ইউরো টিম প্রিভিউ : পর্তুগাল

পর্তুগাল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। লুইস ফিগোর পর্তুগাল। ইউরোতে ফেভারিট থাকা বিভিন্ন দলের মাঝে যেসব দল কখনই ইউরোর শিরোপা জয় করতে পারেনি তাদের মধ্যে পর্তুগাল অন্যতম। ১৪ ইউরোর মধ্যে ৬ বার অংশ নিয়ে একবারের রানার্সআপ ও তিনবারের সেমিফাইনালিস্ট পর্তুগাল বরাবরই ইউরোর অন্যতম শক্তি। ২০০৪ সালে নিজেদের দেশে অনুষ্ঠিত ইউরোতে শিরোপার সবচেয়ে কাছাকাছি যেতে পেরেছিল পর্তুগীজরা। কিন্তু বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অঘটন ঘটিয়ে সেবার ইউরো জিতে নেয় গ্রিস।

প্রথম বৈশ্বিক শিরোপার খোঁজে পর্তুগাল
প্রথম বৈশ্বিক শিরোপার খোঁজে পর্তুগাল

এবারেও পর্তুগাল দলে রয়েছেন বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ক্লাবের হয়ে ও নিজের হয়ে পুরষ্কার ও ট্রফির বন্যায় ভেসে যাওয়া এই ফরোয়ার্ডের আক্ষেপ বলতে ঐ একটাই, দেশের জন্য কিছু না জিততে পারা। যে কাজটা করতে পারেননি ইউসেবিও, যে কাজটা করতে পারেননি ফিগো। এবার কি ইউরো জিতে নিজের এই অতৃপ্তি মিটাতে পারবেন ক্রিস? সময়ই বলে দেবে সেটা।

এবার গ্রুপ ‘এফ’ এ লড়বে পর্তুগাল, গ্রুপসঙ্গী অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও আইসল্যান্ড। তো মোটামুটি বলা যায় চার দলের মধ্যে পর্তুগাল ছাড়া সেরকম ক্লিয়ার ফেভারিট আর অন্য কোন দল নেই এই গ্রুপে, বাকী তিন দলের মধ্যে যেকোন দল উঠতে পারে নকআউট রাউন্ডে। ফলে পর্তুগালের জন্য গ্রুপটিকে একরকম সহজই বলা চলে। কোন ফার্নান্দো সান্তোস এরই মধ্যে ইউরোর জন্য ২৩ সদস্যবিশিষ্ট দল ঘোষণা করে দিয়েছেন, দেখে নেওয়া যাক কে কে আছেন এই দলে –

 

পারবেন এবার ক্রিস?
পারবেন এবার ক্রিস?
  • গোলরক্ষক

রুই পাট্রিসিও (স্পোর্টিং লিসবন)

অ্যান্থনি লোপেস (অলিম্পিক লিওঁ)

এদুয়ার্দো কারভালহো (ডায়নামো জাগরেব)

গোলবার সামলাবেন রুই প্যাট্রিসিও
গোলবার সামলাবেন রুই প্যাট্রিসিও
  • ডিফেন্ডার

রিকার্ডো কারভালহো (মোনাকো)

ব্রুনো আলভেস (ফেনারবাচে)

পেপে (রিয়াল মাদ্রিদ)

রাফায়েল গুয়েরেইরো (লরিয়েঁ)

হোসে ফন্টে (সাউদাম্পটন)

সেড্রিক সোয়ারেস (সাউদাম্পটন)

ভিয়েইরিনহা (ভলফসবুর্গ)

এলিসেউ (বেনফিকা)

বর্ষীয়ান সেন্টারব্যাক রিকার্ডো কারভালহো থাকছেন এবারও
বর্ষীয়ান সেন্টারব্যাক রিকার্ডো কারভালহো থাকছেন এবারও

 

  • মিডফিল্ডার

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (রিয়াল মাদ্রিদ)

হোয়াও মটিনহো (মোনাকো)

দানিলো (এফসি পোর্তো)

রেনাটো স্যানচেস (বায়ার্ন মিউনিখ)

উইলিয়াম কারভালহো (স্পোর্টিং লিসবন)

অ্যান্দ্রে গোমেস (ভ্যালেন্সিয়া)

হোয়াও মারিও (স্পোর্টিং লিসবন)

রাফা সিলভা (স্পোর্টিং ব্রাগা)

আদ্রিয়েন (স্পোর্টিং লিসবন)

নানি (ফেনারবাচে)

রিকার্ডো কুয়ারেজমা (বেসিকতাস)

 

মিডফিল্ডে অভিজ্ঞ হিসেবে থাকছেন হোয়াও মটিনহো
মিডফিল্ডে অভিজ্ঞ হিসেবে থাকছেন হোয়াও মটিনহো
  • স্ট্রাইকার

এডার (সোয়ানসি সিটি)

  • বাদ পড়েছেন যাঁরা

ফাবিও কোয়েন্ত্রাও (ডিফেন্ডার, বেনফিকা)

রাউল মিরেলেস (মিডফিল্ডার, ফেনারবাচে)

ড্যানি (মিডফিল্ডার, জেনিত সেইন্ট পিটার্সবার্গ)

মিগুয়েল ভেলোসো (মিডফিল্ডার, ডায়নামো কিয়েভ)

ড্যানিয়েল ক্যারিকো (ডিফেন্ডার, সেভিয়া)

হোসে বসিংগুয়া (ডিফেন্ডার, ত্রাবজোনস্পোর)

হোয়াও পেরেইরা (ডিফেন্ডার, স্পোর্টিং লিসবন)

টিয়াগো মেন্ডেস (মিডফিল্ডার, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)

রুবেন নেভেস (মিডফিল্ডার, এফসি পোর্তো)

বার্নার্ডো সিলভা (মিডফিল্ডার, মোনাকো)

সিলভেস্ট্রে ভ্যারেলা (মিডফিল্ডার, এফসি পোর্তো)

নেলসন অলিভিয়েরা (স্ট্রাইকার, নটিংহ্যাম ফরেস্ট)

হেলদের পোস্টিগা (স্ট্রাইকার, রিও আভে)
দল থেকে বাদ পড়েছেন বেশ কিছু পরিচিত মুখ। ছোটবেলা থেকে যেসব খেলোয়াড়দের আমরা সবসময় পর্তুগালের হয়ে খেলতে দেখি থাকছেন না তাদের অনেকেই। যেমন – রাউল মিরেলেস, মিগুয়েল ভেলোসো, ড্যানি, টিয়াগো, হোসে বসিংগুয়া ইত্যাদি। নতুন প্রতিভাদের মধ্যে বাদ পড়েছেন পোর্তোর রুবেন নেভেস, বেনফিকার গনকালো গুয়েদেস ইত্যাদি। থাকছেন না রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে বেনফিকায় খেলতে যাওয়া লেফটব্যাক ফাবিও কোয়েন্ত্রাও-ও।

জায়গা হয়নি ফাবিও কোয়েন্ত্রাও কিংবা রাউল মিরেলেসের কারোরই
জায়গা হয়নি ফাবিও কোয়েন্ত্রাও কিংবা রাউল মিরেলেসের কারোরই

এবার দেখে নেওয়া যাক কিরকম হতে পারে পর্তুগালের মূল একাদশ।

গোলবারের নিচে স্পোর্টিং লিসবনের গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিওর থাকাটা নিশ্চিত। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জুটি বাঁধবেন রিয়াল মাদ্রিদের সেন্টারব্যাক পেপে ও ফেনারবাচের ব্রুনো আলভেস। তবে তাদের সাথে তুমুল লড়াই করবেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসির বর্ষীয়ান সেন্টারব্যাক রিকার্ডো কারভালহো। ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন সাউদাম্পটনের সেন্টারব্যাক হোসে ফন্টেও। রাইটব্যাকে ভলফসবুর্গের উইঙ্গার ভিয়েইরিনহার জায়গা পাওয়াটা নিশ্চিত, সাথে তাঁর ব্যাকআপ থাকবেন সাউদাম্পটনে খেলা সেড্রিক সোয়ারেস। আবার ভিয়েইরিনহা যেহেতু মূলত একজন উইঙ্গার, সেহেতু কখনো কখনো এমনও হতে পারে সেড্রিক সোয়ারেসকে রাইটব্যাকে খেলিয়ে কোচ ফার্নান্দো সান্তোস ভিয়েইরিনহাকে খেলাচ্ছেন রাইট উইংয়ে। বহুদিন পর কোন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে পর্তুগালের রাইটব্যাক পজিশানে দেখা যাবেনা হোসে বসিংগুয়া কিংবা হোয়াও পেরেইরার কাউকে।

লেফটব্যাক পজিশানে রিয়াল মাদ্রিদের ফাবিও কোয়েন্ত্রাও না থাকার কারণে বেনফিকার এলিসেউর খেলাটা মোটামুটি নিশ্চিত। তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে থাকছেন লরিয়েঁর তরুণ লেফটব্যাক রাফায়েল গুয়েরেইরো।

উইলিয়াম কারভালহো, রেনাটো স্যানচেস, হোয়াও মারিও, রাফা সিলভা - পর্তুগালের আশা ভরসা এবার অনেকটা নির্ভর করবে এদের উপরেই
উইলিয়াম কারভালহো, রেনাটো স্যানচেস, হোয়াও মারিও, রাফা সিলভা – পর্তুগালের আশা ভরসা এবার অনেকটা নির্ভর করবে এদের উপরেই

৪-৩-৩ ফর্মেশানে তিনজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের মধ্যে মোনাকোতে খেলা হোয়াও মটিনহোর জায়গা পাওয়া নিশ্চিত। বহুদিন পর কোন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ফেনারবাচের রাউল মিরেলেস কিংবা ডায়নামো কিয়েভের মিগুয়েল ভেলোসো ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের টিয়াগোর না থাকার কারণে বাকী দুই পজিশান জায়গা পাওয়ার জন্য লড়বেন এফসি পোর্তোর দানিলো, সদ্য বেনফিকা থেকে বায়ার্ন মিউনিখে নাম লেখানো মিডফিল্ডার রেনাটো স্যানচেস, স্পোর্টিং লিসবনের উইলিয়াম কারভালহো-হোয়াও মারিও-আদ্রিয়েন ও ভ্যালেন্সিয়ার আন্দ্রে গোমেস। তবে বাকী দুই পজিশানের জন্য এফসি পোর্তোর দানিলো ও স্পোর্টিং লিসবনের উইলিয়াম কারভালহোর খেলার সম্ভাবনাটাই সবচাইতে বেশী।

উইংয়ে রোনালদো-নানি জুটি দেখা যাবে এইবারও
উইংয়ে রোনালদো-নানি জুটি দেখা যাবে এইবারও

তিনজন অ্যাটাকারের মধ্যে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও নানির খেলা নিশ্চিত। স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে পারেন সোয়ানসি সিটিতে খেলা স্ট্রাইকার এডার। এডার যদি না খেলেন সেক্ষেত্রে পুরোদস্তুর স্ট্রাইকার হয়ে যাবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, সেক্ষেত্রে উইঙ্গার হিসেবে তাঁর জায়গায় চলে আসবেন রিকার্ডো কুয়ারেজমা বা ভিয়েইরিনহা। ভিয়েইরিনহা রাইট উইংয়ে খেললে তখন রাইটব্যাকে খেলবেন সেড্রিক সোয়ারেস।

1447078_Torquay_United
কখনো বৈশ্বিক কোন টুর্নামেন্ট না জেতা পর্তুগাল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ঝলকে এবার কি পারবে কিছু জিততে? এর মধ্যেই ৩১ বছরে পা দেওয়া রোনালদোর বয়স পরবর্তী ইউরোর সময়ে হবে ৩৫, তখন তরুণদের জন্য বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে নাও খেলতে পারেন তিনি।

সো, ইটস নাউ অর নেভার, ক্রিস!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

one × five =