আর্জেন্টিনা ভার্সেস জ্যামাইকাঃ ৫টি কথা

জ্যামাইকার সাথে ১-০ গোলের দৃষ্টিকটু জয়ে আর্জেন্টিনা গ্রুপ স্টেজে তাদের লক্ষ্য পূরণ করেছে, গ্রুপ ‘বি’ তে প্রথম স্থান অর্জন।

লিওনেল মেসির জাতীয় দলের হয়ে ১০০তম ম্যাচটি ইচ্ছা করলেই মেসি ও কো. অনেক অনায়াসেই জিততে পারত, কিন্তুূ বাকি ২ ম্যাচের মতই ক্লাব স্টেজের সুপারস্টাররা জাতীয় দলের হয়ে তাঁদের ক্লাব ফর্ম নিয়ে আসতে পারেননি।

বড় স্কোর আশা করলেও হিগুয়েনের ১১ মিনিটের গোলটিই ছিল আর্জেন্টিনার একমাত্র সম্বল।
বড় স্কোর আশা করলেও হিগুয়েনের ১১ মিনিটের গোলটিই ছিল আর্জেন্টিনার একমাত্র সম্বল।

আসুন দেখে নেই আর্জেন্টিনা ও জ্যামাইকার মাঝের ম্যাচের ৫টি অবজারভেশন।

১। ম্যাচটি ছিল যেন একটি ট্রেনিং সেশনঃ

জ্যামাইকার সাথের ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য ছিল যেন একটি ট্রেনিং সেশন। হিগুয়েনের আরলি গোলের আগেই ২ জন খেলোয়ার ব্যাক-হিল করেছেন, তাঁদের মধ্যে এক জন আবার মারটিন ডেমিকেলিস। মার্কোস রোহো তো আরেক কাঠি সরেস, বক্সে রেবোনা ক্রস করেছেন। শুরুর দিকে প্রেসিং ভালো ইন্টেন্স থাকলেও সময়ের সাথে সাথে তা একেবারেই কমে যায়। অনেক সময় খেলোয়াররা কোন কারণ ছাড়াই শো-বোটিং করেছেন।

২। সাবেলার আমলের শক্ত ডিফেন্স এখন তাসের ঘরঃ

আর্জেন্টিনার ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠার পিছে তাঁদের বিখ্যাত অ্যাটাক না, বরং তাঁদের ডিফেন্সের ভূমিকা বেশি ছিল, সে ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। কিন্তু সাবেলার সেই শক্ত ডিফেন্সের অবস্থা করুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে টাটা মারটিনো ম্যানেজার হবার পর। গতকালের কথাই ধরা যাক। শেষ ৫ মিনিট যখন জ্যামাইকা আরেকটু আক্রমণাত্তক হয়েছে, আর্জেন্টিনা ডিফেন্সকে তখন যথেষ্ট নার্ভাস লাগছিল। মাসচেরানো-বিগ্লিয়া ডবল পিভট খেলানোতে ডিফেন্সের কিছুটা উন্নতি হলেও রেঙ্কিং এর ৬৫তম দলের সাথে এমন বাজে অবস্থা হলে, চিলি, কলম্বিয়া, ব্রাজিল এসব দলের সাথে ডিফেন্সের কি অবস্থা হতে পারে সেটা চিন্তা করলে যেকোনো আর্জেন্টিনা ফ্যানের মনেই ভয় আসতে পারে।

মরার উপর খাঁড়ার ঘা, ইয়েলো খাবার কারণে পাবলো জাবালেতা কোয়ারটার-ফাইনাল খেলতে পারবেন না। ফলে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জঘন্য খেলা রনকাগলিয়াকেই নামাতে হবে কোয়ারটার-ফাইনালে।

৩। অতিরিক্ত ন্যারো খেলাঃ

জ্যামাইকা অনুমান মতই খেলছিল পার্ক দ্যা বাস সিস্টেমে। একে রুখে দেবার জন্য আর্জেন্টিনার দরকার ছিল জ্যামাইকা ডিফেন্সকে স্ত্রেচ করা। কিসের কি?! ২ ফুল-ব্যাক রোহো ও জাবালেতা ওভারলেপ করে অনেক সময় সামনে উঠে আসলেও তাঁদের পায়ে বল যায়নি। যখন গিয়েছে তখনও ২ জনকে দেখা গিয়েছে সামনের ফাঁকা ফ্লেঙ্কে দৌড় না দিয়ে মিডফিল্ডে ঢুকে যেতে। যেন অপনেন্টকে স্ত্রেচ করা প্রধান উদ্দেশ্য নয়, পজেশন রাখা প্রধান লক্ষ্য।

৪। বাস পারকিং দলের সাথে দুর্বলতাঃ

এই সমস্যা বহু আগের থেকেই প্রতীয়মান। সাবেলার আমলে যেমন তা বুঝা গিয়েছিল সৌদি আরবের সাথে ফ্রেন্ডলি ও ওয়ার্ল্ড কাপে ইরানের বিপক্ষের ম্যাচে। গত রাতে জ্যামাইকার জমাট বাঁধা ডিফেন্স এই ওয়ার্ল্ড ক্লাস ফরওয়ার্ড লাইন নিয়ে মাত্র ১ বার‍ই ভাঙতে পেরেছে আর্জেন্টিনা।

মাঝে মাঝে মনে হয়, এই দলে একটি স্ত্রং, ফিজিক্যাল টার্গেট ম্যান ধরণের স্ট্রাইকার থাকলে খারাপ হত না, যার মাথায় ক্রস পাঠিয়ে এসব ডিফেন্সিভ দলের বিরুদ্ধে গোল করা যাবে।

৫। কম্বিনেশনহীন অ্যাটাকঃ

লিওনেল মেসি পারলেন না তাঁর ১০০তম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে।
লিওনেল মেসি পারলেন না তাঁর ১০০তম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে।

আর্জেন্টিনার এই ওয়ার্ল্ড ক্লাস অ্যাটাকের মাঝে কোন কম্বিনেশন, কোন কহেশন পাওয়া যায়নি গত ম্যাচে। হিগুয়েন গোলের পরেও ম্যাচে অনেকটাই ফ্লপ, প্রচুর সুযোগ মিস করেছেন। লিওনেল মেসি কিছু চোখ ধাঁধানো ব্রিলিয়ান্স দেখান, কিন্তু বার্সেলোনার ফর্ম থেকে তিনি সো ফার অনেক দূরে। মারিয়া অন্য ২ ম্যাচের তুলনায় এই ম্যাচে ভালো খেললেও তাঁর ফাইনাল ডেলিভারিতে সমস্যা প্রতীয়মান। তাঁদের এই অসাধারণ অ্যাটাকে চিলির খেলার মত কোন ফ্রি-ফ্লো পাওয়া যায় না।

এনিওয়ে, যারা খেলা মিস করেছেন, তাঁদের জন্য ম্যাচের একমাত্র গোলটির ভিডিও লিঙ্ক নিচে দেওয়া হলঃ

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

sixteen + eight =