ইউরো টিম প্রিভিউ : হাঙ্গেরি

টোটাল ফুটবলের আবিষ্কারক হিসেবে নেদারল্যান্ডের নাম বলা হলেও, কিংবা বিশ্বব্যাপী টোটাল ফুটবলকে পরিচিত করার ব্যাপারে নেদারল্যান্ডের ভূমিকা সবচাইতে অগ্রগণ্য হলেও, টোটাল ফুটবলকে বাস্তবায়নের শুরু দিকের অন্যতম রূপকার হিসেবে ফেরেঙ্ক পুসকাস-স্যান্দর ককসিস-ন্যান্দর হিদেকুটিদের হাঙ্গেরির নাম আসবেই। এখন সময়ের ফেরে খর্বশক্তির দল হয়ে গেলেও ফুটবলকে হাঙ্গেরিও কম কিছু দেয়নি। ১৯৩৮ ও ১৯৫৪ ফুটবল বিশ্বকাপের রানার্সআপ হাঙ্গেরির ইউরোতে সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে ১৯৬৪ ইউরোতে তৃতীয় হওয়া। ১৯৭২ সালের পর এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত ইউরো খেলতে ফ্রান্সে আসছে পুসকাসের উত্তরসূরিরা। দেখে নেওয়া যাক কোচ বার্নড স্টর্কের ঘোষিত হাঙ্গেরি স্কোয়াডটা কিরকম হল।

  • গোলরক্ষক

গাবর কিরালি (হালাদাস)
পিটার গুলাকসি (আরবি লিপজিগ)
দেনেস দিবুশ (ফেনেরভার্কোস)

  • ডিফেন্ডার

রোল্যান্ড জুহ্যাস (ভিডিওটোন)
অ্যাডাম ল্যান (ভিডিওটোন)
মিহায়লি কোরহুত (ডেব্রেসেন)
টামাস কাদার (লেচ পোজনান)
আত্তিলা ফিওলা (পুসকাস অ্যাকাডেমিয়া)
রিচার্ড গুজমিকস (উইজলা ক্র্যাকোউ)
বার্নাবাস বেসে (এমটিকে বুদাপেস্ট)

প্রিসকিন-সুদস্যাকের দিকেই তাকিয়ে থাকবে হাঙ্গেরি
প্রিসকিন-সুদস্যাকের দিকেই তাকিয়ে থাকবে হাঙ্গেরি
  • মিডফিল্ডার

বালাজ সুদস্যাক (বার্সাসপোর)
অ্যাকস এলেক (দিওসগিওয়েরি ভিটিকে)
অ্যাডাম ন্যাগি (ফেনারভার্কোস)
জোল্টান গেরা (ফেনারভার্কোস)
গের্গো লভরেনসিক্স (লেচ পোজনান)
লাজলো ক্লাইনহাইজলার (ওয়ের্ডার ব্রেমেন)
অ্যাডাম পিন্টার (ফেনেরভার্কোস)
জোলটান স্টিবার (এফসি নুর্নবার্গ)

 

  • স্ট্রাইকার

অ্যাডাম শালাই (হ্যানোভার ৯৬)
ক্রিস্টিয়ান নেমেথ (আল ঘারাফা)
ড্যানিয়াল বোদে (ফেনেরভার্কোস)
নামানিয়া নিকোলিচ (লেজিয়া ওয়ার’শ)
টামাস প্রিসকিন (স্লোভান ব্রাটিস্লাভা)

 

  • উল্লেখযোগ্য যারা বাদ পড়লেন

অ্যাডাম বোগদান (গোলরক্ষক, লিভারপুল)
ভিলমোস ভানস্যাক (ডিফেন্ডার, এফসি সিওন)
ড্যানিয়েল টয়েস্যার (মিডফিল্ডার, কুইন্স পার্ক রেইঞ্জার্স)

 

গ্রুপ ‘এফ’ এ জায়গা পাওয়া হাঙ্গেরির গ্রুপসঙ্গী এবার পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া ও আইসল্যান্ড। মোটামুটি পর্তুগাল ছাড়া বাকি তিনটা দল সমশক্তির হওয়ায় গ্রুপটা হাঙ্গেরির জন্য মোটামুটি কঠিনই বলা চলে।

দলের সুপারস্টার বালাজ সুদস্যাক
দলের সুপারস্টার বালাজ সুদস্যাক

লিভারপুলের ব্যাকআপ গোলরক্ষক অ্যাডাম বোগদান দলে ডাক না পাওয়ার কারণে গোলবারে সাবেক ক্রিস্টাল প্যালেস গোলরক্ষক, ক্লাব হালাদাসের গাবর কিরালির জায়গা পাওয়াটা নিশ্চিত, সাথে তাঁর ব্যাকআপ হিসাবে থাকছেন ফেনেরভার্কোসের দেনেস দিবুশ ও আরবি লিপজিগের পিটার গুলাকসি।
কোচ বার্নড স্টর্কের মূল পছন্দের ফর্মেশান হল ফ্ল্যাট ৪-৪-২, মাঝে মাঝে এক স্ট্রাইকার একটু নিচে নেমে এসে খেলার কারণে ফর্মেশনটা ৪-৫-১ এও রূপ নেয়। চার ডিফেন্ডারের মধ্যে রাইটব্যাক হিসেবে খেলবেন পুসকাস অ্যাকাডেমিয়ার আত্তিলা ফিওলা, তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে থাকছেন এখন পর্যন্ত হাঙ্গেরির হয়ে মাত্র একটা ম্যাচ খেলা এমটিকে বুদাপেস্টের বার্নাবাস বেসে। লেফটব্যাক হিসেবে দলে খেলার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী লেচ পোজনানের টামাস কাদারের। ফেনেরভার্কোসের লেফটব্যাক লেয়ান্দ্রো দে আলমেইদা না থাকার কারণে টামাস কাদারের ব্যাকআপ লেফটব্যাক থাকছেন ডেব্রেসেনের মিহায়লি করহুত। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে ভিডিওটোনের রোল্যান্ড জুহ্যাসের জায়গা পাওয়া নিশ্চিত, তাঁর ডিফেন্সিভ পার্টনার হিসেবে খেলার জন্য মূল লড়াইটা হবে ভিডিওটোন সতীর্থ অ্যাডাম ল্যাং ও উইজলা ক্র্যাকোউ এর রিচার্ড গুজমিকসের মধ্যে। আবার লেফটব্যাক টামাস কালাস নিজে সেন্টারব্যাক হিসেবেও খেলতে পারেন। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের দুই-তিনটি জায়গার জন্য মূল লড়াইটা হবে ফেনেরভার্কোসের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জোলটান গেরা ও তাঁর সতীর্থ অ্যাডাম ন্যাগি, দিওসগিওরি ভিটিকের আকোস এলেক, ওয়ের্ডার ব্রেমেনের লাজলো ক্লাইনহাইসলারের মধ্যে। আবার স্ট্রাইকার টামাস প্রিসকিনকেও কখনো কখনো সেন্টার মিডফিল্ডে এসে খেলতে দেখা যায়। দুই উইংয়ের এক প্রান্তে অধিনায়ক বালাস সুদস্যাকের জায়গা পাকা একেবারে। বাকি জায়গাটার জন্য লড়াই হবে আল ঘারাফার স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ান নেমেথ, এফসি নুর্নবার্গের জোলটান স্টিবার ও লেচ পোজনানের গের্গো লভরেনসিক্সের মধ্যে। জোলটান গেরা খেলতে পারেন এই পজিশানেও।

1456152_NK_Croatia_Sesvete
দুই স্ট্রাইকারের মধ্যে হ্যানোভার ৯৬ এর স্ট্রাইকার অ্যাডাম শালাইয়ের খেলার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী। স্ট্রাইকে তাঁর সঙ্গী হবেন স্লোভান ব্রাটিস্লাভার টামাস প্রিসকিন কিংবা লেজিয়া ওয়ার’শ এর নেমানিয়া নিকোলিচের মধ্যে যেকোন একজন।
এবার ইউরোর অন্যতম দুর্বল দল হাঙ্গেরি কি পারবে পূর্বসূরিদের সম্মান রক্ষা করে এবারের ইউরোতে বিশেষ কিছু একটা করে দেখাতে? দেখা যাক!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

12 − 7 =