আমরা বিচিত্র

জাতি হিসেবে আমরা অদ্ভুত, আমরা বিচিত্র, আমরা কিউট ।
ইডেন গার্ডেনের রেকর্ড টিকিট বিক্রিতে আমরা আবেগে গদগদ হয়ে ইডেন কে ‘এক টুকরো শেরে বাংলা’ আখ্যা দেই ।
ভারতীয় বাঙ্গালীদের একপেশে বুকে টেনে বলি ‘চলো একসাথে পাকি মারি’ ।
অতঃপর মোহভঙ্গ ।
এক টুকরো শেরে বাংলার বদলে ইডেন হয়ে উঠলো এক টুকরো করাচী । আর আমরা ভারতীয়দের বিশ্বাসঘাতক বলে নিজেদের আরও কিউট বানিয়ে ফেলি ।
আমরা মাঝে মাঝে এতবেশি কিউট হয়ে যাই যে, ভুলে যাই আমাদের প্রতিবেশীর নাম ভারত । যারা কিনা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রে আমাদের বড্ড কিউট করে শোষণ করে অন্তরালে ।
ভুলে গেছি ভারতের প্রতিবেশী চীন, পাকিস্থান ও বাংলাদেশের সাথে তাদের সীমান্তরক্ষীদের বড়ই কিউট সম্পর্ক ।
ভারতীয়রা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া থেকে ফেসবুক সব জায়গাতেই আমাদের ও আমাদের ক্রিকেট কে কিউট করে পঁচিয়ে আসছে প্রতিনিয়ত । কোলকাতা ভিত্তিক এক বিখ্যাত রম্য ফেইসবুক পেইজ যেকোন ক্রিকেট ইভেন্টে পাকিদের চেয়ে আমাদেরই পঁচানী দিতে বেশি মধুবোধ করে । নিজেদের ৭১ এর প্রভু দাবী করে
আমাদের কাঙ্গালদেশ বলে তাদের দম্ভোক্তিও আমাদের একপেশে ভালবাসা থেকে রুখতে পারেনা ।
পারবেই বা কিভাবে ?
যে দেশে আজও লক্ষ লক্ষ পাকিপ্রেমী পাকিধ্বনীতে নিজেদের স্বার্থক মনে করে সেদেশে ভারতকে জোড় করে ‘ফ্রান্স’ বলা লোকের অভাব থাকার কথা নয় ।
নিজ গাঁটের পয়সা খরচ করে কোলকাতাবাসী স্টেডিয়ামে গিয়েছিল । তারা কাকে সমর্থন দিবে এটা সম্পূর্ণই তাদের ব্যাপার । তারা আমাদের কাছে জবাবদিহী করতে কিংবা এই ইস্যুতে আমাদের কটাক্ষের শিকার হতে বাধ্য নয় । চিরশত্রু পাকিস্থানের প্রতি জয়ধ্বনি গাওয়ায় তারা স্বদেশী ভারতীয়দের কাছে জবাবদিহীতে বাধ্য ।
কিন্তু আমরা অস্থির লেভেলের কিউট কিনা !
ভারতীয়দের বদলে আমরাই কিউট করে শাসিয়ে দিলাম স্টেডিয়ামে উপস্থিত ভারতীয় কোলকাতাবাসীকে ।
ওহে কিউট জাতি !
ক্যালকাট্টা বাংলা বলে, বাংলা খায় কিন্তু তারা গুণগানে ভারতীয় হতে বাধ্য । জাতীয়তা তাহাই বলে ।
অতএব, আপনি চড়কায় তৈল মর্দন করিয়া শেরে বাংলাকে মিরপুরে রাখিলেই কর্ত্তা মধুবোধ করিবেন ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

thirteen − 13 =