ইউরো টিম প্রিভিউ : ইতালি

১৯৬৮ সালে সর্বপ্রথম ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া ইতালি প্রথমবারই দিনো জফ, জিয়াচিন্তো ফাচেত্তি, অ্যাঞ্জেলো ডমেনজিনিদের নৈপূণ্যে শিরোপা জয় করে, যেটা কিনা এখনো পর্যন্ত ইউরোতে ইতালিয়ানদের সর্বোচ্চ সাফল্য হয়ে রয়েছে। পরবর্তীতে ২০০০ ও ২০১২ ইউরোতে ফাইনালে উঠলেও ইউরোর স্বাদ পাওয়া হয়নি বিশ্বকাপজয়ী বুফন, পিরলো, টট্টি, দেল পিয়েরো, ডি রসি, নেস্তাদের। অনাস্বাদিত ইউরোর স্বাদ এবার পাওয়ার লক্ষ্যে ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ আন্তোনিও কন্তে বেশ কিছুদিন আগেই। দেখে নেওয়া যাক কিরকম হল আজ্জুরিদের ইউরো দলটা।

 

  • গোলরক্ষক

জিয়ানলুইজি বুফন (জুভেন্টাস)

ফেদেরিকো মারচেত্তি (লাজিও)

সালভাতোরে সিরিগু (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

গোলবারে ইতালির আস্থার জায়গা - জিজি বুফন
গোলবারে ইতালির আস্থার জায়গা – জিজি বুফন

 

  • ডিফেন্ডার

জিওর্জিও কিয়েলিনি (জুভেন্টাস)

লিওনার্দো বোনুচ্চি (জুভেন্টাস)

আন্দ্রেয়া বারজাগলি (জুভেন্টাস)

মাত্তেও দারমিয়ান (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)

অ্যাঞ্জেলো ওগবোন্না (ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড)

মাত্তিয়া ডি শিলিও (এসি মিলান)

 

  • মিডফিল্ডার

ড্যানিয়েলে ডি রসি (এএস রোমা)

অ্যালেসসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি (এএস রোমা)

মার্কো পারোলো (লাজিও)

আন্তোনিও কানদ্রেভা (লাজিও)

লরেঞ্জো ইনসিনিয়ে (নাপোলি)

স্টেফানো স্টুরারো (জুভেন্টাস)

থিয়াগো মোত্তা (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

ফেদেরিকো বার্নারডেসকি (ফিওরেন্টিনা)

ইম্যানুয়েলে জাক্কেরিনি (বোলোনিয়া)

 

  • স্ট্রাইকার

গ্রাজিয়ানো পেলে (সাউদাম্পটন)

এডার (ইন্টার মিলান)

স্টেফান এল শারাউই (এএস রোমা)

সিমিওনে জাজা (জুভেন্টাস)

চিরো ইমোবিলে (তোরিনো)

 

  • উল্লেখযোগ্য যারা বাদ পড়েছেন :

আন্দ্রেয়া পিরলো (মিডফিল্ডার, নিউ ইয়র্ক সিটি)

মাত্তিয়া পেরিন (গোলরক্ষক, জেনোয়া)

ডেভিডে আসতোরি (ডিফেন্ডার, ফিওরেন্টিনা)

ড্যানিয়েলে রুগানি (ডিফেন্ডার, জুভেন্টাস)

অ্যান্দ্রেয়া রানোচ্চিয়া (ডিফেন্দার, সাম্পদোরিয়া)

লুকা আন্তোনেল্লি (ডিফেন্ডার, এসি মিলান)

ডেভিডে সান্তন (ডিফেন্ডার, ইন্টার মিলান)

ডমেনিকো ক্রিসিতো (ডিফেন্ডার, জেনিত সেইন্ট পিটার্সবার্গ)

ম্যানুয়েল পাসকুয়াল (ডিফেন্ডার, ফিওরেন্টিনা)

রিকার্ডো মন্টোলিভো (মিডফিল্ডার, এসি মিলান)

জিয়াকোমো বোনাভেন্তুরা (মিডফিল্ডার, এসি মিলান)

মার্কো ভেরাত্তি (মিডফিল্ডার, প্যারিস সেইন্ট জার্মেই)

ক্লদিও মার্কিসিও (মিডফিল্ডার, জুভেন্টাস)

আন্দ্রেয়া বার্তোলাচ্চি (মিডফিল্ডার, এসি মিলান)

অ্যালেসসিও সার্সি (মিডফিল্ডার, জেনোয়া)

সেবাস্তিয়ান জিওভিঙ্কো (মিডফিল্ডার, টরন্টো)

জিয়ানলুকা ডনারুমা (গোলরক্ষক, এসি মিলান)

ডমেনিকো বেরার্দি (স্ট্রাইকার, সাসসুয়োলো)

মানোলো গাবিয়াডিনি (স্ট্রাইকার, নাপোলি)

ফ্র্যাঙ্কো ভাজকেজ (মিডফিল্ডার, পালের্মো)

মারিও বালোতেলি (স্ট্রাইকার, লিভারপুল)

 

ইতালির গ্রুপ ‘ই’ কে এবার চাইলে মৃত্যুকূপ বলা যেতেই পারে। গ্রুপে আছে হ্যাজার্ড-লুকাকু-ডে ব্রুইনিয়া-বেনটেকের বেলজিয়াম, আরও আছে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের সুইডেন। ডার্কহর্স হিসেবে যেকোন মুহুর্তে চমক দেখাতে পারে রবি কিন এর আয়ারল্যান্ডও। তাই ইউরো স্বপ্ন পূরণে এবার ইতালিকে যথেষ্টই কাঠখড় পোড়াতে হবে।

 

দলে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার অ্যান্দ্রেয়া পিরলো, ক্লদিও মার্কিসিও কিংবা মার্কো ভেরাত্তি – এদের অনুপস্থিতি যথেষ্টই ভোগাবে। কেননা মোত্তা, ডি রসি কিংবা পারোলো, স্টুরারোদের কেউই অ্যাঙ্করম্যান নন। যেই ডিপ লাইয়িং প্লেমেকার বা ‘রেজিস্টা’ পজিশানের জন্য ইতালি বিখ্যাত, এবার সেই পজিশানে খেলার মত সেরকম সামর্থ্যবান নন কেউই। ভেরাত্তি এবং মার্কিসিও দলে জায়গা হারিয়েছেন ইনজুরির কারণে, আর বহুদিনের বহু যুদ্ধের যোদ্ধা পিরলোকে না নেওয়ার কারণ তাঁর মেজর লিগ সকারে পাড়ি জমানো ও অবশ্যই, বয়স বেড়ে যাওয়া। তাও, এখনকার স্টুরারো কিংবা পারোলোদের থেকে পিরলোর এফেক্ট যেকোনো ক্ষেত্রেই বেশী হতে পারত, সে কথা মোটামুটি বাজি ধরে বলাই যায়।

থাকছেননা এবার মায়েস্ত্রো পিরলো
থাকছেননা এবার মায়েস্ত্রো পিরলো

গোলবারে গত দুই দশক ধরে ইতালির আশাভরসার জায়গা হয়ে থাকা জিয়ানলুইজি ‘জিজি’ বুফন থাকছেন আবারও। সন্দেহাতীত ভাবে তিনিই গোলরক্ষক হিসেবে থাকবেন, তাঁর ব্যাকআপ থাকবেন লাজিওর ফেদেরিকো মারচেত্তি ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের সালভাতোরে সিরিগু।

৩-৫-২ ফর্মেশানের ভক্ত কন্তে ইতালিকে মাঝেমাঝে খেলান ৪-৩-৩ ফর্মেশানেও। তবে ইউরোতে ৩-৫-২ ফর্মেশানেই খেলাবেন, সে কথা মোটামুটি বলে দেওয়া যায়। জুভেন্টাসে থাকার সময় টানা তিনবার সিরি আ জেতা এই কোচ সেখানেও এইরকম ৩-৫-২ ফর্মেশানেই খেলাতেন দলকে। সৌভাগ্যবশতঃ ৩-৫-২ ফর্মেশানে খেলানোর জন্য সেন্টারব্যাক তিনজন হিসেবে সেই জুভেন্টাসের তিন সাবেক শিষ্যকেই পেয়েছেন কন্তে – জিওর্জিও কিয়েলিনি, আন্দ্রেয়া বারজাগলি ও লিওনার্দো বোনুচ্চি। ফিওরেন্টিনার ডেভিডে আসতোরি, জুভেন্টাসের ড্যানিয়েলে রুগানি, কিংবা সাম্পদোরিয়ার আন্দ্রেয়া রানোচ্চিয়া না থাকার কারণে তাঁদের ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেডে খেলা, জুভেন্টাসে কন্তেরই সাবেক আরেক শিষ্য আঞ্জেলো ওগবোন্না। মাঝেমাঝে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রাইটব্যাক মাত্তেও দারমিয়ানকেও সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলান কন্তে।

দুই উইংব্যাক হিসেবে ডানদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাত্তেও দারমিয়ান ও বামদিকে এসি মিলানের মাত্তিয়া ডে শিলিওর খেলা নিশ্চিত। তাঁদের ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন লাজিওর আন্তোনিও কান্দ্রেভা কিংবা এএস রোমার আলেসসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি।

ইতালির সেন্ট্রাল ডিফেন্সে পরিচিত মুখ - বারজাগলি, কিয়েলিনি, বোনুচ্চি
ইতালির সেন্ট্রাল ডিফেন্সে পরিচিত মুখ – বারজাগলি, কিয়েলিনি, বোনুচ্চি

আগেই বলেছিলাম যেটা, আন্দ্রেয়া পিরলো, ক্লদিও মার্কিসিও, মার্কো ভেরাত্তি না থাকার কারণে এবার ইতালির সবচেয়ে সঙ্গিন জায়গা হচ্ছে সেন্ট্রাল মিডফিল্ড। চোটজর্জর মিডফিল্ডে বর্ষীয়ান ডেস্ট্রয়্যার মিডফিল্ডার এএস রোমার ড্যানিয়েলে ডি রসির খেলা নিশ্চিত। তাঁর সঙ্গী হবার জন্য সবচেয়ে এগিয়ে আছেন লাজিওতে খেলা মার্কো পারোলো ও প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের থিয়াগো মোত্তা। আবার আন্তোনিও কানদ্রেভা, আলেসসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জিদের মত ওয়াইড মিডফিলদারদেরকেও মাঝে মাঝে সেন্টারে এনে খেলান আন্তোনিও কন্তে। ব্যাকআপ হিসেবে আরও থাকবেন জুভেন্টাসের তরুণ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার স্টেফানো স্টুরারো।

1455871_Torquay_United

বাকী থাকে দুইজন স্ট্রাইকার। এখানে খেলার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন সাউদাম্পটনের হয়ে তুখোড় ফর্মে থাকা, এবার লিগে ৩০ ম্যাচে ১১ গোল করা গ্রাজিয়ানো পেলে, বাকী স্ট্রাইকিং পজিশনটার জন্য লড়াই হবে ইন্টার মিলানের এডার মার্টিনস, তোরিনোর চিরো ইমোবিলে ও জুভেন্টাসের সিমিওনে জাজার মধ্যে। ব্যাকআপ থাকছেন মিলান থেকে এএস রোমায় গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের গতিপথ ফিরে পাওয়া স্টেফান এল শারাউই।

দেখা যাক, ইতালির এই তুলনামূলকভাবে অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে তরুণ এই দলটি অধিনায়ক জিজি বুফনকে ইউরোজয় করতে সাহায্য করতে পারে কি না!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

twenty − two =