ইউরো টিম প্রিভিউ : চেক প্রজাতন্ত্র

ইউরোতে চেক প্রজাতন্ত্র বরাবরই সমীহ জাগানিয়া শক্তি। সেটা চেক প্রজাতন্ত্র নামেই হোক, কিংবা সাবেক চেকোস্লোভাকিয়া নামেই হোক। চেকোস্লোভাকিয়া নামে ইউরো ১৯৬০ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত অংশ নেওয়া তিন টুর্নামেন্টের মধ্যে ইউরো ১৯৭৬ এ একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সাবেক চেকোস্লোভাকিয়া, পরে চেক প্রজাতন্ত্র নাম নিয়ে ১৯৯৬ ইউরো থেকে অংশ নেওয়া শুরু করে তারা, এবং নতুন পরিচয়ে এসে প্রথম আসরেই প্রায় বাজিমাত করে দিয়েছিল তারা, যদিও ফাইনালে অলিভার বিয়ারহফের জোড়া গোলে জার্মানির কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সান্ত্বনা পেতে হয় তাদের। এর পরে ২০০২ ইউরোতে তৃতীয় স্থান অধিকার করে তারা, মোটামুটি ইউরোতে চাকদের সাফল্যকথন বলতে এতটুকুই।

ইউরো ২০০৮ এ গ্রুপপর্ব থেক্লে বাদ পড়ে যাওয়া এবং ইউরো ২০১২ এর কোয়ার্টারফাইনালিস্ট চেকরা এবারেও টুর্নামেন্টে এসেছে ইতিবাচক কিছু অর্জন করার আশা নিয়েই। যদিও এবারে তাঁদের গ্রুপ ডি কে মৃত্যুকূপ বললেও কম বলা হবে, গ্রুপসঙ্গী হিসেবে এবার চেকরা পেয়েছে গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেইন, ক্রোয়েশিয়া ও তুরস্ককে।  যদিও যে দল বাছাইপর্বে নেদারল্যান্ডের মত দলকে দুই-দুইবার ঘোল খাইয়ে এসেছে ইউরোতে, সে দলের কাছে মৃত্যুকূপ বিশেষ কোন ব্যাপার হবার কথা না।

কোচ পাভেল ভরবা এরই মধ্যে ইউরো ২০১৬ এর জন্য ২৩ সদস্যের ইউরো স্কোয়াড ঘোষণা করে দিয়েছেন, দেখে নেওয়া যাক কিরকম হল দলটা।

 

  • গোলরক্ষক

পিওতর চেক (আর্সেনাল)

টমাস ভাচলিক (এফসি বাসেল)

টমাস কউবেক (স্লোভান লিবেরেক)

 

  • ডিফেন্ডার

মিশাল কাদলেচ (ফেনেরবাচে)

টমাস সিভোক (বার্সাসপোর)

ডেভিড লোম্বারস্কি (ভিক্টোরিয়া পালসিয়েনা)

থিওডোর জেব্রাসেলাসি (ওয়ের্ডার ব্রেমেন)

ড্যানিয়েল পিউডিল (শেফিল্ড ওয়েনসডে)

মারেক সুচি (এফসি বাসেল)

রোমান হুবনিক (ভিক্টোরিয়া পালসিয়েনা)

পাভেল কাদেরাবেক (১৮৯৯ হফেনহাইম)

 

  • মিডফিল্ডার

টমাস রসিচকি (আর্সেনাল)

ইয়ারোস্লাভ প্লাসিল (বোর্দো)

ভ্লাদিমির দারিদা (হার্থা বার্লিন)

ড্যানিয়েল কোলার (ভিক্টোরিয়া পালসিয়েনা)

বোরেক দোচকাল (স্পার্তা প্রাগ)

লেডিস্লাভ ক্রিয়েচি (স্পার্তা প্রাগ)

জোসেফ স্কুরাল (স্পার্তা প্রাগ)

জিরি স্কালাক (ব্রাইটন)

ডেভিড পাভেলকা (কাসিমপাসা)

 

  • স্ট্রাইকার

ডেভিড লাফাতা (স্পার্তা প্রাগ)

টমাস নেচিদ (বার্সাসপোর)

মিলান স্কিওডা (স্লাভিয়া প্রাগা)

 

  • উল্লেখযোগ্য যারা সুযোগ পাননি

টমাস কালাস (ডিফেন্ডার, মিডলসব্রো)

মাতেজ ভিদ্রা (স্ট্রাইকার, রিডিং)

ভাচলাভ প্রোসাচকা (ডিফেন্ডার, ওসমানলিসপোর)

দুই চেক সুপারস্টার - টমাস রসিচকি ও পিওতর চেক
দুই চেক সুপারস্টার – টমাস রসিচকি ও পিওতর চেক

দলে সুপারস্টারের নাম করতে গেলে অবশ্যই আর্সেনাল সতীর্থ পিওতর চেক ও টমাস রসিচকির কথা বলা লাগবে। বিশেষত এবার প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী গোলরক্ষক চেক এর এবার বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে ডিফেন্সিভ নেতা হিসেবে। এবার যেসব দল ইউরোর টিকেট পেয়েছে, তাঁদের মধ্যে সবচাইতে বেশী (১০ ম্যাচে ১৪ গোল) গোল খেয়েছে চেকরা, ক্লিনশিট রাখতে পারেনি একটাও। ফলে ডিফেন্সটা ভালোই ভোগাতে পারে চেকদের, আর এখানেই কেরামতি দেখানো লাগবে পিওতর চেকের। গোলরক্ষক হিসেবে চেকের জায়গা তাই নিশ্চিত।

Czech-Republic-football-national-team

এবার চোখ দেওয়া যাক ডিফেন্সে। এখানে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে ফেনেরবাচের মিশাল কাদলেচ ও বার্সাসপোরের টমাস সিভোকের জায়গা পাওয়া নিশ্চিত। তাঁদের সাথে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়বেন এফসি বাসেলের মারেক সুচি। দুই ফুলব্যাকের মধ্যে রাইটব্যাক হিসেবে খেলবেন ১৮৯৯ হফেনহাইমে খেলা পাভেল কাদেরাবেক, তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন গত ইউরোতে দুর্দান্ত খেলে লাইমলাইটে আসা ওয়ের্ডার ব্রেমেনের থিওডোর জেব্রাসেলাসি। লেফটব্যাক হিসেবে থাকছেন ভিক্টোরিয়া পালসিয়েনার অভিজ্ঞ লেফটব্যাক ডেভিড লিম্বারস্কি, তাঁর ব্যাকআপ থাকতে পারেন শেফিল্ড ওয়েনসডের ড্যানিয়েল পিউডিল, আবার লেফটব্যাকেও ভালো খেলতে পারার কারণে এই পজিশানেও ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন জেব্রাসেলাসি।

৪-২-৩-১ এ খেলাতে পছন্দ করা কোচ পাভেল ভরবা’র দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী বোর্দোর ইয়ারোস্লাভ প্লাসিল ও হার্থা বার্লিনের ভ্লাদিমির দারিদার। এই দুইজনকে জায়গা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট লড়াই করতে হবে কাসিমপাসার ডেভিড পাভেলকা ও ব্রাইটনে খেলা মিডফিল্ডার জিরি স্কালাকের সাথে। তাঁদের সামনে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে বর্ষীয়ান সুপারস্টার টমাস রসিচকি খেলছেন, কোন কারণে তিনি না খেলতে পারলে ব্যাকআপ খেলছেন ভিক্টোরিয়া পালসিয়েনার ড্যানিয়েল কোলার। দুই উইংয়ে খেলার জন্য স্পার্তা প্রাগের দুই সতীর্থ লেডিস্লাভ ক্রিয়েচি ও বোরেক দোচকালের জায়গা পাওয়াটা নিশ্চিত। একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে জায়গা পাওয়ার জন্য মূল একাদশে লড়াই হবে স্পার্তা প্রাগের ডেভিড লাফাতা ও বার্সাসপোরের টমাস নেচিদের মধ্যে।

1453139_Torquay_United

২০০৮ সালে তুরস্কের সাথে একই গ্রুপে পড়েছিল চেকরা, গ্রুপপর্বের শেষম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ ১৫ মিনিটে তিন গোল খেয়ে ৩-২ গোলে হেরে ইউরো থেকে বিদায় নিতে হয় চেকদের। এবারও তুরস্ক আর চেকরা একই গ্রুপে। চেকরা কি পারবে সেই প্রতিশোধ নিতে? সময়ই বলে দেবে চেকদের দৌড় কদ্দুর হয়!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

11 + 7 =