ইংল্যান্ড সিরিজ : পথচলার আরেকটি ধাপ – ২

পর্ব-২ঃ ওয়ানডে সিরিজ এবং ব্যাট-বলের সাথে কথার লড়াই

২০১৫ সাল। বাংলাদেশ বনাম ভারত ওয়ানডে সিরিজ। দ্বিতীয় ম্যাচ।

অভিষেক ম্যাচেই ৫ উইকেট নিয়ে তাসকিনের চমক। তাতেই ধস ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপে। মাত্র ১০৫ রানে অল-আউট। বাংলাদেশের সামনে আরেকটি জয়ের হাতছানি।  কিন্তু কি হল? অসহায়ের মত নিজেদের উইকেট বিসর্জন দিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ৫৮ রানে অল-আউট হয়ে গেল!

ভাবছেন, এত পুরোনো ক্ষতে কেন প্রলেপ লাগানোর প্রচেষ্টা! তাহলে শুনুন।

বাংলাদেশ ওই সিরিজের আগে শেষ ম্যাচ খেলেছে কিন্তু বেশিদিন আগে নয়, কয়েকমাস। এশিয়া কাপের পর বাংলাদেশ ব্যস্ত ছিল টি-টুয়েন্টি নিয়ে। কিন্তু এই ছোট্ট গ্যাপ আর অল্প কিছুদিন ভিন্ন ফরমেটে খেলার পরেই ভারতের দ্বিতীয় সারির দলের কাছে শুধু এই লজ্জাই না, পুরো সিরিজ ধবল-ধোলাই হবার লজ্জায় পড়েছিল বাংলাদেশ।

এত কথা কেন জানেন? ইংল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলতে নামছে প্রায় ১ বছর!

কথা হতেই পারে যে, আফগানিস্তানের সাথে তো খেলল বাংলাদেশ। সত্যি করে বলুন তো, আফগানদের সাথে খেলা আর গত এক বছরে ১৬ ওয়ানডে ইনিংসে ১৬ বার ৩২০+ স্কোর করা, যার ২টি আবার ৪০০+ স্কোর করা ইংল্যান্ড দলের সাথে খেলা কি এক কথা?

ভয়টা এখানেই ছিল। এমনিতেই এত বড় গ্যাপ, তার উপর খেলতে নেমেই প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তবুও কপাল ভালো যে টাইগাররা তাদের দীর্ঘ বিরতি কাটানোর সুযোগ কিছুটা হলেও পাওয়া গেলো আফগানদের সাথে সিরিজে।

তবে এ ঠিক, বাংলাদেশ দলের কেউই যে এই নিয়ে বিন্দুমাত্র অসতর্ক না, সেটা তাদের ভাব-ভঙ্গিতেই স্পষ্ট ছিল। বড় প্রমাণ, সাকিব আল হাসান। খেলার ২দিন আগে স্টেডিয়ামে চলছে প্রস্তুতি। দুপুরের দিকে একজন দৌড়াচ্ছিলেন। পুরো মাঠ কয়েক চক্কর দিলেন। অন্য কেউ হলে তা নিয়ে লেখার কিছু থাকত না। কিন্তু যিনি দৌড়াচ্ছেন, তাঁকে যে সচরাচর এটা করতে দেখা যায় না! দৌড়াচ্ছিলেন সাকিব আল হাসান।

সাকিবের ঘনিষ্ঠরা বলেন, ‘ও জানে কখন কী করতে হবে।’ ম্যাচের আগের দিন অন্যরা যখন অনুশীলনে ঘাম ঝরান, সাকিব তখন ড্রেসিংরুমে এলায়িত ভঙ্গিতে বসে থাকলেও তাই সেটা নিয়ে কথা হয় না। কারণ, তিনি জানেন কখন কী করতে হবে।
ইংল্যান্ড সিরিজের আগে প্রথম অনুশীলনের দিন বাড়তি কিছু করার প্রয়োজনীয়তা হয়তো এই সাকিবও উপলব্ধি করেছেন। ভরদুপুরে সে কারণেই ওই ‘জগিং’। বিকেলের দিকে ইনডোরে বলা প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের কথায়ও ধরা পড়ল এই সিরিজের গুরুত্বটা, ‘মাঝে আফগানিস্তান সিরিজ হলেও ইংল্যান্ড সিরিজটা সব সময়ই আমাদের মাথায় ছিল।’

ইংল্যান্ডের এই দলের অন্তত তিন-চারজন খেলোয়াড় আছেন যাঁদের সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা ছিল না বাংলাদেশ দলের। ফতুল্লার প্রস্তুতি ম্যাচ তাঁদের দেখে নেওয়ার একটা সুযোগ ছিল। অবশ্য বাংলাদেশ দলের নেট প্র্যাকটিসের মনস্তত্ত্বেও কিন্তু ছিল প্রতিপক্ষকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা। তবে সেটা একটু অন্যভাবে।

নেট বোলারদের মধ্যে দীর্ঘকায় এক পরিচিত বাঁহাতি পেসারকে দেখা গেল বল করতে। বোলারের নাম শাফাক আল জাবির। ব্যাপারটা একটু বিস্ময়করই কারণ, খেলা ছেড়ে শাফাক এখন বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের কর্মকর্তা। তাঁকে নেট বোলার হিসেবে আনার রহস্য ভেদ করলেন মিনহাজুল, ‘ইংল্যান্ড দলে বাঁহাতি পেসার আছে। সে জন্যই নেটে শাফাককে আনা হয়েছে।’ এতেই বোঝা যায়, ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এখন কতটা সতর্ক একটা দল।

প্রথম ওয়ানডে

প্রথম ম্যাচটাকে ম্যাচ না বলে আসলে টেনশন আর নাটকের ম্যাচ বলা উচিত। ৫২ বলে ৩৯ রান দরকার। হাতে ৬ উইকেট। সেটাও বড় কথা, উইকেটে থাকা দুই ব্যাটসম্যান যেভাবে ব্যাটিং করছেন, মনে হচ্ছে ব্যাটিং করা পৃথিবীর সহজতম কাজ। জ্বি, সেখান থেকেই বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরে গেল ২১ রানে। ইংল্যান্ডের ৩০৯-এর জবাবে বাংলাদেশ অলআউট ২৮৮ রানে। একে ‘ক্রিকেটের মহান অনিশ্চয়তা’ বলবেন? নাকি বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতা?

৯ রানের মধ্যে বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলল ৫ উইকেট। ৪ উইকেটে ২৭১ থেকে মুহূর্তেই স্কোর হয়ে গেল ৯ উইকেটে ২৮০। জয় তখনো ৩০ রান দূরে। এটাই পার্থক্য। হাতে উইকেট থাকলে ৩৯ রান মনে হয়, এই তো পাশের বাড়ি। আর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তাসকিন যখন খেলতে নামলেন, ৩০ রান মনে হচ্ছিল মঙ্গলগ্রহের দূরত্ব। অথচ ৩৯ থেকে ৩০ মাত্র ৯ রানের ব্যবধান। এর মধ্যেই ঘটে গেল এত কিছু। মুহূর্তেই বদলে গেল রং, সব সমীকরণ।

প্রথমে ম্যাচে একজনের অভাব সারা বাংলাদেশ যেন খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছে, নাসির দ্যা ফিনিশার। সবার মুখেই একটাই আক্ষেপ, ইস! নাসির যদি থাকতো, তাহলে আর হার দেখে বাসায় ফিরতে হত না।

এই ‘৯ রান’ বাংলাদেশের ক্রিকেটের আরেক চির-আক্ষেপ হয়ে থাকবে। মুলতান ও ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনালের পাশাপাশি! এই ৯ রানের ভেতরেই তো যাবতীয় সর্বনাশ! বাংলাদেশ ম্যাচটা ২১ রানে হেরেছে সেটাই হয়তো মনে রাখবে সবাই। কিন্তু আজ জয়োৎসবের প্রস্তুতি নিতে থাকা প্রতিটি মানুষ মনে রাখবে সেই ৯ রানের কথা। এই জয় তো শুধু জয় হতো না, হতো ৩১০-ও অনায়াসে পেরোতে পারার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। শুধু প্রতিপক্ষ দলগুলোকে নয়, নিজেরও। অচেনা নিজেকে দেখা হতো চেনা আয়নায়। এই ম্যাচ ভুলতে সময় তাই লাগবেই।

আর ইমরুল কায়েস? ও মনে রাখবে কীভাবে? নীরবে রান করে যান বলে তারকা খ্যাতি এখনো জোটেনি। অত গ্ল্যামার যে নেই। ব্যাটিংয়ের ধরন যে অনেকটাই পাল্টে ফেলেছে, এটা যেন অনেকেই মাত্র কদিন আগে আবিষ্কার করল। সেই ইমরুল ১১২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলল। সাড়ে ছয় বছর পর ওয়ানডে সেঞ্চুরি। আজ তাঁর নায়ক হওয়ার কথা। কিন্তু কেউ তো মনেই রাখবে না এই সেঞ্চুরি। কিভাবে মনে রাখবে? দিন শেষে যে মনে আসবে একটা কথা, বাংলাদেশ তো হেরে গেল।

প্রথমে ম্যাচে একজনের অভাব সারা বাংলাদেশ যেন খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করেছে, নাসির দ্যা ফিনিশার। সবার মুখেই একটাই আক্ষেপ, ইস! নাসির যদি থাকতো, তাহলে আর হার দেখে বাসায় ফিরতে হত না।

সিরিজের প্রথম ম্যাচেই প্রায় নিশ্চিত জয়টি রূপ নিল। সে হতাশা কাটিয়ে পরের ম্যাচের আশা খুঁজে ফিরেছিলেন মাশরাফি। তাঁকে সে আশা দিচ্ছেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করা ইমরুল। ক্যাপ্টেনের সাথে যেন ওইদিন বাকি সবারই একই প্রার্থনা, ভুলগুলো যেন না হয় আর! আর যেন অবশ্যই নাসিরকে খেলতে নামানো হয়।

দ্বিতীয় ওয়ানডে

দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম বড় খবর মনে হয় নাসিরের স্কোয়াডে ফেরা। প্রথম ওয়ানডেতে লোয়ার মিডল আর লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতার পর সারাদেশে শুধু একটা কথা, নাসিরকে স্কোয়াডে চাই। স্যোসাল মিডিয়াতে তো রীতিমত আন্দোলন শুরু হয়ে গেল। সেই নাসির ফিরলেন, আর ম্যাচ জয়ের অন্যতম নায়ক হলেন।

অন্যতম নায়ক! তাহলে আসল নায়কটা কে? কে আর, বাংলাদেশ দলে নায়ক শুধু একজনই আছেন, তিনি আমাদের নড়াইল এক্সপ্রেস, ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক, মাশরাফি বিন মরতুজা!

পুঁজি মাত্র ২৩৮। পরিবর্তিত এই ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে এই রান নিয়ে লড়াই করার কথা ভাবাটাও অনেক সাহসের ব্যাপার। সে জন্যই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন মাশরাফি। শুরুটা করলেন জেমস ভিন্সকে ফিরিয়ে দিয়ে। একটু পরে ফেরালেন অন্য ওপেনার জেসন রয়কে। উইকেটে এলেন আগের ম্যাচের মাথাব্যথা সেঞ্চুরিয়ান বেন স্টোকস। তাঁকেও বোল্ড করে দিলেন মাশরাফি। ২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড তখন কাঁপছে।

কিন্তু এমন পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হচ্ছিল না বাংলাদেশের। শেষ উইকেটে অবিশ্বাস্য ৪৫ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছিলেন আদিল রশিদ ও জ্যাক বল। একের পর এক বোলিং পরিবর্তনের পরও কোনো লাভ হচ্ছিল না। তাই নিজেই সে দায়িত্ব কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিয়ে ফিরলেন বোলিংয়ে। বলকে এক্সট্রা কভারে ক্যাচ বানালেন নাসির হোসেনের। ৩৪ রানে জিতে গেল বাংলাদেশ।

ঠিক আট বছর পর ওয়ানডেতে ৪ উইকেট পেলেন মাশরাফি। সেটাও কোন ম্যাচে? প্রথম ম্যাচে প্রায় হাতের নাগালে চলে আসা জয়টা হাত ফসকে গেল। আজ হারলেই সিরিজের হারটাও নিশ্চিত হয়ে যেত। সে ম্যাচেই দেখা দিলেন অলরাউন্ডার মাশরাফি। বল হাতে তো বিজয় নিশ্চিত করেছেনই, ব্যাট হাতেও তো বাংলাদেশকে ২৩৮ রানের পুঁজিটা এনে দিয়েছেন মাশরাফি।

১৬৯ রানে ৭ উইকেট পড়ার পর উইকেটে আসেন। ৪৮তম ওভারে যখন আউট হলেন, স্কোরবোর্ডে ২৩১/৯। ২২ বলে ৪২ রানের ইনিংসে দুই বাউন্ডারির সঙ্গে তিন ছক্কা। অনেক দিন পর ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন মাশরাফি। গত কিছুদিনে স্লগ ওভারে বাংলদেশের জীর্ণ দশার পেছনেও তো মাশরাফির হারিয়ে যাওয়াটাও ভূমিকা রেখেছে। মাঝে তো ব্যাটিংটাই ভুলে গিয়েছিলেন বলে মনে হচ্ছিল। অথচ স্লগ ওভারে এই মাশরাফিই কতবার যে বাংলাদেশের ভরসা হয়েছেন!

সেই মাশরাফি আজ ফিরতেই শেষ ১০ ওভারে ৭৫ রান পেল বাংলাদেশ। এই বাড়তি রানটাই কিন্তু শেষ পর্যন্ত মূল পার্থক্য হয়ে রইল ম্যাচের। আর অধিনায়ক মাশরাফি তো ছিলেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্তই। যখনই বোলিং পরিবর্তন করেছেন, সঙ্গে সঙ্গে ফল মিলেছে—যেন জাদুর কাঠির ছোঁয়া!

এই ম্যাচের দ্বিতীয় বড় খবর, জস বাটলার ও বেন স্টোকস বনাম মাহমুদুল্লাহ, তামিম ও সাব্বির।

জস বাটলার আউট হওয়ার সময়েই বেশ চোখে লেগেছিল দৃশ্যটা। প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার সময়ে উদ্‌যাপন করতে থাকা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের দিকে ফিরে কিছু একটা বলতে তেড়ে এসেছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। আম্পায়াররা মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানোয় বিষয়টা তখন খুব বেশি দূর গড়ায়নি। অবশ্য ম্যাচ শেষেও সেটির রেশ থেকে গেল। ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমের সামনে হাত মেলানোর সময় বেন স্টোকসের সঙ্গে লেগে গেল তামিম ইকবালের।

ঘটনা ম্যাচের ২৮তম ওভারের। তাসকিনের করা ওভারের প্রথম বলেই এলবিডব্লুর আবেদন। তাতে সাড়া দেননি আম্পায়ার, রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। সিদ্ধান্তটা মাশরাফিদের পক্ষেই আসে। মুহূর্তেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা মেতে ওঠেন বুনো উল্লাসে। ম্যাচের যে পরিস্থিতি তখন, বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভাসবেন খুব স্বাভাবিক। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ভিড় থেকে বাটলারকে কেউ কিছু বলেছেন কি না, সেটি অবশ্য পরিষ্কার নয়। তবে বাটলার রাগে গজরাতে গজরাতে তেড়ে যেতে চাইছিলেন মাহমুদউল্লাহর দিকে!

তবে ম্যাচ শেষে বেন কেন তামিমকে এইভাবে ধাক্কা মারল সেইটা আমার বোধগম্য হল না। আর আইসিসির বিচারও না। কি বুঝে তারা মাশরাফি আর সাব্বির শিকার হলেন “ডিমেরিট” পয়েন্টের আর জরিমানার। অন্যদিকে স্টোকসকে স্রেফ তিরস্কার!

তবে যাই হোক, সবাই এবার দেখতে পেল, আমাদের কেউ কিছু বললে আমরাও আর বসে থাকি না, জবাবটা দিয়েই দিই।

তৃতীয় ওয়ানডে

দ্বিতীয় ওয়ানডের পরই সিরিজটা হয়ে গেল অ্যাসেজের মত উত্তপ্ত। আরো পরিস্কার হল যখন বেন স্টোকস হুমকি দিল নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে, ‘জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অভিনন্দন, ওরা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। কিন্তু আমার কোনো সতীর্থকে হাত মেলানোর সময় কঠিন কিছু বলা আমি একদমই মেনে নেব না।’

তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি ছিল মুশফিকের ফেরা। গত এক বছর সময় বারবার নিজেকে যেন খুঁজে ফিরছিলো আমাদের মি ডিপেন্ডেবল। কিন্তু এই ম্যাচে ফিরে এল ওর হারানো ফর্ম। সেই ম্যাচে তার প্রতিটি শটেই ছিল ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাসের ঝলক। নিখুঁত ব্যাটিংয়ের প্রতিচ্ছবি।

এটা কিন্তু তৃতীয় ম্যাচের মূল খবর না। খবরটা হল- দুই বছর পর সিরিজ হারল বাংলাদেশ! ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়েকে দিয়ে শুরু, এরপর পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আবার জিম্বাবুয়ে। কিন্তু ধারাটা আর চললো না।

২৭৮ রানের লক্ষ্য কখনোই কঠিন মনে হয়নি ইংল্যান্ডের জন্য। জেমস ভিন্স আর স্যাম বিলিংসের ৬৩ রানের ওপেনিং জুটির পর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এই সিরিজেই অভিষিক্ত বিলিংস আর বেন ডাকেট মিলে করে আরও ৬৪ রান। ২৫ ওভারে ১৩০, উইকেট ২টি। বাংলাদেশের মতো ইংল্যান্ডের ইনিংসেও ছিল না খুব বড় কোনো ইনিংস বা জুটি। তবে আসল পার্থক্য যে পেশাদারি মনোভাবে! উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে লক্ষ্য স্থির রেখে খেলেছে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। যার শেষটা হয়েছে সপ্তম উইকেট বেন স্টোকস আর ক্রিস ওকসের ৪২ রানের পার্টনারশিপে। ৪৮তম ওভারের শেষ বলে শফিউল ইসলামকে লং অফ দিয়ে বিশাল ছয় মেরে ম্যাচ শেষ করে ওকস।

তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি ছিল মুশফিকের ফেরা। গত এক বছর সময় বারবার নিজেকে যেন খুঁজে ফিরছিলো আমাদের মি ডিপেন্ডেবল। নিজেকে ফিরে পাবার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন অবিরাম পরিশ্রম করে গেছে, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছিলো না। নিজের সবচেয়ে পছন্দের স্লগ সুইপেই বেশি আউট হচ্ছিল মুশফিক। কিন্তু এই ম্যাচে ফিরে এল ওর হারানো ফর্ম। সেই ম্যাচে তার প্রতিটি শটেই ছিল ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাসের ঝলক। নিখুঁত ব্যাটিংয়ের প্রতিচ্ছবি।

কিন্তু যে উদ্‌যাপনের অপেক্ষায় ছিল গোটা দেশ, সেটা আর হলো না। ইংল্যান্ডের সামনে এসে থেমে গেল সিরিজ জয়ের রথ।

শেষকথা

যত যাই হোক, ভুল থেকে শিক্ষা- এই কথা আর নতুন করে বলার কোন কারন নেই। আর বাংলাদেশের বড় দল হয়ে ওঠার পিছনে তো ভুল থেকে শিক্ষাটাই সবচেয়ে বেশি কাজে এসেছে। তাই ভুল নিয়ে কোন কথা বলার নেই। কথা বলবো প্রাপ্তি নিয়ে। অনেক বড় প্রাপ্তি মোসাদ্দেকের মত খেলোয়ার উঠে আসা। আর তার সাথে টেল-এন্ডারে মাশরাফির প্রত্যাবর্তন আর মুশফিকের আবার নিজেকে ফিরে পাওয়া। সব মিলিয়ে আর যাই হোক, শুধু বাংলাদেশ বা ইংল্যান্ড না, পুরো ক্রিকেট বিশ্ব এই সিরিজ মনে রাখবে বহুদিন!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × three =