আবারও রামোস

ফুটবল মাঠটা আসলেই বিস্ময় মঞ্চ ।
বিস্ময়ের গলা জড়িয়ে এই মঞ্চে একই সাথে বসবাস উত্তেজনা, হারানোর বেদনা আর প্রাপ্তির চরম আনন্দ । বার্নাব্যুতে আতিথ্য পাওয়া দেপোর্তিভো কি ভেবেছিল কে জানে । মিনিট দুয়েকের ব্যবধানে দুইবার স্বাগতিকদের জালে বল পাঠালো । অথচ মিনিট দেড়েক আগেও মোরাতার চমত্‍কার গোলে একধাপ পিছিয়ে ছিল তারা । ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচটির প্রাণ ফেরে জিদানের হাসিতে । হাসির উপলক্ষ্যে অবশ্য তারই শিষ্য মোরাতার দুরপাল্লার দুর্দান্ত গোল ।
জিজুর হাসি অবশ্য দমেছে ক্যাসিমিরোর বল দখল হারানোয় ।
সেই দমে যাওয়াটা হাসিটি দপ করেই নিভে গেল মিনিট খানেক পরেই সফরকারীদের চমত্‍কার ফিরতি আক্রমণীয় গোলে । সহসাই ১-০ থেকে ১-২ এ পিছিয়ে গেলো রিয়াল মাদ্রিদ । ধারাভাষ্যকারের কন্ঠে বেজে উঠলো- তবে কি থামছে জিদানের জয়রথ ?
ধারাভাষ্যকারের এই আশংকাবাণী জিজু শুনতে পেয়েছিল কিনা কে জানে ।
একাডেমির স্ট্রাইকার নামিয়ে দিলেন মাঠে ।
কিয়ত্‍ক্ষণ বাদে মার্সেলোকেও পাঠালেন এবং সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে উইংগার এ্যাটাকার ভূমিকায় ।
হঠাত্‍ই ছন্দপতনে থাকা ভাস্কেজ ধুকছিল আজও । তবে এক ক্রসেই কাজটি সেরে দিলেন । অবশ্য তাতে অবদানটা ঐ একাডেমির ছাত্রেরই । অপেক্ষাকৃত লম্বা আর তাগড়া প্রতিপক্ষকে থোড়াই কেয়ার করে ঘাড় কাঁপিয়ে মাথায় চুঁমু একে বল পেল জালের ঠিকানা ।
ম্যাড়ম্যাড়ে শান্ত অরন্য থেকে হঠাত্‍ই দাবানলে বার্নাব্যু উত্তপ্ত তখন ।
মোরাতার বিবাদে অগ্রভাগে জড়িয়ে পড়লেন বন্ধু লুকাস ভাসকেজ । রামোসও এলো । হাতাহাতিও হলো বেশ সময় ধরে ।
উত্তেজনার পারদ তখন শ’ ছুঁয়ে আরও ফুটনান্কের মাত্রায় । এরপর কি ?
ফুটবলে অতিরিক্ত সময় একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ।
আর এ অংশের একচ্ছত্র স্বৈরশাসক একজনই ।
সার্জিও রামোস !
দেপোর্তিভো লা করুনার রামোস আতংকেই রামোস তার কাজটি সেরে দিলেন । ৯২:১০ মিনিটে কর্নার থেকে ক্রুসের পাঠানো বল রামোসের মাথায় এলো, হুকুম পেল,
এবং জ্বী জাহাপনায় পরম বিনয়ে জালে জড়ালো ।
ফেঁটে পড়লো বার্নাব্যু আরেকবার । ক্ষোভে বা হতাশায় নয়, ফেঁটে পড়লো রামোসে ।
উদযাপনে যেন আদিমত্ত্বই আনতে বাকি ছিল মেজবানদের ।
আর ডাগ আউটে দাঁড়ানো সেই জিদান ?
দপ করে নিভে যাওয়া হাসিই হয়ত দেখেছিলাম আমরা । তবে দেখিনি তলের তৈলশক্তি । যে জ্বালানির শক্তিতে জয়রথ থামানো গেলোনা কিছুতেই ।
হাসিটা আবারও ফুঁটেছিল ফ্রেঞ্চ টেকো ভদ্রলোকের মুখে । সে হাসিতে রাজকীয় ভাবটায় প্রকাশ পেল সক্ষমতা, প্রকাশ পেল আভিজাত্য ।
প্রকাশ পেল বিশুদ্ধ এক অহংবোধের ।
এই অহংবোধের হাসি পকেটে করেই জিদান উড়াল দিবে এখন জাপানে ।
যেখানে আরেকটি সাফল্য পসরা সাজিয়ে বসে আছে তার জন্য ।
সে সাফল্যর রণচাল না হয় পরেই চাললো । আপাতত, বিবিসি আর মদ্রিচ বিহীন দলের এমন দুর্দান্ত বিজয় উদযাপন তার জন্য তো এখন কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে গেল ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

3 × 3 =