আটালান্টা : ফুটবল ক্লাব হবার পেছনের ইতিহাস

আটালান্টা : ফুটবল ক্লাব হবার পেছনের ইতিহাস

ইতালিয়ান সিরি আ এর মোটামুটী একটা মধ্যম সারির ক্লাব বলা যেতে পারে আটালান্টা কে। যুগে যুগে বেশ কয়েকজন নামীদামী পরিচিত খেলোয়াড় খেলে গিয়েছেন এই ক্লাবটায়। যেমন কিংবদন্তী ডিফেন্ডার গায়েতানো চিরেয়া, স্ট্রাইকার ফিলিপ্পো ইনজাঘি ও মিডফিল্ডার রবার্তো ডোনাডোনি, স্ট্রাইকার মার্কো বরিয়েল্লো, আলেসসান্দ্রো ডিয়ামান্টি, মিডফিল্ডার জ্যাকোমো বোনাভেন্তুরা, রিকার্ডো মন্টোলিভো ও ফ্র্যাঙ্ক কেসি, ডিফেন্ডার মাত্তিয়া কালদারা ও আন্দ্রেয়া কন্তি, স্ট্রাইকার মানোলো গ্যাবিয়াডিনি – প্রমুখ। যারা মোটামুটি ইতালিয়ান সিরি আ অনুসরণ করেন তাদের নামগুলো চেনার কথা। আন্তোনিও কন্তে, মার্সেলো লিপ্পির মত ম্যানেজাররাও এই ক্লাবের কোচ ছিলেন কখনো না কখনো।

ইউরোপের যে কয়টি ক্লাব তাদের নাম অথবা প্রতীক নিয়েছে গ্রিক ও রোমান রূপকথা থেকে তাদের মাঝে একটি হচ্ছে আটালান্টা। ইতালিয়ান ফুটবলের সবগুলো ক্লাবের নামই নেয়া হয়েছে সেই ক্লাব যেই এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই এলাকার নামে অথবা এলাকার সাথে জড়িত কোনো কিছুর সাথে , ব্যাতিক্রম রয়েছে তিনটি ক্ষেত্রে : JUVENTUS, INTER এবং ATALANTA । আসুন দেখা যাক সেই ইতিহাস :

প্রথমেই আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো ক্লাবের প্রতীকের দিকে ; দেখা যাচ্ছে একটি নারীর ছবি , যার কারণে ক্লাবের নিকনেম হচ্ছে LA DEA অর্থাৎ দেবী। কিন্তু কে এই রহস্যময়ী নারী ? তিনি আর কেউ নন, তার নামই হচ্ছে আটালান্টা যার নামে নামকরণ করা হয়েছে ক্লাবের নাম যদিও ক্লাবটি উত্তর ইতালির শেষ প্রান্ত বেরগামো নামক শহরে অবস্থিত।

আটালান্টা হচ্ছে গ্রিক রূপকথার একজন ক্যারেক্টর এর নাম। রূপকথার গল্প অনুযায়ী আটালান্টা হচ্ছে আর্কাদিয়ার রাজা লাসোর মেয়ে ; রাজার খুব আশা ছিল একজন পুত্র সন্তানের যার কারণে মেয়ে সন্তান দেখে হতাশ হয়ে রাজা মেয়েকে PELIO পাহাড়ের জঙ্গলে রেখে আসেন। ছোট্ট এই নিরপরাধ মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসেন শিকারের দেবী ARTEMIDE যিনি মেয়েটিকে বাঁচানোর দায়িত্ব দেন একটি ভাল্লুকের কাছে। ভাল্লুকের দুধ খেয়ে ছোট্ট এই মেয়েটি বড় হতে থাকে এবং জঙ্গলের সবথেকে বড় শিকারী হয়ে ওঠে। শিকারী হিসেবে তার গুণগান একসময় সমস্ত শহরে পৌঁছে যায় এবং তার এই শিকারের দক্ষতার কারণে তিনি গ্রিক রূপকথার ৫০ জন বীরের মাঝে একমাত্র নারী হিসেবে স্থান পান। আটালান্টা শুধু একজন দক্ষ শিকারী ছিলেন না, সেই সাথে প্রচন্ড দ্রুতগামীও ছিলেন যার সাথে দৌড়ে জিতার মত কোনো মানুষ ছিলোনা। তার এই গুণগান দেখে তার পিতা রাজা LASIO তাকে রাজপ্রাসাদে ফিরিয়ে আনেন।

রাজা এক সময় তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য চিন্তা করলেন কিন্তু আটালান্টা কোনোভাবেই বিয়েতে রাজি ছিলেন না, যদিও বাবাকে সরাসরি না করা সম্ভব ছিল না। বাবাকে খুশি করার জন্য আটালান্টা বিয়েতে রাজি হন কিন্তু বাবাকে একটি শর্ত দেন যে তিনি সেই ছেলের সাথেই বিয়েতে বসবে যে ছেলে তাকে দৌড়ের প্রতিযোগিতায় হারাতে সক্ষম হবে এবং সেই প্রতিযোগিতায় যদি কেউ হেরে যায় তাহলে তাকে হত্যা করা হবে। বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক পুরুষ আসতে থাকে আতালানতা কে বিয়ে করার জন্য কিনতু একের পর এক করে সকলেই দৌড়ের প্রতিযোগিতায় হেরে যায় ও তাদের সকলকে হত্যা করা হয়।

আটালান্টা

এভাবেই চলতে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না দৌড়ের প্রতিযোগিতায় হাজির হন MELANIONE নামক এক নায়ক। MELANIONE প্রচণ্ডভাবে আটালান্টা কে ভালোবাসতেন এবং যে কোনো মূল্যেই তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছিলেন কিন্তু তিনি নিজেও জানতেন যে দৌড়ের প্রতিযোগিতায় আটালান্টার সাথে তিনি কখনো পারবেননা। তাই MELANIONE শরণাপন্ন হন ভালোবাসা, সৌন্দর্য ও ভোগের দেবী APHRODITE এর কাছে। MELANIONE কে দেবী APHRODITE তিনটি স্বর্ণের তৈরী আপেল দিয়ে বলেন যাতে করে দৌড়ের প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে একটি একটি করে আপেল রাস্তায় ফেলে দেয় ; পরামর্শ অনুযায়ী MELANIONE তাই করলো। পথের ওপর স্বর্ণের অতিসুন্দর আপেল দেখে ATALANTA দৌড় থামিয়ে আপেল কুড়াতে থাকেন এবং এইভাবে প্রতিযোগিতায় হেরে যান ও কথা অনুযায়ী MELANIONE এর সাথে বিয়েতে বসেন। এই ছিল সংক্ষেপে শিকারী ও দ্রুত নারী আটালান্টার রূপকথার ইতিহাস।

১৯০৭ সালে যখন কিছু যুবক ছাত্র মিলে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত করেন তখন ক্লাবের নাম হিসেবে তাদের শহরের নাম বাছাই না করে এই ATALANTA নামক রূপকথার নারীকেই বেছে নিলো যার নিদর্শন রয়েছে ক্লাবের প্রতীকেও। আর ঠিক এই কারণেই ক্লাবের ডাকনাম হচ্ছে LA DEA , দেবী!

লিখেছেন – আরাফাত ইয়াসের

আরও পড়ুন –

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

14 − 2 =