ইউরো টিম প্রিভিউ : ক্রোয়েশিয়া

টুর্নামেন্টের অন্যতম ডার্কহর্স ক্রোয়েশিয়া এবার লড়ছে গ্রুপ ‘ডি’ তে, প্রতিপক্ষ বাকী তিন দল সহজ নয় মোটেও। গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেইনের সাথে চেক প্রজাতন্ত্র ও তুরস্ক মিলিয়ে গ্রুপ ‘ডি’ কে এবারের ইউরোর অন্যতম কঠিন গ্রুপ হিসেবে আখ্যা দেওয়াই যায়। ১৯৬০ সাল থেকে ইউরো শুরু হলেও, সাবেক যুগোশ্লাভিয়ার অংশ ক্রোয়েশিয়া ১৯৯৬ সালের আগ পর্যন্ত ইউরোতে অংশ নিতে পারেনি। তারপর অনুষ্ঠিত পাঁচটা ইউরোর মধ্যে দুইবার খেলেছে কোয়ার্টার ফাইনাল (১৯৯৬, ২০০৮)। এবারে অবশ্যই কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পার হয়ে ক্রোয়েশিয়া উঠতে চাইবে আরও উঁচুতে, যেতে চাইবে আরও অনেক দূর। দুর্দান্ত শক্তিশালী মিডফিল্ডের অধিকারী ক্রোয়েশিয়ার হেড কোচ আন্তে কাকিচ এরইমধ্যে ইউরো অভিযানে যাওয়ার জন্য ২৩ সদস্যবিশিষ্ট ক্রোয়েশিয়া দল ঘোষণা করে দিয়েছেন, দেখে নেওয়া যাক কিরকম হল দলটা।

  • গোলরক্ষক

লভ্রে কালিনিচ (হাদজুক স্প্লিট)

ড্যানিয়েল সুবাসিচ (মোনাকো)

ইভান ভারগিচ (রিয়েকা)

  • ডিফেন্ডার

দারিও সরনা (শাখতার দোনেতস্ক)

টিন জেদভাজ (বেয়ার লেভারকুসেন)

সিমে ভ্রিসালকো (সাসসুয়োলো)

ইভান স্ত্রিনিচ (নাপোলি)

গর্ডন শিল্ডেনফেল্ড (ডায়নামো জাগ্রেব)

ভেদরান চরলুকা (লোকোমোটিভ মস্কো)

দমাগোজ ভিদা (ডায়নামো কিয়েভ)

  • মিডফিল্ডার

ইভান রাকিটিচ (বার্সেলোনা)

মাত্তেও কোভাচিচ (রিয়াল মাদ্রিদ)

লুকা মডরিচ (রিয়াল মাদ্রিদ)

ইভান পেরিসিচ (ইন্টার মিলান)

মার্সেলো ব্রোজোভিচ (ইন্টার মিলান)

আন্তে করিচ (ডায়নামো জাগ্রেব)

মার্কো রগ (ডায়নামো জাগ্রেব)

মিলান বাদেল (ফিওরেন্টিনা)

মিডফিল্ডে তারার হাট ক্রোয়েশিয়ায়
মিডফিল্ডে তারার হাট ক্রোয়েশিয়ায়

 

  • স্ট্রাইকার

মারিও মান্দজুকিচ (জুভেন্টাস)

অন্দ্রে ক্রামারিচ (১৮৯৯ হফেনহাইম)

নিকোলা কালিনিচ (ফিওরেন্টিনা)

মার্কো পিয়াকা (ডায়নামো জাগ্রেব)

দুইয়ে চপ (মালাগা)

 

কোচের সাথে ঝামেলা পাকিয়ে দলে জায়গা হারিয়েছেন সেন্টারব্যাক দেয়ান লভ্রেন
কোচের সাথে ঝামেলা পাকিয়ে দলে জায়গা হারিয়েছেন সেন্টারব্যাক দেয়ান লভ্রেন
  • উল্লেখযোগ্য যারা বাদ পড়লেন

দেয়ান লভ্রেন (ডিফেন্ডার, লিভারপুল)

ড্যানিয়েল প্র্যানইচ (ডিফেন্ডার, প্যানাথিনাইকোস)

অ্যালেন হালিলহোভিচ (মিডফিল্ডার, স্পোর্টিং গিহন)

আন্তে রেবিচ (স্ট্রাইকার, হেলাস ভেরোনা)

এদুয়ার্দো (স্ট্রাইকার, শাখতার দোনেতস্ক)

 

কোচের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে তুখোড় ফর্মে থাকা সত্বেও দলে জায়গা হারিয়েছেন সেন্টারব্যাক দেয়ান লভরেন। মোটামুটি দলে গুরুত্বপূর্ণ অনুপস্থিতি বলতে এই একজনই। গোলবারের নিচে মোনাকোর গোলরক্ষ ড্যানিয়েল সুবাসিচের জায়গাটা পাকা, তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন রিয়েকার ইভান ভারগিচ ও হাদজুক স্প্লিটের লভ্রে কালিনিচ।

মূল একাদশে স্ট্রাইকার হিসেবে মারিও মান্দজুকিচের খেলার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী
মূল একাদশে স্ট্রাইকার হিসেবে মারিও মান্দজুকিচের খেলার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী

লিভারপুলের দেয়ান লভ্রেন না থাকার কারণে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জুটি বাঁধছেন ডায়নামো কিয়েভের দমাগোজ ভিদা ও লোকোমোটিভ মস্কোর অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক ভেদরান চরলুকা। তাঁদের ব্যাকআপের দায়িত্ব পালন করবেন ডায়নামো জাগ্রেবের গর্ডন শিল্ডেনফেল্ড। রাইটব্যাকে আছেন পরিচিত মুখ, দলের কিংবদন্তী অধিনায়ক দারিও সরনা, যদিও এইবার তাঁকে জায়গা পাওয়ার জন্য সাসসুয়োলোর উঠতি রাইটব্যাক সিমে ভ্রিসালকোর সাথে যথেষ্ট লড়াই করতে হবে। লেফটব্যাকে অভিজ্ঞ ড্যানিয়েল প্র্যানইচ না থাকার কারণে জায়গা পেতে পারেন নাপোলির ইভান স্ত্রিনিচ। উইঙ্গার ইভান পেরিসিচকেও মাঝে মাঝে ফুলব্যাক হিসেবে দেখা যায়।
রাকিটিচ, মডরিচ, কোভাচিচ, ব্রোজোভিচ, পেরিসিচ – দলে এত সব বিশ্বমানের মিডফিল্ডার থাকার কারণে সবাইকে জায়গা দিতে গিয়ে কোচ আন্তে ককিচ প্রায়ই দলকে ৪-৫-১ ফর্মেশানে খেলিয়ে থাকেন। সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড থেকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ড পর্যন্ত মাঝের যেকোন জায়গাতেই খেলে থাকেন বার্সেলোনার ইভান রাকিটিচ, ইন্টার মিলানের মার্সেলো ব্রোজোভিচ, রিয়াল মাদ্রিদের দুই সতীর্থ লুকা মডরিচ ও মাতেও কোভাচিচ। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে ব্যাকআপ হিসেবে আছেন ফিওরেন্টিনার মিলান বাদেল। ওয়াইড মিডফিল্ডে ইভান পেরিসিচ খেলে থাকেন সাধারণত, আরেক পাশে স্পোর্তিং গিহনের অ্যালেন হালিলহোভিচ না থাকার কারণে খেলতে পারেন ডায়নামো জাগ্রেবের মার্কো পিয়াকা। আবার কখনো কখনো মাতেও কোভাচিচ ও মার্সেলো ব্রোজোভিচকে ওয়াইড মিডফিল্ডার হিসেবেও খেলতে দেখা যায়, সব্যসাচী যাকে বলে আরকি!

1455953_NK_Croatia_Sesvete
একজন স্ট্রাইকার হিসেবে জুভেন্টাসের মারিও মান্দজুকিচের খেলার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী, তাঁকে জায়গা পাওয়ার জন্য মূলতঃ লড়াই করা লাগবে ১৮৯৯ হফেনহাইমের অন্দ্রে ক্রামারিচ ও ফিওরেন্টিনার হয়ে ভালো ফর্মে থাকা নিকোলা কালিনিচের সাথে।

বিশ্বমানের মিডফিল্ড ও অ্যাটাক নিয়ে ক্রোয়েশিয়া কি সত্যি সত্যি পারবে এবার তাক লাগিয়ে দিতে আরেকবার ১৯৯৮ বিশ্বকাপের মত? ডেভর সুকারের উত্তরসূরিদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে সেটারই!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × five =