আপন দ্যুতিতে জ্বলছেন সুয়ারেজও

আমার মতে গত ৪ বছরে বার্সার সেরা সাইনিং লুইস সুয়ারেজের সাইনিংটা। বিশ্বাস করেন আর নাই করেন যদি সুয়ারেজ না থাকত শুধু মেসি আর নেইমার মিলে বার্সাকে ট্রেবল জেতাতে পারত না। জিততাম হয়ত বড় ট্রফি, তবে একসাথে ট্রেবল জেতাটা অনেকটা অসম্ভব ছিল। সুয়ারেজের সাইনিং বার্সার এটাকে অনেক ব্যালেন্স নিয়ে আসছে। লাস্ট ৮-৯ বছরে বার্সাতে অনেক নাম্বার নাইন খেলছে। এর মধ্যে ইতো ছাড়া ওরকম ডেডলি কোন নাম্বার নাইন বার্সাতে স্যুট করে নাই। ভিয়া প্রথম সিজনে ভাল খেলছিল, কিন্তু স্কোরিং এর মুল দায়িত্ব কিন্তু মেসির উপরেই ছিল। এই তুলনায় সুয়ারেজ অনেকটা স্বতন্ত্র খেলা খেলে। সুয়ারেজের সাইনিং না হলে বার্সা শুধু সুয়ারেজকে হারাত না, রাইভাল মাদ্রিদ একটা ডেডলি ফিনিশার পেয়ে যেত। অবশ্য সুয়ারেজ মাদ্রিদে কি করত সেটা মূল বিষয় না, মূল বিষয় হল সুয়ারেজ কিভাবে বার্সা দলের এটাকিং ফোর্স শক্তিশালী করল যেটা করতে ব্যর্থ ছিল সানচেজ, লাস্ট সিজনের ভিয়া ও পেদ্রোরা। মেসিকে দিয়ে স্কোরিংএর কাজটা আর চলছিল না এটা বোঝা গেল ২০১৩/১৪ সিজনেই। ডিফেন্ডাররা তাকে আটকানোর তকমাটা জেনে গেছিল, ফলে মেসি গোল পেত না, আবার তার বানিয়ে দেওয়া বল থেকেও সেইভাবে স্কোর করতে পারত না অন্যরা। তারপর আসল ২০১৪/১৫ সিজন, নতুন কোচ, নতুন সাইনিং, তার মধ্যে অনেক প্রশ্নবোধক চিহ্ন দিয়ে বার্সায় যোগ দিল সুয়ারেজ। প্রথমে এনরিকের কপালে ভাজ পরল কিভাবে এদের সাজানো যায়? সুয়ারেজ রাইট ফ্ল্যাংকে অকার্যকর, মেসিও নাম্বার নাইনে সেইভাবে সফল হচ্ছে না। তার সহজ সমাধান করে দিল মেসি, নিজে পুরনো পজিশন রাইট উইংয়ে সরে গিয়ে সুয়ারেজকে তার পজিশন ফিরিয়ে দিল। এতে সুয়ারেজ তার কাজ করে যেতে পারল, মেসিও স্বাভাবিকভাবে রাইট উইংয়ে স্পেস পেয়ে নিজের সেরাটা দিতে সমর্থ হল। এছাড়া গোল করা ছাড়াও সুয়ারেজের পোচিং মনোভাব প্রায় সময় মার্কারকে টেনে নিয়ে যায় তার দিকে যা ফ্রি স্পেস দিয়ে দেয় নেইমার ও মেসিকে। ফলে তাদের কাজ আরো সহজ হয়। এছাড়া তার মত নিঃস্বার্থ নাম্বার নাইন আর আছে কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। যেখানে তার মত ফিনিশার গোল দিতে পারে সেখান থেকে সে মেসি ও নেইমারকে পাস দিয়ে দেয় গোল করার জন্য, যতই লেওয়ান্ডস্কি বা অন্য কোন স্ট্রাইকারের কথা বলি না কেন তারা কিন্তু এতটা ছাড় দিবে না কখনোই। তার এই গুণের জন্য লিভারপুলের স্টারিজও ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটায় সুয়ারেজের পাশে খেলে। পোচিংয়ে এই মূহুর্তে লেওয়ান্ডস্কির পাশাপাশি সেই সেরা। যেভাবে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে অন্য প্লেয়ারদের পাস থেকে গোল করে তা তার মত ফিনিশারের থেকেই পাওয়া সম্ভব। ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালের কথাই যদি ধরি নেইমারের ক্রস থেকে তার হেডে গোলটাই ছিল একজন নিখুত পোচারের বৈশিষ্ঠ্য। তার সাইনিংয়ের পর যে প্রশ্নটা বড় হয়ে এসেছিল সেটা হল মেসি ও নেইমারের সাথে বনবে কিনা। অন্য কোন স্ট্রাইকার হলে বনত কিনা সন্দেহ আছে, কিন্তু অন দ্য ফিল্ড রিলেশনশিপের পাশাপাশি অফ দ্য ফিল্ড রিলেশনে তারা তিনজন বেশ ভালই মানিয়ে নিয়েছে। যদিও মিডিয়া চেষ্টা করে তাদের সম্পর্কে খুত বের করতে বেশিরভাগ সময় অসফল হতে হয়। এই সিজনে এখনো পর্যন্ত ২৪ গোল, সাথে এসিস্টও আছে সম্ভবত ৬-৭ টা। সব ঠিক থাকলে সিজনে ৪০+ গোল ও ১৫+ এসিস্ট হতে পারে যা একজন স্ট্রাইকারের জন্য স্বপ্নের সিজন। গোল করতে ও করাতে সমানে পছন্দ করে এটা কয়েকদিন আগেই বলেছিল। বার্সাতে কখনো টিপিক্যাল নাম্বার নাইন হয়ে টিকে থাকা সম্ভব না। তবে সুয়ারেজ এই টিপিক্যালিটি থেকে বের হয়ে আসতে পারছে বলে আজ সফল। একটাই আফসোস, আর কয়েক সিজন আগে যদি যোগ দিত মাঝের খারাপ সময়টা হয়ত নাও আসতে পারত। সাথে বিশ্বও এই ট্রায়োকে লম্বা সময় ধরে উপভোগ করতে পারত। এখন যা পারছে তাও কম কিসে।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

20 + seven =