আরো একটা পঞ্চম দিনের আগের রাত

এমন রাত আগে পরে অনেকবার এসেছে। বেশিরভাগ সময়ই সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে রাতের উত্তেজনা শেষ। কখনো দুপুরও হওয়া দরকার হয় না। সকালের সেশনেই শেষ। নিজেদের বারবার বলি, পরেরবার এমন সিচুয়েশনে ঠান্ডা থেকে রাতটা পাড়ি দিয়ে সকালে খেলা দেখতে হবে। কিন্তু পরেরবারটা এসে গেলে আর পারা যায় না।
একজন সেঞ্চুরি করবে, বাংলাদেশ ৩৫০ টপকাবে সবই ভারতের প্ল্যান এ-তেই ছিলো। ছিলো না শুধু সেজন্যে ১৩০ ওভার ফিল্ডিং করার বিষয়টা। মুশফিক মিরাজের পার্টনারশিপ আর তাইজুল-তাসকিন ১০ ওভারের মত বল খেলায় ১৩০ ওভারের মত ফিল্ডিং করতে হলো ভারতের। আর তাতেই প্ল্যান বি-তে সুইচ করলো ভারত। নো ফলো-অন! তাতে এলো রেস্ট নেবার সময় আর কিছু রান জমিয়ে বাংলাদেশকে ফোর্থ ইনিংসে ব্যাটিং এ পাঠিয়ে আরো ঝাঁপিয়ে পড়ার প্ল্যান। বাংলাদেশের ২য় ইনিংসে রাহানের ধরা সৌম্যের ক্যাচটার রিফ্লেক্স টাইম ছিলো ০.৪ সেকেন্ডের কিছু বেশি। হাফ চান্স বলা যায়। আমরা হাফ-ফুল-ডাবল ফুল সব চান্স সমানে ছেড়েছি। স্লিপে রাহানে-কোহলির সাথে রিয়াদ-সাকিব-সৌম্যদের উপস্থিতিটুকুর ডিফারেন্সটাই আজকের স্কোরবোর্ড। ঝাঁপিয়ে পড়ার প্ল্যান ছিলো, এবং ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারত আজকের দিনে তাদের প্ল্যান এ সাকসেসফুল করেছে একদম ১০০ ভাগ।
উমেশ যাদব কিংবা ভুবির কথা বলতে হবে। উমেশের ইকোনোমি নিয়ে কথা একটা সময় কম হয় নি। কিন্তু গত দুইদিনে ছোট ছোট স্পেলে এসেই ক্রমাগত ১৪০ কিলোর উপরে বল করে স্ট্রাগল দিয়েছেন মুশফিক বাদে সবাইকে। সাকিব তো কনফারেন্সেই বলেই দিয়েছেন, “উমেশের স্পেল সার্ভাইভ করা আমার জন্যে লাকি ছিলো!”
মোটামুটি সবাই উইকেট টেকার, আর টেস্টের পঞ্চম দিনে অশ্বিন জাদেজা রীতিমতো টেরর, এমন একটা সাইডের বিপক্ষে পঞ্চম দিনের আগের রাতে খেলা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। এর চেয়ে অনেক দুর্বল সাইডের বিপক্ষে অনেক ভালো কন্ডিশনে এক সকালে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছি। তাই আশাবাদ ঠিক আজ রাতের জন্যে যায় না। যতটুকু আশাবাদী হচ্ছি ততটুকু বাংলাদেশি হিসাবে একদম মজ্জায় যতটুকু আশাবাদ আছে ততটুকুর জন্যেই।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

4 + 9 =