আসল ইংলিশ নায়কের কথা

চেমসফোর্ডের কিশোরটা ছিল একেবারেই ফুটবল পাগল। ঘরময় ফুটবলে লাথি মারতে মারতে ছুটে বেড়াত, তটস্থ থাকত পাড়া-প্রতিবেশী। ত একদিন এই বল নিয়ে খেলতে খেলতেই একটা শট ভুলে প্রতিবেশীর বাগানে চলে গেল, নষ্ট হল কিছু গাছের চারা। প্রতিবেশী কর্তাও সুযোগ বুঝে ছেলের কাছ থেকে পইপই করে এক ডলার জরিমানা নিয়ে নিলেন, ঘরের শান্তি বিনষ্ট করার অভিযোগে! পরে সেই লোক কি বুঝেছিলেন যে যার কাছ থেকে এই জরিমানা নিচ্ছেন সেই ছেলের হাত ধরেই আসবে ইংল্যান্ডের সবচাইতে বড় প্রাপ্তি, সবচেয়ে বড় পুরস্কার?

বলছি জিওফ হার্স্টের কথা। ইংল্যান্ড ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্ট্রাইকার। এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র খেলোয়াড় যিনি কিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন – ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে, পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে।

জার্মানির বিপক্ষে সেই বিখ্যাত তিন নাম্বার গোল করার সময়
জার্মানির বিপক্ষে সেই বিখ্যাত তিন নাম্বার গোল করার সময়

ওয়েস্টহ্যামের এই কিংবদন্তী মিডফিল্ডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরে তৎকালীন ওয়েস্টহ্যাম কোচ রন গ্রিনউডের তত্ত্বাবধানে স্ট্রাইকারে রূপান্তরিত হন। ওয়েস্টহ্যামের হয়ে তাঁর প্রথম মৌসুমেই ২৯ ম্যাচে ১৫ গোল করে হার্স্ট বুঝিয়ে দেন কোচের সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল না। শুধুমাত্র নিয়মিত গোল করাই নয়, মার্কার ডিফেন্ডারকে তাঁদের পজিশন থেকে টেনে সরিয়ে নিয়ে এসে স্বার্থহীনভাবে সতীর্থদের জন্য মাঠে জায়গা করে দেওয়াটা ছিল এই স্ট্রাইকারের বড় একটা গুণ। তাই তাঁকে ইংল্যান্ড ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম অলরাউন্ড ফরোয়ার্ড বললেও বোধকরি ভুল কিছু বলা হবেনা।

তবুও জাতীয় দলে কোচ আলফ র‍্যামসের প্রথম পছন্দের স্ট্রাইকার ছিলেন না কিন্তু তিনি। থাকবেনই বা কিভাবে, ইংল্যান্ড দলে খেলেন তখন আরও দুই কিংবদন্তী, চেলসি-টটেমহ্যামের নামকরা স্ট্রাইকার জিমি গ্রিভস ও লিভারপুলের রজার হান্ট। তাঁদের ছায়াতলে নবিশ হার্স্টের উপর অতটা ভরসা প্রথমে করেননি র‍্যামসে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সাথে গোলের সুবাদে আর জিমি গ্রিভসের ইনজুরির কারণে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে যাওয়ার পরেই কেবলমাত্র সেমিফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে হান্টের সাথে ফরোয়ার্ড লাইনে জুটি বাঁধার সুযোগ পান হার্স্ট।

15356876_1355808104451893_1586863990_n

কোচের আস্থার প্রতিদানও দেন তিনি, ববি চার্লটনের দুই গোলের এক গোল বানিয়ে দিয়ে। আর ফাইনালে ত নিজেই আবির্ভুত হলেন নায়ক রূপে, পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ৪-২ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ জেতে ইংলিশরা, যেটা এখনো পর্যন্ত ইংল্যান্ড ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ও একমাত্র সাফল্য হয়ে আছে।

আজ এই বিখ্যাত কিংবদন্তীর জন্মদিন। শুভ জন্মদিন, স্যার জিওফ চার্লস হার্স্ট!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

eight + fifteen =