আহ !!!!!!!!

ক্রিকিনফো

অন্যকোন শিরোনাম কোনভাবেই খুঁজে পাচ্ছিলাম না । স্রেফ … আহ !!! এমন ম্যাচ জয় ! এমন প্রতিপক্ষের সাথে ! ঐতিহাসিক শত্রু ! ২০১২ এর এশিয়া কাপের পরে ক্রিকেটেও আমাদেরকে সবচেয়ে বড় দুঃখ দেওয়া দলটার নাম হলো পাকিস্তান । মাঝে ২০১৪তে আরো একবার ইশশশ… টাইপের সাউন্ড করতে করতে অনেক হতাশা নিয়ে স্টেডিয়াম থেকে বাসায় ফেরা । আর নয় ৯৯ হাতড়ে সন্তুষ্ট হয়ে থাকবার পালা । একদম ইন স্টাইল ! বাঘের বেশে ! রাজার বেশে !

রাজার বেশে কথাটা নিয়ে আপনার আপত্তি থাকতে পারে … আমারও আছে । আবুল হাসানের বাজে বোলিং না হলে ? শুরুর স্পেলটায় রুবেল-তাসকিনের পাশে অভিজ্ঞ ম্যাশ থাকলে ? হেলায় ফেলায় অনেকগুলো রান ওদের না দিয়ে দিলে ? এ ম্যাচ তো বাংলাদশের ১০০ রানের মার্জিনে জেতার কথা কমসে কম , ৭৯ রান জিতে এত খুশি হবার কি আছে ?

প্রথম ধাক্কাটা আরাফাত সানিরই
প্রথম ধাক্কাটা আরাফাত সানিরই

সাকিবের বলে আজমলকে যে লেগ বিফোরটা আজমলকে দেওয়া হলো, তা নিয়ে একটু প্রশ্ন নিরপেক্ষ জায়গা থেকে থাকতে পারে । তবে ম্যাচে বাংলাদেশের আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন করার লোক কয়জন আছে ? ক্যাপ্টেন আজহার আলীকে যখন পাকিস্তানের ১৪৮ রানে আর আজহারের ৭২ রানে তাসকিন দারুন এক ডেলিভারিতে ফিরিয়ে দিলেন , ম্যাচটা বাংলাদেশের দিকে অর্ধেক হেলে যায় তখনই । তাসকিনের আরেকপ্রস্থ আঘাতে কিছুকাল পরে ফিরে যেতে হয় হারিস সোহেলকেও । আগে পরে দুইবার বড় বড় জুটি ভাঙার মিশনটা আরাফাত সানি কমপ্লিট করেছেন নবাবের মতো ! আর সাকিব আর রিয়াদ ? সময়মত দারুন কিছু ওভার প্রডিউস করে চাপ বাড়য়েছেন ।

তাসকিন মানেই ব্রেকথ্রু
তাসকিন মানেই ব্রেকথ্রু

এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং এ ড্রামা মেলোড্রামা কম হয় নি ।

১) ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৪০ পেরিয়েছে । অনেকদিন পরে ভালো ওপেনিং স্ট্যান্ড । এ সময়টায় বাংলাদেশের সুযোগটা ছিলো অনেকদূর যাবার । পাকিস্তানের জন্যেও ছিলো কিছু রুটিন ওয়ার্ক নিয়ে কাজ করার । পাকিস্তান তাদের রুটিন ওয়ার্কটা ঠিকভাবে পালন করলো । একের পরে এক ডট বল দিতে লাগলেন ওয়াহাব রিয়াজ আর সাঈদ আজমল । রানরেট কমতে কমতে তিনের দিকে নামতে থাকলো । হাঁসফাঁস করতে থাকা তামিম আর সৌম্য একটা সময়ে চাপ কমাতে নিলেন ঝুঁকি । রান আউট হলেন সৌম্য । রিয়াদ আসার পরে চাপ বাড়িয়ে দিলো পাকিস্তান । রানরেট আরো কমতে কমতে এক সময়ে রিয়াদও ফিরে গেলেন ।

ক্রিকিনফো
১৭৮ রানের জুটি গড়ার পথে তামিম-মুশফিক

২) রিয়াদ আউট হবার পরে পাকিস্তানের সুযোগ ছিলো আরো কিছু উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে বের করে দেবার । কিন্তু পাল্টা চার্জ করে মুশি লাগাম টেনে নিলেন নিজের হাতে ।
এই দুটো জায়গাই মূলত ব্রেকথ্রু পয়েন্ট ইনিংসের । যার একটাতে গেইমটা পাকিস্তান বুদ্ধির সাথে খেলেছে । আর আরেকটায় মুশফিক এতোটাই ভালো খেললেন যে , পাকিস্তানকে যেন একদম ফুঁ দিয়ে ম্যাচ থেকে বের করে দিলেন ।

মুশফিক মানেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া
মুশফিক মানেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া

একপাশে মুশি খেলেছেন আর আরেকপাশে তামিম প্রথম দিকে ফিফটি করার আগ পর্যন্ত বেশ স্লো ছিলেন । মুশি কন্ট্রোলটা টেনে এনে হতোদ্যাম বোলিং করাতে বাধ্য করেন পাকিস্তানের মাঝের বোলারদের । আর তামিম সেই সুযোগটা নিয়ে বাংলাদেশকে দিলেন ৩০০ পেরোনোর গ্যারান্টি । ১৫ চার আর ৩ ছক্কার তামিমের ১৩৫ বলে ১৩২ রানের ইনিংসটি যখন পাকিস্তানের সেরা বোলার ওয়াহাব রিয়াজের বলে শেষ হয় , মুশির চ্যাপ্টারে তখন আরো কিছু বাকি । কি দারুন ডমিনেশন ! কম্পিউটার গেমসের মত অটোমেটেড প্লেইসমেন্ট ! শুধুমাত্র মুশফিককে দিয়েই সম্ভব বাংলাদেশে । যখনই পাকিস্তানিরা ডটবল দিয়ে কিছু একটা করার কথা ভেবেছে মুশির ব্যাটের চপেটাঘাত মনোবল ভেঙে দিয়েছে পাকিস্তানি বোলারদের ।

ক্রিকিনফো
ছবির মতোই বিবর্ণ আজমল

তবে ওয়াহাব রিয়াজ আর বাকিরা দারুন স্লগ বোলিং করায় শেষটা যেন প্রত্যাশামতো হয় নি আমাদের । কম করে কম করেও পাকিস্তানের টার্গেটটা ৩৩০ রানের ।

সিরিজ চাই ! সিরিজ ! অন্যকোন রেজাল্ট আমাদের জন্যে ভালো ফলাফল না …

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 + seventeen =