ইংলিশদের স্বস্তি দেওয়া জয় ! ইংলিশদের সম্ভাবনার জয় !

দুই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের সাথে লজ্জা পাইয়ে দেওয়ার মত পরাজয় , সাথে তীরের মত ধেয়ে আসছিলো সাবেকদের সমালোচনা , নিজের ব্যাটে রান নেই – অধিনায়কত্ব পাবার পরে এউইন মরগানের দিনগুলো যাচ্ছিলো দুঃস্বপ্নের মতো । আয়ারল্যান্ডের হাত ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঢোকার পরে কাউন্টি পারফরম্যান্সের সুবাদে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তরতর করে পেয়ে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগটাও ! স্বপ্নের মত কাটতে থাকা মরগানের প্রথম দিনগুলি একদম চূড়ায় গিয়ে ঠেকে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ক্যাপ্টেন্সি পাবার মধ্য দিয়ে । কঠিন অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের সামনে পড়ে হানিমুনের রেশ কাটতে দেরি হয় না মরগানের ।
প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড !
রবার্ট ব্রুসের স্কটল্যান্ড !
নিউজিল্যান্ডকে কম টার্গেটে ঘাম ছোটানো স্কটল্যান্ড !
নিজেদের ফর্ম আর স্কটিশদের আগের পারফরম্যান্স মিলিয়ে স্বস্তিতে ছিলো না ইংলিশরা মোটেই ।

টসে হেরে ব্যাটিং এ নেমে সাবধানী মঈন আলী আর ইয়ান বেল । সকালের ভাবটা কাটতেই স্ট্রোক খেলা শুরু করলেন মঈন আর তাকে ভালো সঙ্গ দিচ্ছিলেন ইয়ান বেল । একপাশ থেকে ইয়ান বেল যখন শুধু স্ট্রাইক রোটেশনের কাজে হাত দিয়েছেন , অন্যপাশে দারুন সব শটে দলের একাউন্ট ভারি করছেন মঈন আলী । ৮৫ বলে ৫৪ রানের সলিড ইনিংস খেলে বেল যখন ওপেনিং জুটি ভাঙার পর ফিরছেন অন্যপাশে দেখে ফেলেছেন সঙ্গী মঈন আলীকে সেঞ্চুরি করতে ।

হাসল ইংল্যান্ড , হাসল মঈনের ব্যাট
হাসল ইংল্যান্ড , হাসল মঈনের ব্যাট

বেল ফেরার পরে বেশিক্ষণ আর থাকতে পারেন নি আলীও । অল্প রানের ব্যবধানে ইংলিশ টপ অর্ডারের পতনঘটে দ্রুত । মঈন আলী , জো রুট আর গ্যারি ব্যালান্স দ্রুত ফিরে গেলে ইংলিশদের ৩০০ রানের ম্যাজিকাল ফিগারটা ছোঁবার জন্যে কারো একটা ভালো ইনিংস লাগত আর তার চাইতেও দরকার ছিলো কোন একজনের একপাশ থেকে বাকিদের গাইড করা । সে কাজটা ভালোভাবেই করলেন এউইন মরগান !

প্রথমে টেলর আর পরে বাটলারকে নিয়ে দুটো ক্যামিও জুটিতে দলকে ৩০০ ছুঁইয়েই বিদায় নিলেন তিনি । স্লগ ওভারে ইংলিশরা পাগলাটে ব্যাটিং না করে বরং বেছে নিয়েছে লক্ষ্য স্থির করে ভালো ক্রিকেট শটে স্কটিশদের ভালো একটা টার্গেট দেওয়ার রাস্তা ।

আগের ম্যাচে ব্যাটিং এ দুঃস্বপ্ন পার করা স্কটল্যান্ডের জন্যে ৩০৪ রানের টার্গেটটা যে ছোট ছিলো না তা বোঝা যায় তাদের তেঁড়েফুঁড়ে সূচনা দেখেই। রিকোয়ার্ড রানরেটটা নিয়ে বোধহয় একটু বেশিই ভেবেছিল স্কটিশরা । তাই দ্রুত রান আসলেও সমান তালে পড়তে থাকে উইকেট । অভিজ্ঞ কাইল কোয়েটজার একপাশে দারুন সব চারের মারে নিজের ইনিংসটা বড় করছিলেন বটে , তবে তাতে ইংলিশদের দুশ্চিন্তা তেমন বাড়ে নি কখনোই । মরগানের বোলিং চেঞ্জগুলো উইকেট আনছিলও প্ল্যানমত !

কোয়েটজারকে ফিরিয়ে আসল কাজটা মঈন সারলেন বল হাতেও
কোয়েটজারকে ফিরিয়ে আসল কাজটা মঈন সারলেন বল হাতেও

ব্যাট হাতে দারুন দিন পার করা মঈন আলীর হাতেই এলো দিনের সবচাইতে মহামূল্য উইকেট । কাইল কোয়েটজারের উইকেট নিয়ে ব্যাটসম্যান মঈনের মত বোলার মঈনও ভিলেনে পরিণত হলেন স্কটিশদের কাছে । কোয়েটজারের ফেরার সময় ২৬ ওভারে স্কোরবোর্ডে ১২২ রান বোঝায় , কক্ষপথেই ছিলো স্কটিশরা । তবে উইকেটের ঘরে ৫ আর সব সেট ব্যাটসম্যনের আউট হয়ে যাবার ব্যাপারটা বোঝায় , এই রানের গতিটার লাগাম ইংলিশরা টেনে ধরবে তাড়াতাড়িই ! বাস্তবে হলও তাই ! বাকিরা মিলে পরাজয়ের আকারটা ১১৯ রানে কমিয়ে আনলেন ! মরগানের নেতৃত্বে ফিন-ব্রড আর ক্রিস ওকসরা মিলে দারুন পেশাদারিত্বে স্কটিশদের স্বপ্নকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ।

ঘূর্ণিঝড়ের ক্রাইস্টচার্চ দেখলো একটি একপেশে ম্যাচ ! আরেকটি টেস্ট প্লেয়িং দল পেলো তাদের ছন্দ !
বড় প্রশ্নটা তোলা রইল সময়ের হাতেইঃ “ইংলিশদের এ বদলে যাওয়া কি শুধু স্কটিশদের পেয়েই ? নাকি ২০১০ এর টি ২০ বিশ্বকাপের মত কোন রূপকথার শুরু ?”

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

15 + 4 =