ইউরো টিম প্রিভিউ : স্পেইন

ইউরোর ইতিহাসের অন্যতম সফল দল ও গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেইন এই ইউরোর জন্য নিজেদের দল ঘোষণা করেছে আজ। কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক স্কোয়াডে রেখেছেন ২৫ জন খেলোয়াড়কে, ৩১ মে এর মধ্যে সদস্যসংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে ২৩ এ। ইউরোতে মোট নয়বার অংশ নেওয়া, ১৯৬৪, ২০০৮, ২০১২ এর চ্যাম্পিয়ন এবং ১৯৮৪ সালের রানার্সআপ স্পেইন এইবার ইউরোতে কি পারবে টানা তিনবার শিরোপা জয় করতে? নাকি অন্য কোন পরাশক্তির কাছে তুলে দিয়ে আসতে হবে ইউরো শ্রেষ্ঠত্বের বরমাল্য, সেটা দেখার জন্য তাই অপেক্ষা করতেই হচ্ছে ১০ জুলাই পর্যন্ত।
 
গ্রুপ ‘ডি’ তে থাকা স্পেইনের গ্রুপের অপর প্রতিপক্ষরাও কিন্তু বেশ ভালই শক্তিশালী। স্পেইনের গ্রুপে এবার রয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক ও ক্রোয়েশিয়ার মত ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলো। এদেরকে পেরিয়ে স্পেইন নকআউট পর্বে উঠতে পারবে নাকি গত বিশ্বকাপের মত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হয়ে গ্রুপপর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হবে, দেখার বিষয় সেটাও। দেখে নেওয়া যাক স্পেইনের শিরোপা রক্ষার মিশনে কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক কাদের কাদের যোগ্য মনে করেছেন –
 
  • গোলরক্ষক
ইকার ক্যাসিয়াস (এফসি পোর্তো)
ডেভিড ডা হেয়া (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
সার্জিও রিকো (সেভিয়া)
 

ক্যাসিয়াসকে সরিয়ে এবার স্পেইনের এক নাম্বার হতে পারেন ডেভিড ডা হেয়া
ক্যাসিয়াসকে সরিয়ে এবার স্পেইনের এক নাম্বার হতে পারেন ডেভিড ডা হেয়া
  • ডিফেন্ডার
সার্জিও রামোস (রিয়াল মাদ্রিদ)
জেরার্ড পিকে (বার্সেলোনা)
জর্ডি অ্যালবা (বার্সেলোনা)
দানি কারভাহাল (রিয়াল মাদ্রিদ)
সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটা (চেলসি)
হুয়ানফ্রান টরেস (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
মার্ক বার্ত্রা (বার্সেলোনা)
মিকেল সান হোসে (অ্যাথলেটিক বিলবাও)
 

দেল বস্কের ডিফেন্সে থাকবেন এরাই
দেল বস্কের ডিফেন্সে থাকবেন এরাই
  • মিডফিল্ডার
অ্যান্দ্রেস ইনিয়েস্তা (বার্সেলোনা)
সার্জিও বুসকেটস (বার্সেলোনা)
সেস ফ্যাব্রিগাস (চেলসি)
কোকে রিসার‍্যাকশান (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
ডেভিড সিলভা (ম্যানচেস্টার সিটি)
থিয়াগো আলকানতারা (বায়ার্ন মিউনিখ)
পেদ্রো রড্রিগেজ (চেলসি)
ব্রুনো সোরিয়ানো (ভিয়ারিয়াল)
ইসকো অ্যালার্কন (রিয়াল মাদ্রিদ)
সল নিগুয়েজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
লুকাস ভাজক্যুয়েজ (রিয়াল মাদ্রিদ)
PicMonkey Collage
 
  • স্ট্রাইকার
নোলিতো (সেল্টা ভিগো)
আলভারো মোরাতা (জুভেন্টাস)
আরিজ আদুরিজ (অ্যাথলেটিক বিলবাও)
 PicMonkey Collage
  • ব্যাকআপ
ইনাকি উইলিয়ামস (স্ট্রাইকার, অ্যাথলেটিক বিলবাও)
হেক্টর বেয়েরিন (ডিফেন্ডার, আর্সেনাল)
সার্জিও অ্যাসেনজো (গোলরক্ষক, ভিয়ারিয়াল)
ডেনিস সুয়ারেজ (মিডফিল্ডার, ভিয়ারিয়াল)
পও লোপেজ (গোলরক্ষক, এসপ্যানিওল)
পাবলো ফোরনালস (মিডফিল্ডার, মালাগা)
হোর্হে মেরে (ডিফেন্ডার, স্পোর্টিং গিহন)
জোনাথান কাস্ত্রো (ডিফেন্ডার, সেল্টা ভিগো)
মার্কো অ্যাসেনসিও (মিডফিল্ডার, এসপ্যানিওল)
ডিয়েগো ইয়োরেন্তে (ডিফেন্ডার, রায়ো ভ্যায়েকানো)
মিকেল ওয়্যারজাবাল (মিডফিল্ডার, রিয়াল সোসিয়েদাদ)
 
  • যারা বাদ পড়েছেন
পেপে হোসে রেইনা (গোলরক্ষক, নাপোলি)
ভিক্টর ভালদেস (গোলরক্ষক, স্ট্যান্ডার্ড লিয়েগ)
ইনিগো মার্টিনেজ (ডিফেন্ডার, রিয়াল সোসিয়েদাদ)
হুয়ান বার্নাট (ডিফেন্ডার, বায়ার্ন মিউনিখ)
হোসে লুইস গায়া (ডিফেন্ডার, ভ্যালেন্সিয়া)
আলবার্তো মোরেনো (ডিফেন্ডার, লিভারপুল)
নাচো ফার্নান্দেজ (ডিফেন্ডার, রিয়াল মাদ্রিদ)
মারিও গাসপার (ডিফেন্ডার, ভিয়ারিয়াল)
অস্কার ডে মার্কোস (ডিফেন্ডার, অ্যাথলেটিক বিলবাও)
সান্তি কাজোরলা (মিডফিল্ডার, আর্সেনাল)
অ্যালেক্স ভিদাল (ডিফেন্ডার, বার্সেলোনা)
হুয়ান মাতা (মিডফিল্ডার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
সার্জি রবার্টো (মিডফিল্ডার, বার্সেলোনা)
জাবি আলোনসো (মিডফিল্ডার, বায়ার্ন মিউনিখ)
ডিয়েগো কস্টা (স্ট্রাইকার, চেলসি)
ফার্নান্দো টরেস (স্ট্রাইকার, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
রবার্তো সলদাদো (স্ট্রাইকার, ভিয়ারিয়াল)
আলভারো নেগ্রেদো (স্ট্রাইকার, ভ্যালেন্সিয়া)
পাকো অ্যালসাসের (স্ট্রাইকার, ভ্যালেন্সিয়া)
দানি পারেজো (মিডফিল্ডার, ভ্যালেন্সিয়া)
বোর্হা বাস্তন (স্ট্রাইকার, এইবার)
ক্রিস্টিয়ান টেয়ো (মিডফিল্ডার, এফসি পোর্তো)
অ্যান্ডার হেরেরা (মিডফিল্ডার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
অ্যান্ডার ইতুরাসপে (মিডফিল্ডার, অ্যাথলেটিক বিলবাও)
হোসে কায়েহন (মিডফিল্ডার, নাপোলি)
জাভি মার্টিনেজ (ডিফেন্ডার, বায়ার্ন মিউনিখ)
জায়গা হয়নি কাজোরলা কিংবা মাতার
জায়গা হয়নি কাজোরলা কিংবা মাতার
 
দেখা যাচ্ছে, এইবার ইউরোর শিরোপা ধরে রাখার জন্য মোটামুটি তরুণদের উপরেই ভরসা রেখেছেন কোভ ভিসেন্তে দেল বস্ক। দলে এসেছেন একঝাঁক তরুণ ও অপরিচিত মুখ – এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এই মৌসুমে পরিচিতি পাওয়া উইঙ্গার লুকাস ভাজক্যুয়েজ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সল নিগুয়েজ। অনেক পরিচিত নামের দেখা নেই এবারের স্কোয়াডে। হুয়ান মাতা থেকে শুরু করে স্যান্টি কাজোরলা, ডিয়েগো কস্টা, ফার্নান্দো টরেস, জাবি আলোনসো, পেপে রেইনা – কাউকেই দলে রাখেননি কোচ। এমনকি স্ট্যান্ডবাই দলেও না। ফলে এবার মোটামুটি একটি নতুন একাদশ দেখা যাবে স্পেইনের। দেখে নেওয়া যাক স্পেইনের এই নতুন একাদশটা কিরকম হতে পারে এই ইউরোতে!
পুরো মৌসুম জুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফার্নান্দো টরেসের জায়গা হয়নি ইউরোতে
পুরো মৌসুম জুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফার্নান্দো টরেসের জায়গা হয়নি ইউরোতে
 
গোলরক্ষকের জায়গার জন্য ২৫ সদস্যের এই দলে যথারীতি আছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তী ইকার ক্যাসিয়াস। ভিসেন্তে দেল বস্কের অত্যন্ত প্রিয়ভাজন এই গোলরক্ষক এবার খুব সম্ভবত মূল একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁর জায়গাটা এবার অবশেষে নিতে পারেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে গত দুই-তিন মৌসুম ধরে দুর্দান্ত খেলা গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস।
 
সেন্টারব্যাক হিসেবে যথারীতি বার্সেলোনার জেরার্ড পিকে ও রিয়াল মাদ্রিদের সার্জিও রামোসের জায়গা নিশ্চিত। তাঁদের ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন পিকের বার্সা সতীর্থ মার্ক বার্ত্রা ও অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মিকেল সান হোসে। রাইটব্যাকে লড়াই হবে রিয়াল মাদ্রিদের দানি কারভাহাল ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হুয়ানফ্রান টরেসের মধ্যে। তবে মূল একাদশে দানি কারভাহালই খেলবেন বলে মনে করা হচ্ছে। লেফটব্যাকে খেলবেন বার্সার জর্ডি অ্যালবা। তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে আছেন চেলসির সেজার অ্যাজপিলিক্যুয়েটা।
 
মিডফিল্ডে দুই বার্সা সতীর্থ সার্জিও বুসকেটস ও অ্যান্দ্রেস ইনিয়েস্তার জায়গা পাওয়া নিশ্চিত। ৪-৩-৩ বা ৪-৫-১ ফর্মেশানে আরেক সেন্ট্রাল মিডফিল্ড পজিশানে লড়াই হবে মূলতঃ সেস ফ্যাব্রিগাস, কোকে ও থিয়াগো আলকানতারার মধ্যে। যেখানে সেস ফ্যাব্রিগাসের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশী।
1446747_Torquay_United
 
বরাবরই স্পেইন অ্যাটাকার হিসেবে অনেক সময় মিডফিল্ডারদেরই খেলিয়ে থাকে। যা আমরা দেখেছিলাম ইউরো ২০১২ এর সময়ে, স্ট্রাইকে অনেক সময় খেলেছিলেন সেস ফ্যাব্রিগাস। তাই এবারও সেরকম কিছু দেখলে আশ্চর্যের কিছু থাকবে না। তাই ৪-৩-৩ ফর্মেশানের অ্যাটাকার তিনজনের মধ্যে দুইপাশে দুইজন দেখা যাবে মিডফিল্ডারই থাকছেন কেউ না কেউ। কখনো থাকেন ইনিয়েস্তা, বা কখনো পেদ্রো। কস্টা বা টরেসের অনুপস্থিতিতে স্ট্রাইকে খেলার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী জুভেন্টাসে খেলা স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতার।
জায়গা হয়নি ডিয়েগো কস্টারও
জায়গা হয়নি ডিয়েগো কস্টারও
 
এই টুর্নামেন্টের মধ্যে দিয়ে বলতে গেলে একটা নতুন যুগে প্রবেশ করছে স্পেইন। গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে লজ্জাজনক বিদায়ের পর পরিবর্তনের একটা শোরগোল উঠেছিল স্পেইনে, যার জন্যই এবার মূলত স্পেইন মূল দলের পরিচিত মুখ জাভি, টরেস, আলোনসো, কস্টা, কাজোরলা, মাতা, সলদাদো, নেগ্রেদো কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। সাথে তাঁদের ফর্মহীনতা ও বুড়িয়ে যাওয়া ত ছিলই।
 
দেখা যাক, নতুন দিনের তরুণরা স্পেইনকে টানা তিন শিরোপা অর্জন করিয়ে দিতে পারে কি না!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

13 − 9 =