছে যে তা ইকারের পূর্ববর্তী মাদ্রিদের ইতিহাসের সেরা ছয়জন গোলরক্ষকের সেইভের সমষ্টির চেয়েও বেশি। হালের দুর্দান্তরকম আক্রমণাত্মক “গ্যালাক্টিকোস” এবং উইঙ্গারদের কর্তৃক আক্রমণের সূচনা; সবই সম্ভব হয়েছে পেছনে তাঁর অলৌকিকতার কল্যাণে।

তিনি অনন্য একজন গোলকিপার; প্রবল চাপের মুহূর্তে তিনি যেন প্রাকৃতিকভাবেই পাথরসম। তিনি হয়ত কখনই একজন পরিপূর্ণ গোলকিপার ছিলেন না। ক্রস হ্যান্ডলিংয়ে কিছু সমস্যা ছিল যেখানে পরে উন্নতি করেছিলেন। আর ডি-বক্স হতে কিক নেয়াতেও তাঁর কিছু দুর্বলতা ছিল। কিন্তু এতদাসত্ত্বেও তাঁর অনন্যসাধারণ এবং আসল যে গুণটা ছিল তা হল “গোল ঠেকানো”।

তিনি সবসময়ই অনুভব করতেন যে তাঁকে মাদ্রিদের খুব বেশি প্রয়োজন নেই। আমি অবশ্যই ক্লাবের কথা বলছি। প্রতি গ্রীষ্মে একজন তারকা দলে ভেড়ানোর নীতিতে ফ্লোরেন্তিনো বছরের পর বছর বুফনকে মাদ্রিদে ভেড়ানোর ব্যক্তিগত ধারণা জানান দিয়ে ইকারের সাথে প্রতিনিয়ত মানসিক খেলা চালিয়ে গেছেন। মাদ্রিদ কক্ষনোই ক্যাসিয়াসকে নিয়ে গর্ব করেনি, খুব সম্ভবত এই চিন্তা থেকে যে এটা মনে হবে অনেকটা তাদের দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। তাঁকে নিয়ে একটু উচ্চবাচ্য করা হলেই ধরে নেয়া হত যে সবাই একটু বেশীই তাঁর চিন্তায় আচ্ছন্ন, সুতরাং যেভাবেই হোক তা বন্ধ করতে হবে।

ফলে জাতীয় দলটাই ছিল তাঁর কাছে অনেকটা নিজের বাড়ির মত। সেখানে তাঁর খুব কাছের বন্ধু জাভি ছিল। ক্যাসিয়াসের কল্যাণে মাদ্রিদ এখন স্পেনের জাতীয় দলের প্রধান সব ছবিগুলোতে নিজেদের অস্তিত্বটা বেশ ভালভাবে জানান দিয়ে আসছে কেননা রিয়াল অধিনায়ক ক্যাসিয়াসই যে প্রধান সব শিরোপাগুলো নিজের মুষ্টিবদ্ধ করেছেন। তিনি না থাকলে হয়ত স্পেনের ওই অর্জনগুলোর জন্য বার্সেলোনাকেই বেশী কৃতিত্ব দেয়া হত। রিয়াল মাদ্রিদের সাথে তাঁর সম্পর্ক মূলত খারাপ হতে থাকে মোরিনহোর সময় থেকে; সেই প্রভাব এখনও স্টেডিয়ামে ভেসে বেড়াচ্ছে। শেষদিকে ক্যাসিয়াস হয়ে উঠেছিলেন একটি “বৈরিতার বস্তু” যেখানে কেউই বাস করতে চায়নি; অবশ্যই ইকার নিজেও চাননি। তাই তিনি এখন চলে যাচ্ছেন। আসুন আরেকটিবারের মত শুভ্র রুমাল হাতে নেই এবং তাঁকে জানাই যে আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।

মূল লেখাঃ আলফ্রেডো রেলানো (বিশিষ্ট স্প্যানিশ সাংবাদিক)

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eighteen + one =