ইংল্যান্ড সিরিজ : পথচলার আরেকটি ধাপ – ১

পর্ব-১ঃ নিরাপত্তা ইস্যু ও সিরিজ বাতিলের সম্ভাবনা

খুব একটা লেখালেখির অভ্যাস নেই। মাঝে মাঝে মাথায় কিছু লাইন ঘোরে, কিছুটা পড়ার মত রূপ দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে দিয়ে দেই। ক্রিকেট নিয়ে হালকা পাতলা লেখালেখি এইভাবেই শুরু। কিন্তু ওইভাবে মোটামুটি পন্ডিতের ভাষায় কখনই লেখা হয় নি। ফেসবুকে আমার লেখালেখি দেখেই আমার কিছু বন্ধুর প্রেরণা, আর তার থেকেই চিন্তা করলাম ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়ে কিছু লিখে ফেলি। তাই এই প্রচেষ্টা।
শুরু থেকেই শুরু করা যাক। শেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলা প্রায় ৮/৯ মাস আগে। তাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের হোম সিরিজ নিয়ে সবারই আগ্রহ বেশি ছিল। হবেই না কেন, মাত্র বছর দেড়েক আগেই যে টানা দ্বিতীয় বারের মত ওয়ার্ড-কাপে হারালাম আমরা ইংল্যান্ডকে। তাই ওদের বিপক্ষে সিরিজে যে সামর্থ্যের পূর্ণ প্রমাণ দেয়ার সুযোগ। যদিও ওই বিশ্বকাপের পর পুরো ইংল্যান্ড দলে এসেছে আমূল পরিবর্তন। নিজেদের মাঝে পরিবর্তন এনে এখন ইংল্যান্ড খেলছে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। কাউকে পাত্তা না দিয়েই করে চলেছে একের পর এক ম্যাচ জয়। আর অন্যদিকে বাংলাদেশ দলেও এখন আত্মবিশ্বাসের জোয়ার। মাশরাফির হাত ধরে টাইগাররা এখন পরিপক্ক একটা দল। নিজেদের মাটিতে গত এক বছরে ওরা সিরিজ জিতেছে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার মত দেশের বিপক্ষে। তাই আর কোন সিরিজ না হোক, এই সিরিজ নিয়ে শুধু আমাদের না, পুরো ক্রিকেট বিশ্বের ছিল চরম আগ্রহ।
কিন্তু এই সময়ই এলো আঘাত। হলি আরটিসানে সন্ত্রাসী হামলার পর বদলে গেল পুরো চিত্রপট। ২০১৪ সালে নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসেনি অস্ট্রেলিয়া। শুধু তাই নয়, আসেনি দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা দল, অস্ট্রেলিয়া U-19 দল। তাই সবার মনেই শঙ্কা, মনে হয় ইংল্যান্ডও ধরবে অস্ট্রেলিয়ার রাস্তা।
তাই হতে লাগল। একে একে ইংল্যান্ডের কিছু প্লেয়ার বেঁকে বসল। অনেক সাবেক ক্রিকেটাররা ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের বিপক্ষে চলে গেলেন।

এই বছরই প্যারিসে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হল দুইবার, একবার এক ফুটবল ম্যাচ চলার সময়, আরেকবার তাদের এক উৎসবের সময়। কই, কারো মুখেই তো শুনলাম না যে প্যারিসে যাওয়া যাবে না, ফ্রান্সে কোনো ফুটবল ম্যাচ খেলা যাবে না? বর্তমানে আমরা কোথাও নিরাপদ নই, এমনকি আমাদের নিজেদের বাসায়ও না। আমাদের দেশে হল প্রথমবার, আর ওয়েস্টার্ন ইউরোপে এই ধরনের হামলা হয় বছরে ৩/৪ বার! পাকিস্তানের ব্যাপার অবশ্যও আলাদা। ওখানে সন্ত্রাসী হামলা নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু আমাদের দেশে তো তা নয়।

কেউ কেউ দাবি করে বসলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলার জন্য নিরাপদ দেশ না। তাদের আমার জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে করে, কোন দেশটা তাহলে নিরাপদ? বাংলাদেশে এই ধরনের হামলা এই প্রথমবার। কয়েকটা যায়গায় ভুল হবার পরও আমরা কাটিয়ে উঠেছি এই সঙ্কট। আর নিরাপত্তার কথা বলতে চান? এই বছরই প্যারিসে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হল দুইবার, একবার এক ফুটবল ম্যাচ চলার সময়, আরেকবার তাদের এক উৎসবের সময়। কই, কারো মুখেই তো শুনলাম না যে প্যারিসে যাওয়া যাবে না, ফ্রান্সে কোনো ফুটবল ম্যাচ খেলা যাবে না? বর্তমানে আমরা কোথাও নিরাপদ নই, এমনকি আমাদের নিজেদের বাসায়ও না। আমাদের দেশে হল প্রথমবার, আর ওয়েস্টার্ন ইউরোপে এই ধরনের হামলা হয় বছরে ৩/৪ বার! পাকিস্তানের ব্যাপার অবশ্যও আলাদা। ওখানে সন্ত্রাসী হামলা নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু আমাদের দেশে তো তা নয়।
ইংল্যান্ডের সাবেক ক্যাপ্টেন নাসের হুসেইন বললেন একেবারে খাঁটি কথা, ‘শুধু নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে বাংলাদেশ ট্যুর বাতিল করা একেবারে অযৌক্তিক কাজ হবে। নিরাপত্তার সমস্যা এখন সারা বিশ্বে। আমরা কোথাও নিরাপদ নই। বরং ইংল্যান্ডের উচিত হবে না এই দারুণ একটা সিরিজ মিস করা।’
শুধু নাসের হুসেইন নন, আরো অনেক সাবেক ক্রিকেটারই বাংলাদেশ ট্যুরের পক্ষে কথা বললেন। এবং আমরা আমাদের সামর্থ্য দেখাতে সক্ষম হয়েছি। খোদ ইংল্যান্ড দল পর্যন্ত চমকে গেছে বাংলাদেশে তাদের নিরাপত্তার চাদর দেখে। জস বাটলার আর মঈন আলী তো বলেই ফেললেন, এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা তারা কোথাও দেখেনি। আমরা প্রমাণ করে ছাড়লাম, অতিথিদের ব্যাপারে আমরা কতটা আন্তরিক।
বাংলাদেশে আসার পর থেকে বাটলার-আলীরা যেখানেই যাচ্ছেন, সঙ্গে থাকছে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা। হয়তো এসবের সঙ্গে অভ্যস্ত নন তাঁরা। তবে এমন পরিস্থিতি তো শুধু বাংলাদেশ নয়, উপমহাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই। বাটলাররাও তাই নিরাপত্তার এমন কড়াকড়িকে নিজেই সহজভাবেই। বাটলারের মতে,‘উপমহাদেশে আসতে গেলে নিরাপত্তার ব্যাপারটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেই হয়। “এখানে আমাদের সব সময়ই খুব ভালো যত্ন নেওয়া হয়। আর এরপর চিন্তা শুধু ক্রিকেটকে ঘিরেই থাকবে। তখন আমার মনে হয় নিরাপত্তার ব্যাপারগুলো পেছনে চলে যাবে। অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি সিরিজই হবে এটি। আমার মনে হয়, আমাদের আজই অনুশীলনে নেমে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত,” সংবাদ সম্মেলনে এইভাবেই বলেছিলেন বাটলার।
বুঝলাম না মরগান আর হেলসের সমস্যা কোথায় ছিল? অ্যালিস্টার কুক নিজের নবজার সন্তানকে এক নজর দেখেই বিমান ধরেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলার জন্য। কারন তিনি জানেন, সবার আগে নিজের দেশের জন্য সার্ভিস দেয়া। যদি ভয়ে কুঁকড়ে থাকতে হয় সেটা নিজের বাসায় বসেই থাকা ভালো, ক্রিকেট খেলার দরকার নেই। প্রোফেশনালিজম বলে একটা কথা আছে, যেটা আলী, বাটলার বা কুকেরা বুঝতে পেরেছেন, কিন্তু বুঝতে পারেননি মরগান আর হেলস। ক্রিকেট খেলা ভয় দিয়ে হয় না, প্রোফেশনালিজম দিয়ে হয়। তাই এত জমজমাট একটা সিরিজ মিস করে গেলেন তারা। হয়ত খেলার সময় বাসায় টিভিতে বসে ভাবছিলেন, “ইস! কেন যে গেলাম না?”

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

7 + eighteen =