আহ! মিডলসব্রো!

বাসায় এসে অভ্যাসবশতঃ ফুটবলের বিভিন্ন সাইটে ব্রাউজ করি। এরকম ব্রাউজ করতে করতেই নিউজটায় চোখ আটকে গেল। সাত বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসছে মিডলসব্রো! সাত বছর পর!
 
পাঁড় ফুটবল ভক্ত মাত্রই মিডলসব্রো বলার সাথে সাথে চোখের সামনে ভেসে উঠবে একটা মোটামুটি ঝামেলা-পাকানো একটা দলের ছবি, যারা কিনা অন্যান্য দলের সাথে যেমন তেমন খেলুক না কেন, নিজেদের মাঠ রিভারসাইড স্টেডিয়ামে একবিন্দুও ছেড়ে কথা কইতে চাইত না। সে তুমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বা লিভারপুলের মত শক্তিশালী দল হও, কিংবা ডার্বি কাউন্টির মত রেলিগেশান স্ট্রাগলার। নিজে লিভারপুলের সমর্থক বলে একটা বিশেষ ঘটনার কথা এখনো মনে আছে ; ২০০৮-০৯ মৌসুমে ইংলিশ লিগ শিরোপা জয়ের মোটামুটি কাছাকাছিই চলে এসেছিল রাফায়েল বেনিতেজ, জেরার্ড-টরেস-আলোনসো-ম্যাশেরানো-ক্যারাঘারের লিভারপুল। সেই পুরো মৌসুমে লিভারপুল হেরেছিল মাত্র দুইটা দলের কাছে। এক – টটেনহ্যাম, আর দুই নাম্বার হল এই মিডলসব্রো। মিডলসব্রো’র কাছে হার তাদের মাঠ রিভারসাইডেই ; ২-০ গোলে। স্টুয়ার্ট ডাউনিংয়ের ক্রস ক্লিয়ার না করতে পেরে নিজের জালেই বল জড়িয়ে দেন জাবি আলোনসো, ফর্মের তুঙ্গে থাকা স্ট্রাইকার টুনচায় স্যানলি বাকি গোলটা করে কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন, মোটামুটি তাতেই শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা ভেস্তে যায়। ২০০২ সালের পর থেকে এই রিভারসাইডটা জয় করা হয়নি লিভারপুলের, দেখা যাক সামনেরবার পারা যায় কিনা!
স্টুয়ার্ট ডাউনিং
স্টুয়ার্ট ডাউনিং
 
এই মিডলসব্রো হল স্টুয়ার্ট ডাউনিং এর মিডলসব্রো। যেখানে তাঁর ফর্মের ঝলকানি দেখেই অ্যাস্টন ভিলা, লিভারপুলের মত ক্লাব পরবর্তীতে তাঁকে কিনতে বাধ্য হয়েছিল ; যদিও সেই ফর্ম পরবর্তীতে দেখাতে পেরেছেন সামান্যই।
টুনচায় স্যানলি
টুনচায় স্যানলি
 
এই মিডলসব্রো হল লিডসে স্বর্ণালি সময় কাটিয়ে আসা অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তী মার্ক ভিদুকার মিডলসব্রো। অস্ট্রেলিয়ান আরেক কিংবদন্তী মার্ক শোয়ার্জারের কিংবদন্তী হয়ে ওঠার মিডলসব্রো। এই মিডলসব্রো হল আর্সেনাল কিংবদন্তী রে পার্লার বা বার্সার নামীদামী ডাচ রাইটব্যাক মাইকেল রেইজিগার বা চেলসি-অ্যাটলেটিকো-লিডসের হয়ে মাঠ মাতানো জিমি ফ্লয়েড হ্যাসেলবাইঙ্কের ক্যারিয়ার-সায়াহ্নের মিডলসব্রো।
মার্ক শোয়ার্জার
মার্ক শোয়ার্জার
এই মিডলসব্রো রাফ-অ্যান্ড-টাফ অস্ট্রিয়ান সেন্টারব্যাক ইম্যানুয়েল পোগাতেতজের মিডলসব্রো, যেই পোগাতেতজ সেইসময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ তারকা রড্রিগো পজেবনের পা ভেঙ্গে দিয়ে ক্যারিয়ারটাই শেষ করে দিয়েছিলেন বেচারার। সর্বোপরি এই মিডলসব্রো জুনিনহোর মিডলসব্রো, নাহ সেই ফ্রি-কিক স্পেশালিস্ট জুনিনহো নন, ইনি আরেক জুনিনহো, কিন্ত গুরুত্বে মিডলসব্রো সমর্থকদের কাছে আসল জুনিনহোর থেকে কম ছিলেন না মোটেও! এই মিডলসব্রো আফোনসো আলভেস, গ্যারেথ সাউথগেট, রবার্ট হাথ, জোনাথান উডগেটদের মিডলসব্রো!
"ম্যাড-ম্যান" পোগাতেতজের সেই কেলেঙ্কারি
“ম্যাড-ম্যান” পোগাতেতজের সেই কেলেঙ্কারি
 
আমার মত ফুটবলপ্রেমিকদের জন্য জিনিসটা যথেষ্টই রোমান্টিসিজমের, যথেষ্টই ছোটবেলার স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার মত জিনিস। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর্সেনাল, লিভারপুল, চেলসিদের যখন যেকোন মুহূর্তেই হারিয়ে দিত এইসব মিডলসব্রো, পোর্টসমাউথ, বোল্টন, চার্লটন, ফুলহ্যামের মত দলগুলো। আস্তে আস্তে মিডলসব্রোর মত বাকি দলগুলোও ফিনিক্স পাখির মত নিচু সারির লিগগুলো থেকে উঠে আসলে মন্দ হত না!
প্রোমশান নিশ্চিত হবার পর উল্লসিত বোরো সমর্থকেরা
প্রোমশান নিশ্চিত হবার পর উল্লসিত বোরো সমর্থকেরা

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × two =