আশাবাদী হতে পারছিনা

আফগানিস্তান খেলছে জার্মানির মতো! মালদ্বীপকে বদলে দিয়েছেন গত বিশ্বকাপের কিউই কোচ রিকি। সেই গ্রুপেই আছে আমাদের বাংলাদেশ। ভুটানও এখন আর গেলাম আর হারালাম এর দল নেই। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে এবারো গ্রুপ থেকেই বিদায় নেবে আমাদের কথার খই ফোটানো ফুটবলাররা। শুনতে খারাপ লাগলে আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি এই প্রথমবারের মতো নিরাশাবাদী হলাম। বলা চলে, গুণধর ফুটবল বাহিনী আমাকে বাধ্য করলো নিরাশাবাদী হতে বাধ্য করলো।
খুব খারাপ লাগে কারও অসহায় আত্মসমর্পণ দেখতে। আমার কলাম সীমানার ওপার থেকের এটা ৫০ তম পোষ্ট। চেয়েছিলাম ভালো কিছু লিখতে, আমার নৈরাশ্য ভালো লাগে না একেবারেই। কিন্তু কাল যে খেল দেখলাম! এরপর আর কি আশা করবো বুঝতে পারছি না।
এরা জয়ের জন্য নেমেছিল? তাহলে আক্রমণ কই? ছোট ছোট পাসে খেলা গড়ার চেষ্টা কই? দুই পাস দিয়েই আফগানদের পায়ে বল দিলে জয় কিভাবে আসবে? আমি ফুটবল বেশি বুঝি না, কিন্তু আমার দেখা সেরা কৌশল ছিল গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ইরান ম্যাচে কার্লোস কুইরজের খেল। মেসির একটি ম্যাজিকাল মোমেন্ট ছাড়া আর্জেন্টিনাকে ইরান রুখেই দিয়েছিলো। তারা মূলত ছিল ডিফেন্সে, বজ্র আঁটুনি দিয়ে, কিন্তু গেরো ফসকায়নি। আর আমরা নিচে নেমে প্রতিপক্ষের পায়ে বল দেখলে ভয়ে হাসকর ভুল করি। সেট পিস থেকে নিয়মিত গোল খাই। মারকিং করতে পারিনা ঠিকমতো। আমরা প্রতিপক্ষের পায়ে বল দেখলে কেড়ে নেবার কোন চেষ্টাই করিনা। আর কি বলবো! এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানেনা এই দেশের ফুটবল একদিন পাল্লা দিত ঐ ইরানের সাথে। আসলাম সালাম সালাউদ্দিনের খেলা চুম্বকের মতো টানত মানুষকে। আর এখন? মালদ্বীপ নেপাল ভুটান আফগানিস্তান এগিয়েছে আর একই গতিতে আমরা পিছিয়েছি।
খালি হতাশার কথা। এর মধ্যে মামুনুল লেখেন খোলা চিঠি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের পরে। ভালো খেললে তো আর এসব করা লাগেনা। অন্তত চেষ্টা তো থাকতে হবে। পরিকল্পনা তো থাকতে হবে। সুযোগ পেয়ে হেলায় হারানো যাবে না, বাচ্চাদের মতো ভুল করা যাবেনা। ধনুকভাঙ্গা পণ চাই- হারার আগেই হার নয়!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nineteen + four =