মাউরো ইকার্দি কে আর্জেন্টিনা দলে না নেওয়ার পেছনে যেসব যুক্তি থাকতে পারে

মাউরো ইকার্দি কে আর্জেন্টিনা দলে না নেওয়ার পেছনে যেসব যুক্তি থাকতে পারে

::: আব্দুল্লাহ আল নোমান :::

ইন্টার মিলান স্ট্রাইকার মাউরো ইকার্দি বিশ্বকাপে অার্জেন্টিনা স্কোয়াড থেকে বাদ, ইতালিয়ান লীগ এর এই মৌসুমের টপ স্কোরার কিভাবে বাদ এটা নিয়ে সবাই অার্জেন্টিনার কোচের সমালোচনায় মুখর। অামি নিজেও অবাক হয়ছি। তবে অাবেগটাকে বাদ দিয়ে একটু বাস্তবতায় অাসি। এর অাগে অারেকটা বিষয়, অনেকে বলছে মেসির সাথে ইকার্দির সম্পর্ক ভাল না তাই ইকার্দি কে বাদ দেওয়া হয়েছে। ঠিক এই কারণে যে বাদ, সেটার ১০০% নিশ্চয়তা সহ স্টেটমেন্ট দিলে হয়তো বিশ্বাস করবো। এখন ইকার্দিকে বাদ দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত কি না সেটা বলি।

মাউরো ইকার্দির জায়গায় মূলত জুভেন্টাস স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়াইন কে নেয়া হয়েছে। সুতরাং তার সাথেই তুলনা টা দিয়ে শুরু করি। ইকার্দি একজন জেনুইন নাম্বার নাইন, ডি-বক্সের মধ্যেকার স্ট্রাইকার। ওর অবস্থান থাকবে ডি বক্স এ। যেটা অার্জেন্টিনা দলের জন্য তেমন পজিটিভ না। কারণ? কারণ হচ্ছে অার্জেন্টিনায় দরকার এমন একজন স্ট্রাইকার যে গোল করার পাশাপাশি অধিনায়ক লিওনেল মেসি কে স্পেস ক্রিয়েট করে দিবে, জায়গা করে দিবে আক্রমণে আসার জন্য। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই হিগুয়াইন বেশী ভালো স্ট্রাইকার। কারণ ও শুধুমাত্র ডি-বক্স স্ট্রাইকার না। যেটার প্রমাণ ওদের মৌসুমী ”হিট ম্যাপ” এ পাওয়া যায়। ইকার্দির যেখানে ম্যাক্সিমাম টাচ ডি-বক্স এ সেখানে হিগুয়াইন এর ডি-বক্স থেকে খানিকটা নিচে। এখন অাসি ইকার্দি ও হিগুয়াইন এর এ মৌসুমের লীগ পারফরম্যান্সে।

কেও এটা ভেবেন না এখানে আমি গঞ্জালো হিগুয়াইন কে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করছি। অামি মাউরো ইকার্দি যার জন্য জায়গা হারিয়েছে তার সাথে তুলনা দিচ্ছি শুধু। মাউরো ইকার্দির গোল সংখ্যা ২৯। গঞ্জালো হিগুয়াইন এর গোল সংখ্যা এ মৌসুমে ১৬। তফাত টা বেশি হয়ে গেলো না?

মাউরো ইকার্দি কে আর্জেন্টিনা দলে না নেওয়ার পেছনে যেসব যুক্তি থাকতে পারে
gollachhut.com

এখন শুনুন। ইন্টার এ ইকার্দি প্রধান স্কোরার। সবাই (পেরিসিচ, কানদ্রেভা, বোর্হা ভ্যালেরো, রাফিনহা আলকান্তারা, রবার্তো গ্যালিয়ার্দিনি) ওকে বল পাঠায়, ও ফিনিশ করে, গোল দেয়। ডি-বক্সে থাকা ইকার্দি হল সতীর্থদের বল পাঠানোর মূল লক্ষ্য। অার হিগুয়াইন এর ক্ষেত্রে ওর চেয়ে ভাল গোলস্কোরার জুভেন্টসে অাছে – পাওলো ডিবালা যে ২২ গোল করেছে। তাছাড়া ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ডগলাস কস্টা ও ক্রোয়েশিয়ান স্ট্রাইকার মারিও মানজুকিচেরও গোল করার স্বভাব আছে। এখানে হিগুয়াইন দলের মূল গোলদাতা না সেহেতু ওর গোল টা কম ই অাছে।

  • ইকার্দির এসিস্ট বা গোলে সহায়তা -১
  • হিগুয়েন এর এসিস্ট বা গোলসহায়তা -৬

অাগেই বলেছি ইকার্দি একজন জেনুইন ডি-বক্স স্ট্রাইকার। যার কারণে ওর থেকে এসিস্ট অাসে না। অার হিগুয়াইন এর কাছ থেকে ৬ টা এসিস্ট এবং এই এসিস্ট দিতে পারে এরকম স্ট্রাইকার ই অার্জেন্টিনায় লাগছে কারণ দলে স্কোরার অাছে আরও, শুধু গোল এর সুযোগ টা দরকার। সেহেতু হিগুয়াইন এর এসিস্ট দেওয়ার ক্ষমতাটা দলে কাজে লাগবে। হিগুয়াইন কে সবাই মিস করার রাজা ডাকলেও এখানে মিস এ এগিয়ে ইকার্দি। তবে হিগুয়াইন এর গোল করার সুযোগ কম ছিল তাই বিগ মিস কম অার ইন্টার এর সব গোল এর কেন্দ্রে থাকে ইকার্দি। ইকার্দির বিগ মিস ১৬ টি অার হিগুয়েন এর ৯ টি। ইকার্দি চান্স ক্রিয়েট করেছে ৮ টি অার হিগুয়েন ৭ টি। এখানে ইকার্দির একটা ইতিবাচক দিক পাওয়া যায়। দলের অারেকটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পাসিং। ইকার্দি ডি-বক্স স্ট্রাইকার হওয়ায় ওর পাস সফলতার হার অনেক কম এবং ম্যাচ এ পাস ও দেয় কম। ইকার্দি ম্যাচ প্রতি সফল পাস দেয় ৯.৭ টা অার হিগুয়েন দেয় ১৬.১ টা। অার সর্বশেষ স্ট্রাইকার দের কিছু জায়গায় সৃষ্টিশীল হওয়া লাগে তার মধ্য অন্যতম হল ড্রিবলিং। এটায় ইকার্দি অত্যন্ত দুর্বল। তার ড্রিবলিং হার ম্যাচ প্রতি ০.৩। অার এদিকেও হিগুয়াইন এগিয়ে। তার ড্রিবল করার হার ১.৫ ম্যাচ প্রতি।

স্ট্যাটস দেখে সহজে অনুমেয় যে অার্জেন্টিনার বর্তমান এ ইকার্দির চেয়ে হিগুয়াইনকেই বেশী প্রয়োজন। কারণ ওর স্ট্যাটস বলছে ও ম্যাচ এ মোটামুটি সব কিছুতেই প্রভাব রাখে, শুধুমাত্র গোল করা ছাড়াও। অার ইকার্দি কে গোল ছাড়া অন্য কোন জায়গায় সেরকম দেখা যায় না। বাট অার্জেন্টিনায় গোল করার খেলোয়াড় অনেক, করানোর কম। সেহেতু হিগুয়াইন অবশ্যই ইকার্দির থেকে চেয়ে ভালো একটা পছন্দ। তাছাড়া গঞ্জালো হিগুয়াইন অার্জেন্টিনা দলে অাছে অনেক বছর ধরে। সে যেভাবে প্লেয়ারদের বুঝবে, ইকার্দি হয়তো বুঝবেনা। কারণ ইকার্দি এখনো ২০+ ম্যাচ ও খেলেনি আর্জেন্টিনার হয়ে। অার পাওলো ডিবালা যেহেতু স্কোয়াড এ অাছে হিগুয়াইন কে রাখাটা পজিটিভ। কারণ তারা ক্লাবে এক সাথে অনেকদিন ধরে খেলছে। তারা একজন অারেকজন কে খুব বেশি ভাল বুঝে। ওরা ২ জন অনেকসময় যৌথ প্রচেষ্টায় জুভেন্টাস কে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছে। হিগুয়াইন কে পছন্দ করার অারেকটা কারণ হল ওর ২ টা বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা অাছে এবং একটা ফাইনাল যেখানে ইকার্দি হত নবাগত, এরকম প্লাটফর্ম এ চাপ টা কতটুকু ধরে রাখতে পারবে সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। সে এমনিতেও বড় ম্যাচ এ ডিপ্রেশন এ ভুগে যার প্রমাণ ইন্টার এর হয়ে কয়েকটা ম্যাচ। মোট কথা অার্জেন্টিনার প্লেয়িং স্টাইল এর সাথে ইকার্দি যায় না সর্বোপরি অামি সাম্পাওলির ডিসিশন কে সমর্থন করি। ইকার্দি অামারও ভাল লাগার একজন। কিন্তু দলের স্বার্থে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। অাশা করি ওর অভাব তেমন একটা বোধ করবেনা অার্জেন্টিনা। হিগুয়াইন অামাদের অনেক কাঁদিয়েছে। অাশা করি এবার তার উপর রাখা বিশ্বাস এর মর্যাদা সে রাখবে। চাইবো হিগুয়াইন যেন জুভের হয়ে পারফর্ম্যান্সটা আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েও দিতে পারে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty + seven =