আর মাত্র কয়েক ঘন্টা

প্রতীক্ষার পালা শেষ হচ্ছে আজ। অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘন্টার। ঐতিহ্যবাহী সানসিরো আয়োজন করতে যাচ্ছে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ম্যাচের যেখানে গত তিনবছরের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল খেলতে নামছে দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট, দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেটিকো মাদ্রিদ। জমজমাট একটি ফাইনালের প্রতীক্ষায় কোটি কোটি চোখ। একদিকে ঐতিহ্য আর রাজকীয় দম্ভ আরেকদিকে সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে উঠা দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস। জয় হবে কার? বাজিকররা হয়তো বাজি ধরবে রিয়াল মাদ্রিদের ঐতিহ্য আর তারকার হাটের দিকেই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান যে ভিন্ন কথা বলে। লিসবনে সার্জিও রামোসের সেই ৯২ঃ৪৮ এর জাদুর পর থেকে গত দুই বছরে অবিশ্বাস্য দিয়েগো সিমিওনের দল। গত দুই বছরে দশ মোকাবেলায় হার মাত্র একটি ম্যাচে। রিয়াল মাদ্রিদ অবশ্য আশার আলো পেতে পারে এই একটি জয় থেকেই। এই জয়টি যে এসেছে ইউসিএল এর ম্যাচেই। সিমিওনে কি পারবেন নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ঘরোয়া টুর্নামেন্টের জয়ের ধারা ইউরোপিয়ান লড়াইয়েও বজায় রাখতে? নাকি ক্ষুরধার পারফরম্যান্স দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সব পরিসংখ্যান উলট পালট করে দিবে রিয়াল মাদ্রিদ? সপ্তম ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ দুই ভুমিকাতেই ইউসিএল জয়ের রেকর্ডের হাতছানি আছে জিদানের সামনেও। রিয়ালের কোচ হিসেবে যার রেকর্ড আছে মিগুয়েল মুনোজ আর কার্লো আঞ্চেলত্তির ও। রাফা বেনিতেজের অধীনে মৌসুমের মাঝপথে এসে দুঃস্বপ্নে হাবুডুবু খাওা রিয়াল মাদ্রিদকে যে এই জায়গায় এনে দাড় করিয়েছেন এই ফ্রেঞ্চ কিংবদন্তি একে একটা পুনর্জাগরনই বলা যায়। লীগের জন্য তার দল লড়াই করেছে শেষ মিনিট পর্যন্ত। আতলেটিকোর সাথে ১-০ গোলে হারের পর একটানা জিতেছে লীগের ১২ ম্যাচও। তাছাড়া নিজের সেরা অস্ত্র গুলোকে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগও পাচ্ছেন জিদান। জিদানের অধীনে ক্রমেই দলের অন্যতম বড় অস্ত্র হয়ে উঠা ক্যাসেমিরো আজ শুরু থেকেই খেলছেন এটা একরকম নিশ্চিত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রিয়াল পাচ্ছে না সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানেকে। হামস্ট্রিং এর চোটে এই ফ্রেঞ্চম্যান ছিটকে গেছেন ইউরো থেকেও। গত এক সপ্তাহ ধরে সমর্থকদের মনে জেকে বসা ‘রোনালদোর চোট শংকা’টাও কেটে গেছে। আজকে শুরু থেকে শতভাগ ফিট রোণালদোকে পাচ্ছেন জিদান এটা বলাই যায়। ইউসিএলে এই মৌসুমে ইতিমধ্যেই ১৬ বার জালে বল পাঠিয়েছেন এই পর্তুগীজ। টানা ছয় মৌসুমে ৫০ এর বেশি গোল এর রেকর্ডটাও পকেটে পুরেছেন কদিন আগেই। এই মুহুর্তে ইউরোপের অন্যতম সেরা রক্ষনভাগ সমৃদ্ধ আতলেটিকোর মুখোমুখি হলেও গ্যারেথ বেল, বেনজেমা আর রোনালদোর সম্মিলিত পারফরম্যান্স ভেঙ্গে চুড়ে দিতে পারে আতলেটিকোকে। এদিকে সিমিওনের অধীনে বদলে যাওয়া আতলেটিকো জিততে পারেনি একমাত্র এই শিরোপাটিই। ফার্নান্দো তোরেসের পুনরুত্থান আর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা গ্রিজম্যানের সাথে তার বোঝাপড়া চমকে দিতে পারে রিয়াল মাদ্রিদকে। তাছাড়া ২০১৪ সালে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে যে আতলেটিকোর মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল তাদের সাথে বর্তমান আতলেটিকোকে কোন ভালেই মেলানো সম্ভব নয়। স্বভাবসুলভ রক্ষনাত্মক কৌশলে খেলা আতলেটিকো সমানভাবে দক্ষ কাউন্টার অ্যাটাকেও। লিসবনের আতলেটিকো ছিল অনেকটা সেটপিস নির্ভর। কিন্তু এবার রিয়ালকে জিততে হলে শুধু সেট পিস আটকানোই নয় বরং এগিয়ে থাকতে হবে বল দখল, প্রেসিং সহ খেলার প্রতিটি অংশেই। জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর জিদান খুব কম সময়েই অনেকটা পাড়ি দিয়েছেন এটা একবাক্যে মেনে নেবে সবাই কিন্তু সিমিওনেও কি কম? এই ম্যাচ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তাদেরও দ্বৈরথ বটে। ঐতিহাসিক মঞ্চ প্রস্তুত। প্রস্তুত দু দল। প্রস্তুত আমরা কোটি সমর্থক। শেষ হাসি হাসবে কে? উনদেসিমা হবে নাকি প্রিমেরা? এগারো নাকি প্রথম? অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘন্টা

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four + 10 =