ইউরো টিম প্রিভিউ : ইংল্যান্ড

যথারীতি, নিজেদের দেশের মিডিয়ার কল্যাণেই হোক আর স্কোয়াডে থাকা বড় বড় নামের ভারেই হোক, এবারও আরেকটি বৈশ্বিক ফুটবল টুর্নামেন্টের আগে ফেভারিট হিসেবেই যাচ্ছে ইংল্যান্ড। এই পর্যন্ত একবারও ইউরো না জেতা ইউরো ২০১৬ এর ফেভারিট এই দল এর মধ্যে অনুষ্ঠিত ১৪ ইউরোর মধ্যে অংশ নিয়েছে ৮টায়, যার মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে নিজের দেশে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ ইউরোতে কোচ টেরি ভেনাবলসের অধীনে তৃতীয় স্থান অর্জন করা। গতবারের আসরের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড কি পারবে নিজেদের গায়ে “মিডিয়া-ডার্লিং” এর তকমাটা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আসলেই কিছু জিতে দেখাতে? জেরার্ড-ল্যাম্পার্ড-বেকহ্যাম-ওয়েন-স্কোলস-টেরি-কোল রা যা করে দেখাতে পারেননি সেটা কি করে দেখাতে পারবেন রুনি-স্টারিজ-হেন্ডারসন-কেইন-ভার্ডি রা? জানার জন্য টিভির পর্দায় চোখ রাখতে হবে আসছে ১০ জুন থেকে।
 
এবারের ইউরোতে গ্রুপ ‘বি’ তে সুযোগ পাওয়া ইংল্যান্ড প্রথমেই গ্রুপপর্বে লড়বে রাশিয়া, ওয়েলস ও স্লোভাকিয়ার সাথে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, গ্রুপটি সহজ নয় মোটেও, গ্রুপপর্ব উতরাতে হলে প্রথমেই গ্যারেথ বেলের ওয়েলস, জাগোয়েভ-আকিনফিভের রাশিয়া ও হামশিক-স্কার্টেলের স্লোভাকিয়ার পরীক্ষায় পাস করা লাগবে ইংল্যান্ডের। এর আগেও চারবার (১৯৮০, ১৯৮৮, ১৯৯২, ২০০০) ইউরোতে গ্রুপপর্বে বাদ পড়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের কপালে গ্রুপপর্বে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে তাই এবারেও।
England-v-Estonia-UEFA-EURO-2016-Qualifier
 
আজ ইউরো ২০১৬ তে অংশ নিতে যাওয়া ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন ইংল্যান্ডের আলোচিত-সমালোচিত কোচ রয় হজসন। দেখে নেওয়া যাক কিরকম হল স্কোয়াডটা –
 
  • গোলরক্ষক :
 
জ্যো হার্ট (ম্যানচেস্টার সিটি)
ফ্রেইজার ফরস্টার (সাউদাম্পটন)
টম হিটন (বার্নলি)
গোলবারে জ্যো হার্টের থাকাটা নিশ্চিত
গোলবারে জ্যো হার্টের থাকাটা নিশ্চিত
 
  • ডিফেন্ডার :
 
ন্যাথানিয়েল ক্লাইন (লিভারপুল)
জন স্টোনস (এভারটন)
ড্যানি রোজ (টটেনহ্যাম হটস্পার)
কাইল ওয়াকার (টটেনহ্যাম হটস্পার)
ক্রিস স্মলিং (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
গ্যারি ক্যাহিল (চেলসি)
রায়ান বার্ট্র্যান্ড (সাউদাম্পটন)
ডিফেন্সে দেখা যেতে পারে এদেরকেই
ডিফেন্সে দেখা যেতে পারে এদেরকেই
 
  • মিডফিল্ডার :
 
জর্ডান হেন্ডারসন (লিভারপুল)
ডেলি আলি (টটেনহ্যাম হটস্পার)
জ্যাক উইলশেয়ার (আর্সেনাল)
অ্যাডাম লালানা (লিভারপুল)
জেইমস মিলনার (লিভারপুল)
ড্যানি ড্রিঙ্কওয়াটার (লেস্টার সিটি)
রস বার্কলি (এভারটন)
ফাবিয়ান ডেলফ (ম্যানচেস্টার সিটি)
এরিক ডায়ার (টটেনহ্যাম হটস্পার)
রাহিম স্টার্লিং (ম্যানচেস্টার সিটি)
অ্যান্দ্রোস টাউনসেন্ড (নিউক্যাসল ইউনাইটেড)
মিলনার-বার্কলি-লালানা ; মিডফিল্ডে এদের থাকার সম্ভাবনাই বেশী, কিন্তু ডায়ার-আলি-হেন্ডারসন ; চলে আসতে পারেন এদের যে কেউই
মিলনার-বার্কলি-লালানা ; মিডফিল্ডে এদের থাকার সম্ভাবনাই বেশী, কিন্তু ডায়ার-আলি-হেন্ডারসন ; চলে আসতে পারেন এদের যে কেউই
 
  • স্ট্রাইকার :
 
ওয়েইন রুনি (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
ড্যানিয়েল স্টারিজ (লিভারপুল)
জেইমি ভার্ডি (লেস্টার সিটি)
হ্যারি কেইন (টটেনহ্যাম হটস্পার)
মার্কাস র‍্যাশফোর্ড (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
তিন অ্যাটাকার ; স্টারিজ, ভার্ডি - চলে আসতে পারেন তাঁরাও
তিন অ্যাটাকার ; স্টারিজ, ভার্ডি – চলে আসতে পারেন তাঁরাও
 
  • দলে ডাক পেলেন না যারা :
 
জার্মেইন ডেফো (স্ট্রাইকার, স্যান্ডারল্যান্ড)
থিও ওয়ালকট (মিডফিল্ডার, আর্সেনাল)
ড্যানি ওয়েলবেক (স্ট্রাইকার, আর্সেনাল)
ফিল জ্যাগিয়েলকা (ডিফেন্ডার, এভারটন)
লেইটন বেইনেস (ডিফেন্ডার, এভারটন)
জ্যাক বাটল্যান্ড (গোলরক্ষক, স্টোক সিটি)
লুক শ (ডিফেন্ডার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
ফিল জোন্স (ডিফেন্ডার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
অ্যাশলি ইয়াং (মিডফিল্ডার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
অ্যালেক্স অক্সলেড চেইম্বারলাইন (মিডফিল্ডার, আর্সেনাল)
মাইকেল ক্যারিক (মিডফিল্ডার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
জেসে লিনগার্ড (মিডফিল্ডার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
ড্যানি ইংস (স্ট্রাইকার, লিভারপুল)
চার্লি অস্টিন (স্ট্রাইকার, সাউদাম্পটন)
কিয়েরান গিবস (ডিফেন্ডার, আর্সেনাল)
জ্যাক কর্ক (সাউদাম্পটন)
উইলফ্রিয়েড জাহা (ক্রিস্টাল প্যালেস)
জেইমস ওয়ার্ড-প্রাউস (সাউদাম্পটন)
অ্যারন ক্রেসওয়েল (ওয়েস্টহ্যাম)
পুরো মৌসুম মাত্র ১৪১ মিনিট খেলেই দলে জায়গা করে নিয়েছেন জ্যাক উইলশেয়ার
পুরো মৌসুম মাত্র ১৪১ মিনিট খেলেই দলে জায়গা করে নিয়েছেন জ্যাক উইলশেয়ার
 
দলে প্রথমবারের মত ডাক পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ স্ট্রাইকার মার্কাস র‍্যাশফোর্ড। তাঁকে জায়গা করে দিতে গিয়ে দলে জায়গা হারাতে হয়েছে এইবার একরকম একাই স্যান্ডারল্যান্ডকে রেলিগেশানের হাত থেকে বাঁচানো, ৩২ ম্যাচে ১৫ গোল করা স্ট্রাইকার জার্মেইন ডেফোকে। জায়গা পাননি সদ্য ইনজুরি ফেরত লিভারপুল স্ট্রাইকার ড্যানি ইংস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড লেফটব্যাক লুক শ। ফর্মহীনতার কারণে জায়গা হারিয়েছেন থিও ওয়ালকট, লেইটন বেইনেস, ফিল জাগিয়েলকার মত তারকারা। ইনজুরির কারণে দলে পাননি স্টোক সিটির গোলরক্ষক জ্যাক বাটল্যান্ড, আর্সেনালের স্ট্রাইকার ড্যানি ওয়েলবেক। ওয়েলবেকের বদলে অ্যান্দ্রোস টাউনসেন্ড ও বাটল্যান্ডের বদলে দলে নেওয়া হয়েছে টম হিটনকে।
 
রূপকথার মত মৌসুম কাটানো, প্রিমিয়ার লিগজয়ী লেস্টার স্ট্রাইকার জেইমি ভার্ডি এবং এবারের লিগের গোল্ডেন বুটজয়ী স্ট্রাইকার, টটেনহ্যামের হয়ে লিগে ৩৬ ম্যাচে ২৫ গোল করা হ্যারি কেইনের উপর নজর থাকবে সবার। আর সুপারস্টার হিসেবে ওয়েইন রুনি ত আছেনই। যদিও স্ট্রাইকিং পজিশানে কেইন বা ভার্ডিকে সরিয়ে রুনির খেলার সম্ভাবনা যথেষ্ট ক্ষীণ এবার।
 
দলে সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়ে জায়গা পেয়েছেন আর্সেনাল মিডফিল্ডার জ্যাক উইলশেয়ার। পুরো মৌসুম ইনজুরিতে বিধ্বস্ত উইলশেয়ার লিগে ম্যাচ খেলেছে এবার মাত্র তিনটি, তাতেই হজসন তাঁকে দলে রাখার সাহস পেয়ে গেছেন। যদিও ইনজুরির দোহাই দিয়েই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার মাইকেল ক্যারিককে বাদ দিয়েছেন হজসন। এদিকে পুরো মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির বেঞ্চ থেকে উঠে এসে এসে ১৭ ম্যাচ খেলা ফাবিয়ান ডেলফ কেও নেওয়া হয়েছে দলে, যেখানে ওয়েস্টহ্যামের হয়ে পুরো মৌসুম দুর্দান্ত খেলা মার্ক নোবেল থেকে গেছেন উপেক্ষিত। নোবেল ত রেগেমেগে বলেই দিয়েছেন রয় হজসন যতদিন থাকবেন, ইংল্যান্ডের হয়ে আর খেলতে চান না তিনি! ১২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে নিউক্যাসলে গিয়ে রেলিগেটেড হওয়া, পুরো মৌসুম মাঝারি মানের খেলা দেওয়া অ্যান্দ্রোস টাউনসেন্ডকে বাদ দেওয়া হয়েছে, থিও ওয়ালকটের মত খেলোয়াড়কে বাদ দিয়ে। ওয়ালকট যদিও পুরো মৌসুম জঘন্য খেলেছেন, কিন্তু হজসন কিন্তু ওয়ালকটের বাদ পড়ার পেছনে ফর্মহীনতাকে দায়ী করেননি, বলেছেন ওয়ালকট নাকি এই মৌসুমে যথেষ্ট খেলেননি! যদিও এই মৌসুমে ওয়ালকট খেলেছেন ১৩৭৩ মিনিট, আর দলে চান্স পাওয়া টাউনসেন্ড খেলেছেন ১০৮৯ মিনিট, ডেলফ ৭৫১ ও উইলশেয়ার ১৪১!
দলে জায়গা হয়নি থিও ওয়ালকটের
দলে জায়গা হয়নি থিও ওয়ালকটের
 
গোলরক্ষক হিসেবে মূল একাদশে জ্যো হার্ট নিশ্চিতভাবেই জায়গা পাচ্ছেন, তাঁর কিছু না কিছু হয়ে গেলে সাউদাম্পটনের ফ্রেইজার ফরস্টার খেলবেন ইংল্যান্ডের হয়ে। রাইটব্যাকে খেলবেন এই মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে দুর্দান্ত খেলা ডিফেন্ডার ন্যাথানিয়েল ক্লাইন, তাঁর ব্যাকআপ হিসেবে থাকবেন টটেনহ্যামের কাইল ওয়াকার, যিনি নিজেও এই মৌসুমে খেলেছেন দুর্দান্ত। ওদিকে লেফটব্যাকে জায়গা পাওয়ার জন্য লড়াই হবে এই মৌসুমে ভালো খেলা সাউদাম্পটনের রায়ান বার্ট্র্যান্ড ও টটেনহ্যামের ড্যানি রোজের মধ্যে, রোজের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। এদের দুইজনের জন্যই মূলত জায়গা পাননি কিয়েরান গিবস, লেইটন বেইনেস ও অ্যারন ক্রেসওয়েল।
 
দলে আরেক হাস্যকর বিষয় হচ্ছে স্পেশালিস্ট সেন্টারব্যাক মাত্র তিনজন। স্মলিং, স্টোনস ও ক্যাহিল। স্মলিং মৌসুমের শুরুতে দুর্দান্ত খেললেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ফর্ম হারিয়েছেন মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে। এদিকে পুরো মৌসুমে এভারটনের হয়ে খারাপ খেলেছেন জন স্টোনস। ফলে এবার ডিফেন্সের অবস্থা ইংল্যান্ডের বিশেষ সুবিধার না। মূল একাদশে খেলার সম্ভাবনা ক্যাহিল ও স্মলিংয়েরই সবচাইতে বেশী।
 
৪-৩-৩ ফর্মেশানে তিনজন মিডফিল্ডারের মধ্যে লিভারপুলের অ্যাডাম লালানা ও জেইমস মিলনার এবং এভারটনের রস বার্কলির খেলার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী। ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোয় এদের উপরেই আস্থা রেখেছেন হজস্ন সবচাইতে বেশী। ইনজুরির কারণে অনেকদিন খেলতে পারেননি, নাহয় জেইমস মিলনারের জায়গায় লিভারপুল সতীর্থ জর্ডান হেন্ডারসনেরও খেলার সম্ভাবনা সর্বাধিক। কিন্তু এই মৌসুমে টটেনহ্যামের দুই মিডফিল্ডার এরিক ডায়ার ও ডেলে আলি যেরকম দুর্দান্ত খেলেছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে মূল একাদশ করাটাও ভুল হবে, যেখানে স্কোয়াডে স্পেশালিস্ট ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলতে গেলে এখন এরিক ডায়ারই আছেন। যেই ডায়ারের সাথে আরেক টটেনহ্যাম মিডফিল্ডার ডেলে আলির রয়েছে তুখোড় কম্বিনেশান। যেহেতু সেন্ট্রাল ডিফেন্সের অবস্থা অত ভালো নয়, তাই হজসন যদি ডায়ারকে মূল একাদশে সুযোগ দিয়েও দেন, হেন্ডারসন, লালানা বা মিলনার কাউকে বসিয়ে রেখে, আশ্চর্যের কিছুই থাকবে না। ফলে মিডফিল্ডে খেলানোর জন্য হজসনের হাতে অপশানের কোন অভাব নেই।
মূল একাদশে খেলতে পারেন জেইমি ভার্ডিও
মূল একাদশে খেলতে পারেন জেইমি ভার্ডিও
 
মিডফিল্ডের থেকেও বেশী চিন্তায় থাকবেন হজসন তাঁর স্ট্রাইকিং ডিপার্টমেন্ট নিয়ে। স্ট্রাইকারদের মধ্যে ভার্ডি, কেইন, স্টারিজ – সবাই আছেন দুর্ধর্ষ ফর্মে। ওদিকে রুনি ত ইংল্যান্ডের হয়ে বরাবরই উজ্জ্বল, ইংল্যান্ডের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দলের বাইরে রাখতে হজসনকে যথেষ্ট সাহসেরই পরিচয় দেওয়া লাগবে। আর সাথে ত রাহিম স্টার্লিং আছেনই। ফলে তিন অ্যাটাকার খেলানোর জন্য হজসনের মূল পছন্দ হতে পারেন রুনি, কেইন ও স্টার্লিং। প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় জেইমি ভার্ডিও ঢুকে যেতে পারেন যেকোন মুহুর্তে, আবার লিভারপুলের হয়ে বারংবার ইনজুরিতে পড়লেও যখনই সুযোগ পেয়েছেন, তখনই গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন ড্যানিয়েল স্টারিজ, ফলে মাথায় রাখতে হবে তাঁর কথাটাও।
1446449_Torquay_United
 
এই ২৬ জনের মধ্যে থেকে ৩১ মে এর আগে বাদ যাবেন আরও তিনজন। বাদ যাওয়াদের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান ডেলফ, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের অ্যান্দ্রোস টাউনসেন্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মার্কাস র‍্যাশফোর্ডের থাকার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশী। দেখা যাক, ইংল্যান্ড এবার কিরকম খেলবে, জবাব মিলবে ১০ জুন থেকে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

5 + 19 =