আর্সেনালের নীল চাঁদ জয়

ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে সপ্তাহের সব ম্যাচ শেষ শুধু একটি ম্যাচ ছাড়া, বলা যায় সবচেয়ে বড় ম্যাচটিই বাকি ছিল। পয়েন্ট টেবিলের ২য় এবং ৩য় স্থানে অবস্থানরত আর্সেনাল এবং ম্যানচেস্টার সিটির ম্যাচ। খেলার আগে জানাই ছিল ফলাফল যাই হোক না কেন দুই দলের পয়েন্ট টেবিলে স্থানের কোনো পরিবর্তন হবেনা, কিন্তু শীর্ষে থাকা লেস্টার সিটির সাথে পয়েন্ট ব্যবধান বাড়ানো এবং কমানোর একটা সম্ভাবনা ছিল উভয় দলের। খেলা এমিরেটস স্টেডিয়ামে হলেও ম্যাচ শুরুর আগে প্রধান ‘টীম বুস্ট’ পেলো ম্যানচেস্টার সিটি। দলের সেরা স্ট্রাইকার কুন আগুয়েরো ফিরেছেন ইঞ্জুরি থেকে। ফেরার কথা ছিল আর্সেনালের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আলেক্সিজ সাঞ্চেজেরও কিন্তু ইঞ্জুরি সেট ব্যাকের কারণে এই ম্যাচে ফেরা হয়নি তার। গত সপ্তাহের মূল একাদশ নিয়েই মাঠে নামলো আর্সেন অয়েঙ্গারের দল। শুরুটা ঢিলেঢালা হলেও বেগ ফিরে পেতে দেরী হয়নি ম্যানচেস্টারের দলটির। আক্রমণের পর আক্রমণ করে যায় তাঁরা, ব্যস্ত হয়ে ওঠে আর্সেনালের রক্ষনভাগ। খেলার ৩০ মিনিটে ম্যানচেস্টার সিটির নতুন সাইনিং এবং এই সিজনে তুখোড় ফর্মে থাকা বেলজিয়ান কেভিন ডি ব্রুইনা অল্পের জন্য এগিয়ে নিতে পারেননি তার দলকে। ম্যাচের স্রোত যখন ম্যানচেস্টার সিটির দিকে, ঠিক তখনই আর্সেনালের পালে যেনো এক শক্ত হাওয়া নাড়া দিলো ! ৩৩ মিনিটে খেলায় আর্সেনালের প্রথম সুযোগেই দুর্দান্ত এক গোল করলেন ইংলিশ উইঙ্গার থিও ওয়ালকট, গোলটির অ্যাসিস্ট ছিল জার্মান প্লেমেকিং যাদুকর মেসুত ওজিলের।

2F8E387800000578-3369444-Walcott_salutes_the_home_crowd_after_the_33rd_minute_goal_agains-m-1_1450741224592

গোল করে ম্যাচের স্কোরলাইন পালটানোর সাথে সাথে ওয়ালকট পুরো আর্সেনাল দলের চেহারাও পাল্টে দিলেন। অ্যাটাক তখন শুরু হয় উভয়পক্ষ থেকেই। প্রথমার্ধ প্রায় শেষের দিকে, এক মিনিট অতিরিক্ত সময়ে থাকাকালে হঠাৎ সেই মেসুত ওজিলের পাসে বল পেয়ে যায় আর্সেনালের ফরাসি স্ট্রাইকার অলিভিয়ের জিরু এবং কোনো ভুল না করে জো হার্টের পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়ান বল। ২ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। সিজনের ১৫তম গোল ছিল এটি জিরুর, একই সাথে লীগে এটি ছিল ওজিলের ১৫তম অ্যাসিস্ট। থিয়েরি অরির করে যাওয়া এক সিজনে সর্বাধিক ২০টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভাঙ্গতে আর মাত্র ৬টি অ্যাসিস্ট দরকার এই জার্মান প্লেমেকারের, হাতে ম্যাচ আছে ২১টি ! দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল রক্ষনশীল এবং ম্যানচেস্টার সিটি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও বেশ কিছু সুযোগ পায় আর্সেনালের জোয়েল ক্যাম্পবেল এবং অ্যারন রামসে কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি তাঁরা। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সিটির খেলোয়াড়রাও, আর্সেনাল যেনো মরিনহোর সেই বিখ্যাত বাসই পার্ক করে রেখেছে গোলপোস্টের সামনে। কিন্তু সিটির আইভরিয়ান মিডফিল্ডার ইয়াইয়া টোরের এক অবিশ্বাস্য শট গোলে পরিণত হয় খেলার ৮২ মিনিটে। এরপর চলে শ্বাসরুদ্ধকর কিছু সময় উভয় দলের সমর্থকদের জন্য। কিন্তু সব প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানেই জয় লাভ করে আর্সেনাল। লেস্টার সিটির সাথে দুই পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও ৩য় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে যায় তাঁরা। চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো বড় দলগুলো যেখানে বরাবরই হোঁচট খাচ্ছে আর্সেনাল সেখানে উড়ছে পাহাড় সমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে। ১১ বছরের অধরা লীগ শিরোপা জয় করার এটাই হয়তো আর্সেনালের সেরা সুযোগ, কিন্তু সে সুযোগ কি আর্সেন অয়েঙ্গারের দল কাজে লাগাতে পারবে ? সেটা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আর মাত্র ২১টি লীগ ম্যাচের।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

13 − eleven =