আবাহনীর হোঁচট

6614b971fc79920d61621d76a8b759fc-16

মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় দিনের প্রথম খেলায় রহমতগঞ্জ আটকে দিয়েছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন, দেশের অন্যতম সমর্থনপুষ্ট ক্লাব আবাহনীকে। জর্জ কোটানের দলের সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা।

মূলত শিশুতোষ ডিফেন্ডিং এরই খেসারত দিতে হয়েছে আবাহনীকে। যেখানে আবাহনী মিস করেছে গণ্ডার পর গণ্ডা সুযোগ, সেখানে রহমতগঞ্জ যে ২-৩ টা হাতেগোনা সুযোগ পেয়েছে সেগুলোই কাজে লাগিয়েছে অত্যন্ত ভালোভাবে। ম্যাচের মূল পার্থক্যও গড়ে দিয়েছে এটাই। ম্যাচটা অনেকের কাছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার সেসব ম্যাচের মত মনে হতে পারে, যেখানে বার্সেলোনা মোটামুটি পুরোটা সময় ধরে আধিপত্য, বল পজেশান, গোলে শট নেওয়া ইত্যাদিতে এগিয়ে থাকলেও বাজে ফিনিনশিং ও গোল মিসের মহড়ার কারণে প্রতিপক্ষ দলের সাথে ম্যাচ হেরে যায় বা ড্র করে। আবাহনী-রহমতগঞ্জ ম্যাচও ছিল সেইসব ম্যাচেরই প্রতিচ্ছবি। ৩-৫-২ ছকে খেলা কোটানের আবাহনী পুরোটা ম্যাচ ধরেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলা সত্বেও কাজের কাজ করতে পারেনি। আবাহনীর দুই উইংব্যাক সমানে ওভারল্যাপ করে আক্রমণে উঠেছেন, কিন্তু তাঁদের বাড়িয়ে দেওয়া প্রায় দুই ডজন মত ক্রস আবাহনীর স্ট্রাইকাররা কাজে লাগাতে পারলেন কই? মাত্র ৩-৪ টা ক্রসেরই ঠিকমত সদ্ব্যবহার করতে পেরেছেন আবাহনীর স্ট্রাইকাররা। অনেক চেষ্টার পর ৫৬ মিনিটে ম্যাচে আবাহনীকে এগিয়ে দেন হাঙ্গেরিয়ান ফরোয়ার্ড সোরবার। গোলের পর আবাহনীর কোচ জর্জ কোটান স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবেন কি ফেলবেন না সেটা ভাবারও বোধকরি সময় পেলেন না। গিডিয়ন সলোমনের মাপা শটে সমতা ফেরায় রহমতগঞ্জ। ৭০ মিনিটে রাইট উইংব্যাক নাসিরের ক্রস থেকে হেড দিয়ে গোল করে আবারও আবাহনীকে এগিয়ে দেন আরেক হাঙ্গেরিয়ান স্ট্রাইকার গাবো ড্যামিয়েন।

এরপরেই আবাহনী ডিফেন্ডার মামুন খানের সেই শিশুতোষ ভুল। মামুন জায়গামতো ছিলেন না। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে রহমতগঞ্জের বদলি ফরোয়ার্ড মান্নাফ রাব্বি শেষ মুহূর্তে নেমেই নড়বড়ে গোলরক্ষক জিয়াকে পরাস্ত করে ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে আবারও সমতায় ফেরান রহমতগঞ্জকে। ফলে একরকম শূণ্য হাতেই মাঠ ছাড়তে হয় আবাহনীকে।

দিনের অপর ম্যাচে ফেনি সকার ক্লাবকে ২-১ গোলে হারিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াচক্র। ম্যাচের তিন গোলের দুটিই হয়েছে আত্মঘাতী। দেশের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার এনামুল গোল করে মুক্তিযোদ্ধাকে এগিয়ে দেওয়ার পর ফেনি সকারের মানিক আত্মঘাতী গোল করে ব্যাবধান করে দেন ২-০, পরে মুক্তিযোদ্ধার বিপ্লব আরেক আত্মঘাতী গোল করে ম্যাচের স্কোরলাইন ২-১ করেন।

ছবি কৃতজ্ঞতা – প্রথম আলো

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

three × 3 =