ইউরো টিম প্রিভিউ : ফ্রান্স

গতকাল নিজেদের মাটিতে ইউরো ২০১৬ খেলার জন্য ২৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন ফ্রান্স ম্যানেজার দিদিয়ের দেশম। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে ফ্রান্স ফেভারিট থেকেছে বলতে গেলে প্রায় সবসময়ই। গত ১৪টি ইউরোর মধ্যে আটবার অংশ নিয়ে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স (১৯৮৪, ২০০০) এবারেও নিজেদের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন হবার জন্যই লড়বে, সে কথা বলাই বাহুল্য। বিশেষত নিজেদের মাটিতে যখনই বৈশ্বিক কোন টুর্নামেন্ট আয়োজন হয়, ভাগ্যদেবী তখন মোটামুটি ফ্রান্সের উপর প্রসন্নই থাকেন বলা চলে। নিজেদের মাটিতে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ের কথা ত এখন আর কারোরই অবিদিত হয়, এমনকি নিজেদের দুই ইউরোর একটা ১৯৮৪ সালে ফ্রান্স যখন মিশেল প্লাতিনির নৈপুণ্যে জয় করে, তখনও স্বাগতিক দেশ ছিল তারাই। তাই এবারও নিজেদের মাটি থেকে ইউরোর শিরোপা অন্য কোথাও যাতে না যায় তাঁর জন্য ফ্রান্স প্রাণপণ লড়বে, সে কথা বলাই যায় নিঃসন্দেহে।

স্বাগতিক ফ্রান্স এবার ইউরো শুরু করবে গ্রুপ ‘এ’ তে থেকে। যেখানে তাদের লড়তে হবে রোমানিয়া, আলবেনিয়া, ও সুইজারল্যান্ডের মত দলের সাথে। দেখে নেওয়া যাক ফ্রান্সের দলটি কিরকম হল –

000_ARP4334111

  • গোলরক্ষক

হুগো লিওরিস (টটেনহ্যাম হটস্পার)

স্টিভ মানদান্দা (অলিম্পিক মার্শেই)

বেনোয়া কস্টিল (রেনে)

গোলবারে লিওরিসের থাকাটা নিশ্চিতই
গোলবারে লিওরিসের থাকাটা নিশ্চিতই

 

  • ডিফেন্ডার

বাক্যারি স্যানিয়া (ম্যানচেস্টার সিটি)

ক্রিস্টোফার ইয়্যালে (অলিম্পিক লিওঁ)

প্যাট্রিস এভরা (জুভেন্টাস)

লুকাস ডিনিয়ে (এএস রোমা)

লরাঁ কসিয়েনি (আর্সেনাল)

জেরেমি ম্যাথিউ (বার্সেলোনা)

রাফায়েল ভ্যারেন (রিয়াল মাদ্রিদ)

এলিয়াক্যুইম মাঙ্গালা (ম্যানচেস্টার সিটি)

ফ্রান্সের ডিফেন্সে থাকবেন এরাই
ফ্রান্সের ডিফেন্সে থাকবেন এরাই

 

  • মিডফিল্ডার

লাসানা দিয়ারা (অলিম্পিক মার্শেই)

ইয়োহান কাবাই (ক্রিস্টাল প্যালেস)

এনগোলো কান্তে (লেস্টার সিটি)

ব্লেইজ মাতুইদি (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

পল পগবা (জুভেন্টাস)

মুসা সিসোকো (নিউক্যাসল ইউনাইটেড)

দিমিত্রি পায়েত (ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড)

কিংসলে কোমান (বায়ার্ন মিউনিখ)

মিডফিল্ডে কোচ দেশমের ভরসা
মিডফিল্ডে কোচ দেশমের ভরসা

 

  • স্ট্রাইকার

অলিভিয়ের জিরৌ (আর্সেনাল)

অ্যান্থনি মার্সিয়াল (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

অ্যান্দ্রে-পিয়েরে জিনিয়্যাক (টিগ্রেস)

আতোয়াঁ গ্রিজম্যান (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)

আক্রমণভাগে গ্রিজম্যান-জিরৌ-মার্সিয়ালের থাকাটা নিশ্চিতই বলা চলে
আক্রমণভাগে গ্রিজম্যান-জিরৌ-মার্সিয়ালের থাকাটা নিশ্চিতই বলা চলে
  • স্ট্যান্ডবাই

আলফোনস আরেওলা (গোলরক্ষক, ভিয়ারিয়াল)

জিব্রিল সিদিবে (ডিফেন্ডার, লিল)

স্যামুয়েল উমতিতি (ডিফেন্ডার, অলিম্পিক লিওঁ)

মর্গান শ্নাইডারলিন (মিডফিল্ডার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

আদ্রিয়েন রাবিওত (মিডফিল্ডার, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

হাতেম বেন আরফা (মিডফিল্ডার, নিস)

অ্যালেক্সান্দ্রে ল্যাকাজেটে (স্ট্রাইকার, অলিম্পিক লিওঁ)

কেভিন গ্যামেইরো (স্ট্রাইকার, সেভিয়া)

থাকা হচ্ছেন বেনজেমা বা ভালবুয়েনার কারোরই
থাকা হচ্ছেন বেনজেমা বা ভালবুয়েনার কারোরই
  • দলে ডাক পাননি যাঁরা

করিম বেনজেমা (স্ট্রাইকার, রিয়াল মাদ্রিদ)

ম্যাথিউ ভালবুয়েনা (মিডফিল্ডার, অলিম্পইক লিওঁ)

মামাদু সাখো (ডিফেন্ডার, লিভারপুল)

লোইক পেরিন (ডিফেন্ডার, সেইন্ট এতিয়েঁ)

স্টেফানে রুফিয়ের (গোলরক্ষক, সেইন্ট এতিয়েঁ)

কার্ট জুমা (ডিফেন্ডার, চেলসি)

জফ্রি কনডগবিয়া (মিডফিল্ডার, ইন্টার মিলান)

ম্যাক্সিম গনালন্স (মিডফিল্ডার, অলিম্পিক লিওঁ)

পল-জর্জেস এনটেপ (মিডফিল্ডার, রেনেঁ)

নাবিল ফেকির (মিডফিল্ডার, অলিম্পিক লিওঁ)

ক্লেমেন্ত গ্রিনিয়ের (মিডফিল্ডার, অলিম্পিক লিওঁ)

রিও মাভুবা (মিডফিল্ডার, লিল)

মাপৌ ইয়াঙ্গা-এমবিওয়া (ডিফেন্ডার, অলিম্পিক লিওঁ)

বেঞ্জামিন স্ট্যাম্বুলি (মিডফিল্ডার, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

লেইভিন কুরজাওয়া (ডিফেন্ডার, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

 

দল দেখে বুঝতেই পারছেন, তারকার ছড়াছড়ি। ফলে আলাদা করে স্ট্যান্ডআউট সুপারস্টার হিসেবে কারোর নাম বলা যাচ্ছেনা। গোলপ্রহরী হিসেবে যেমন থাকছেন দলের অধিনায়ক, টটেনহ্যামের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক হুগো লিওরিস, ডিফেন্সে থাকবেন কসিয়েনি-ভ্যারেনের মত সুপারস্টারেরা। মিডফিল্ডে সবার চোখ থাকবে জুভেন্টাসের সুপারস্টার পল পগবার দিকে, সাথে এবার লেস্টারের হয়ে চমক জাগানো মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে ত আছেনই। থাকবেন গ্রিজম্যান, মার্সিয়াল, জিরৌ – এরাও।

 

দলে সেরকম কোন চমক নেই। তবুও বলার জন্য বলতে গেলে বলতে হবে অ্যান্দ্রে-পিয়েরে জিনিয়্যাক ও লাসানা দিয়ারার ডাক পাওয়াটা। যদিও দুইজনই কোচ দেশমের অনেক পছন্দের, বেশ কয়েকদিন ধরেই ডাক পাচ্ছেন, তাই জিনিয়্যাক মেক্সিক্যান লিগে খেললেও গোলের বন্যা বইয়ে কোচের নজরে যে ভালোভাবেই ছিলেন সেটা বোঝা যাচ্ছে। আর আর্সেনাল, চেলসি, পোর্টসমাউথ, রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে ক্যারিয়ার সায়াহ্নে মার্শেইতে যেন নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেয়েছেন লাসানা দিয়ারা। মৌসুমজুড়ে তাঁর ভালো পারফরম্যান্সের পুরষ্কারই দিয়েছেন তাই কোচ দিদিয়ের দেশম।  জুভেন্টাস থেকে বায়ার্ন মিউনিখে ধারে থাকা উইঙ্গার কিংসলে কোমানকে এই মৌসুমে কোচ পেপ গার্দিওলা সুযোগ দিয়েছেন যথেষ্ট, যা কোমানের ইউরোতে থাকা নিশ্চিত করেছে।

ক্যারিয়ার সায়াহ্নে মার্শেইয়ে এসে ঝলক দেখানো লাসানা দিয়ারাও আছেন এবার
ক্যারিয়ার সায়াহ্নে মার্শেইয়ে এসে ঝলক দেখানো লাসানা দিয়ারাও আছেন এবার

দলে ডাক পাননি বেশ কিছু নামকরা মুখ। সেক্স-টেপ স্ক্যান্ডালে জড়িয়ে সাসপেনশানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সুপারস্টার স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা দলে নেই। এই কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানো আরেক মিডফিল্ডার ম্যাথিউ ভালবুয়েনাকেও রাখা হয়নি এবারের ফ্রান্স দলে, সাথে ইনজুরি সমস্যা ত ছিলই ; যদিও দুইজনই ফ্রান্স দলের অপরিহার্য অংশ। ডোপ ঝামেলায় জড়িয়ে সাসপেনশানের খড়্গে থাকা লিভারপুল সেন্টারব্যাক মামাদৌ সাখোও খেলছেন না এবারের ইউরোতে। তবে পুরো মৌসুম জুড়ে প্রতিভার ঝলক দেখানো চেলসি সেন্টারব্যাক কার্ট জুমা বাদ পড়েছেন ইনজুরির কারণে। এমনিতেই ফ্রান্স দলে প্রতিভার অভাব নেই, তাই এরকম কয়েকজনকে বাদ দিতে হচ্ছে, দেওয়াটাই স্বাভাবিক। যে কারণে শেষ মুহূর্তে বাদ পড়েছে সেইন্ট এতিয়েঁর গোলরক্ষক স্টেফানে রুফিয়ের, বাজে মৌসুম কাটানোর খেসারত দিয়েছেন আর্সেনাল রাইটব্যাক ম্যাথিউ ডেবিউশি। ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে ইন্টার মিলানে নাম লিখিয়ে ফর্ম হারানো মিডফিল্ডার জফ্রি কনডগবিয়া জায়গা পাননি, জায়গা হয়নি লিওঁর উদীয়মান উইঙ্গার নাবিল ফেকিরেরও।

 

এবার দেখে নেওয়া যাক এই ইউরোতে ফ্রান্সের মূল একাদশ মোটামুটি কিরকম হতে পারে। স্বাগতিক হবার সুবাদে বাছাইপর্ব না খেলা ফ্রান্সের গোলবার আগলে রাখবেন অধিনায়ক হুগো লিওরিস। লিওরিসের পরিবর্ত হিসেবে থাকছেন মার্শেইয়ের স্টিভ মানদান্দা ও রেনেঁতে খেলা স্টেফান রুফিয়ের। ৪-৩-৩ ফর্মেশানে সেন্টারব্যাক পজিশানে মামাদু সাখো না থাকার সুবাদে জুটি বাঁধবেন রিয়াল মাদ্রিদের রাফায়েল ভ্যারেন ও আর্সেনালের লরাঁ কসিয়েনি। সাথে ব্যাকআপ হিসেবে বার্সেলোনার জেরেমি ম্যাথিউ ও ম্যানচেস্টার সিটির এলিয়াক্যুইম মাঙ্গালা থাকছেন। রাইটব্যাক ও লেফটব্যাক হিসেবে যথাক্রমে ম্যানচেস্টার সিটির বাক্যারি স্যানিয়া ও জুভেন্টাসের প্যাট্রিস এভরার জায়গা মোটামুটি নিশ্চিতই বলা চলে। রাইটব্যাক পজিশানে স্যানিয়ার সাথে লড়বেন লিওঁর ক্রিস্টোফার ইয়ালে ও লেফটব্যাকে ব্যাকআপ থাকবেন রোমার লুকাস ডিনিয়ে।

আছে লেস্টারের হয় এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগজয়ী মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে
আছে লেস্টারের হয় এবারের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগজয়ী মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে

মিডফিল্ডে জুভেন্টাস সেনসেশান পল পগবা ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের চিরনির্ভর সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ব্লেইজ মাতুইদির জায়গা নিশ্চিতই বলা চলে। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডের আরেকটি জায়গা পাওয়ার জন্য চূড়ান্ত লড়াই হবে ক্রিস্টাল প্যালেসের ইয়োহান কাবাই, অলিম্পিক মার্শেইয়ের লাসানা দিয়ারা, লেস্টার সিটির এনগোলো কান্তে ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মুসা সিসোকোর মধ্যে। তবে শেষপর্যন্ত ইয়োহান কাবাই শুরু করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

1445116_Union_Sportive_Creteil-Lusitanos_Football

তিন ফরোয়ার্ডের মধ্যে বেনজেমা ভালবুয়েনা না থাকার সুবাদে মূল লড়াই হবে জিনিয়্যাক, জিরৌ, মার্সিয়াল, পায়েত, গ্রিজম্যানের মধ্যে। সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে থাকতে পারেন আর্সেনালের অলিভিয়ের জিরৌ, দুই পাশে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অ্যান্থনি মার্সিয়াল ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের অ্যাতোয়াঁ গ্রিজম্যানের থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশী।

hi-res-f6e4e2ce1c3ccb77e91056029d31a377_crop_north

নিজেদের মাটিতে শিরোপা রাখার মিশনে কতটুকু সফল হয় ফ্রান্স, সে কথা জানা যাবে আগামী ১০ জুন থেকেই!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

13 + 1 =