আরো দশ বছর খেলুন সাকিব

“সাকিবকে দেখেন, অফিস করার মত খেলতে আসে, খেলে দেয় এবং খেলে আবার বাসায় চলে যায় চুপচাপ… ”
মাশরাফি মুর্তজা খুব সম্ভবত এই ধাঁচেরই একটা কমেন্ট করেছিলেন সাকিব আল হাসানের ব্যাপারে । ব্যাটসম্যান সাকিবের চেয়ে মুশফিক বা তামিম ভালো, আবার স্পিনার সাকিবের চেয়ে মোহাম্মদ রফিককে আমার বেশি পছন্দ । তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার আজকে তার দশ বছর পূর্তির দিনে মানুষ আলাদা করে এই মানুষটাকে নিয়ে লেখার কারণ হচ্ছে তার দিনকে দিন “প্যাকেজ সাকিব” হয়ে উঠা …
কতবার যে ৩০/৪০/৫০ বল খেলে সেট হওয়া টেস্ট ইনিংস কভারে ক্যাচ দিয়ে আর সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফোর হয়ে আমাদের জিভ কাটতে বাধ্য করেছেন তার ইয়ত্তা নেই । তবে মানুষ সাকিবকে চিনতে আসলে দেরি করেছে । আস্তে আস্তে বুঝতে পেরেছে, ওটাই আসলে ওর ধরন । ওকে বদলানো যাবে না …
তবে বিশ্বকাপ জিতিয়ে দিলেও শ্রীলংকার সাথে ট্রাইনেশনের ফাইনালে উঠানো ৯০+ ইনিংসটা আমাদের জেনারেশনের ছেলেপেলেরা কখনো ভুলবে না । “অলরাউন্ডার” সাকিবের জায়ান্ট হয়ে উঠা ওখান থেকেই । নিউজিল্যান্ডের সাথে চিটাগাং এর যেই টেস্টে ৭ উইকেট নিলো সেই বিকালের খেলাটা দেখি নি । তাহলে হয়তো ওটাও ক্ল্যাসিকের জায়গায় থাকতো । আর পাকিস্তানের সাথে টেস্ট সেঞ্চুরিটাও মনে থাকার মত অনেকদিনের জন্যে । আসলে ইনিংস তো আছে অনেকই, কিন্তু দিনের শেষে হারা ম্যাচের ইনিংসগুলো কীভাবে যেনো নিজেদের মনের অজান্তেই ফ্ল্যাশ করে দেই আমরা । আর সে কারণেই হয়তো শ্রীলংকা ইনিংসটা ৬/৭ বছর পরে আজও অনেক স্পেশ্যাল আমার কাছে ।
সাকিব আল হাসানের রেংকিং এ উত্থান নিয়ে সবচেয়ে কম কথা মনে হয় তিনি নিজেই বলেছেন । সবচেয়ে বড় মাপের প্রফেশনালদের একজন হওয়াতে তিনি ভালোভাবেই জানেন এবং জানতেন, জিম্বাবুয়ের সাথে একটা ওয়ানডে সিরিজ ভালো রেংকিং পয়েন্ট দেয় । কিন্তু দিনের শেষে ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট হবার মত পারফরম্যান্সগুলোই মানুষ মনে রাখবে । তাই এই রেংকিং নিয়ে কথা বলতে গেলেই এড়িয়ে যান কৌশলে ।
আরো দশ বছর খেলুন,
যা সাফল্য আছে তাকে ১০ গুণ করুন ।
বাংলাদেশকে গর্বিত করুন ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

13 − 12 =