আছেন ওরা ২০ জনও

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শুরু আজকে থেকে। টিভিস্বত্ব, ম্যাচ ডে কমার্শিয়াল ও অন্যান্য অর্থাগমন বাবদ এবার লিগের প্রত্যেকটি ক্লাবের আয় অন্যান্য যেকোন বছরের তুলনায় অনেক বেশী। ফলে ধরুন আগে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কেউ কোন একটা খেলোয়াড় কিনলেই সাজ সাজ রব পড়ে যেত, আর এখন বিশেষত ইংলিশ লিগে ২৫-৫০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে একজন খেলোয়াড় কেনাটা মোটামুটি ডালভাত হয়ে গেছে। বোর্নমাউথের মত ক্লাব ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে জর্ডন আইবকে কেনার সাহস দেখায়, ক্রিস্টিয়ান বেনটেকের মত স্ট্রাইকারের ফর্মহীনতা সত্বেও ৩০-৩২ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে কেনার জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে ক্রিস্টাল প্যালেস, ওয়েস্টব্রমের মত ক্লাবগুলো। আলভারো নেগ্রেদোকে ধারে নিয়ে আসছে মিডলসব্রো, এককালে অ্যালেক্স ফার্গুসনের শ্যেনদৃষ্টিতে থাকা স্টিভেন ডিফোরের স্থান এখন হয় বার্নলিতে। ৮৯ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে পল পগবাকে কিনে তাঁকে বিশ্বের সবচাইতে দামী খেলোয়াড় বানাতেও বিন্দুমাত্র হাত কাঁপেনা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। জন স্টোনসের মত এখনো উদীয়মান একটা ডিফেন্ডারের জন্য অনায়াসেই ৪২ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে ম্যানচেস্টার সিটি।
 
এভাবেই দিন দিন বাড়ছে খেলোয়াড়ের দাম। এবারের লিগ তাই মেতে আছে পগবা, ইব্রাহিমোভিচ, স্টোনস, গুন্ডোগান, মানে, সানে, বেইলি – এদের মত মাল্টিমিলিয়নিয়ার খেলোয়াড়দের আগমন নিয়ে। কিন্তু এদের মধ্যেও এবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দেখা যাবে এমন কিছু খেলোয়াড়দের, যারা লাইমলাইটের আড়ালে তুলনামূলক কম দামে এসে নতুন ক্লাবে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু নিজেদের দিনে প্রতিভা ও পারফরম্যান্সের ঝলকে ম্লান করে দিতে পারেন পগবা-স্টোনস-ইব্রাদেরকেও। এই গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ক্লাব বদল করে এবার প্রিমিয়ার লিগ খেলা মোটামুটি ২০ জনকে নিয়ে এই লেখাটি, যারা মোটামুটি ২০ মিলিয়ন পাউন্ড বা তাঁর থেকে কম দামে এবার বিভিন্ন প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে যোগ দিয়ে অপেক্ষা করছেন নিজের প্রতিভার ঝলক বিশ্ববাসীকে দেখানোর জন্য। দেখে নেওয়া যাক কারা কারা আছেন এর মধ্যে!
  • স্টিভ মানদান্দা (গোলরক্ষক, ক্রিস্টাল প্যালেস, ফ্রি ট্রান্সফার)
ফ্রান্সের মত একটা দলের গোলরক্ষক হিসেবে সেই ২০০৮ সাল থেকেই বিভিন্ন কোচের নজরে থাকা মার্শেইর এই প্রবাদপ্রতিম গোলরক্ষক এবার এসেছেন ইপিএল অ্যাডভেঞ্চারে, ফ্রি ট্রান্সফারে যোগ দিয়েছেন অ্যালান পার্ডিউয়ের ক্রিস্টাল প্যালেসে। ফরাসী লিগে চার-চারবার সেরা গোলরক্ষকের পুরষ্কার জয়ী এই গোলরক্ষককে ফ্রি তে পাওয়া যেকোন দলের জন্যেই বিরাট বড় একটা ট্রান্সফার, এখন বাকীটা নির্ভর করছে মানদান্দার পারফরম্যান্সের উপর।
Cl1QxH1WgAA-wCC-1024x576
  • আলভারো নেগ্রেদো (স্ট্রাইকার, মিডলসব্রো, ধার)
ইংলিশ লিগে এটাও নেগ্রেদোর প্রথম অভিজ্ঞতা নয়, এর আগে ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির অধীনে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলে গেছেন সেভিয়া ও আলমেরিয়ার হয়ে গোলের ফোয়ারা ছোটানো এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। মিডলসব্রো কোচ আইতর কারাঙ্কা লিগে প্রমোশান পেয়েই তাই স্বদেশীকে আনতে ভুল করেননি। ভ্যালেন্সিয়া থেকে নেগ্রেদোও তাই মিডলসব্রোতে যোগ দিয়েছেন ধারে। গতবার অ্যাগুয়েরো, জেকোদের জন্য নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাতে না পারা নেগ্রেদো কি পারবেন এবার মিডলসব্রোতে সেভিয়ার ফর্ম নিয়ে আসতে?
 nintchdbpict000255554822-e1469898262266
  • অ্যাশলি উইলিয়ামস (সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, এভারটন, ১২ মিলিয়ন পাউন্ড)
জন স্টোনসকে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৪২ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে বিক্রি করে তাঁর পরিবর্ত হিসেবে কাউকে পেতে বেশী সময় নেয়নি এভারটন কোচ রোনাল্ড ক্যোম্যান। সোয়ানসি সিটি ও ওয়েলসের অধিনায়ক ও এবারে ইউরোতে নজরকাড়া সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার অ্যাশলি উইলিয়ামসকে কেন্দ্র করে এবার ডিফেন্স সাজানোর পরিকল্পনা করছে তারা। ১২ মিলিয়ন পাউন্ডে এভারটনে যোগ দেওয়া এই ডিফেন্ডার কি পারবেন সোয়ানসির ফর্ম এখানেও ধরে রাখতে, দেখার বিষয় সেটা।
ashley-williams-everton-swansea_3761702
  • আহমেদ মুসা (স্ট্রাইকার, লেস্টার সিটি, ১৬ মিলিয়ন পাউন্ড)
এবার চ্যাম্পিয়ন লেস্টার সিটির রেকর্ড সাইনিং এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার। গতবার ভার্ডি-মাহরেজদের নৈপূণ্যে লিগজয়ী লেস্টারে ব্যাকআপ স্ট্রাইকার বলুন বা স্ট্রাইকে ভার্ডির সঙ্গী বলুন, সেরকম ভালো কেউ ছিলেন না। সময়ে সময়ে কাজ চালানো কাজ করে গেছেন লিওনার্দো উইয়োয়া কিংবা জেফ শ্লাপ রা। এবার ভার্ডির উপর গোল করার চাপটা কমানোর জন্য সিএসকেএ মস্কো থেকে তাই মুসা কে নিয়ে আসা। লেস্টারের হয়ে মুসা কি কি ঝলক দেখাতে পারেন তাঁর প্রমাণ এর মধ্যেই ফুটবলভক্তরা পেয়ে গেছেন প্রাক-মৌসুমে বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচে, দুই গোল করে নিজের আগমন জানান দিয়ে দিয়েছেন সেখানে মুসা!
ahmed-musa
  • সোফিয়ানে ফেগহৌলি (উইঙ্গার, ওয়েস্টহ্যাম, ফ্রি ট্রান্সফার)
গত মৌসুমেও ভ্যালেন্সিয়ার হয়ে আলো ছড়ানো এই আলজেরিয়ান উইঙ্গারের দাম ধরা হয়েছিল ৩০-৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি, আগ্রহী ছিল লিভারপুল, পিএসজি কিংবা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মত ক্লাবগুলো। ভ্যালেন্সিয়ার সাথে চুক্তি শেষে এই ফেগহৌলির দামই এই মৌসুমে ৩০-৩৫ মিলিয়ন থেকে একেবারে ফ্রি তে নেমে আসে। আর এখানেই দাঁওটা মেরে বসে ওয়েস্টহ্যাম। আন্দ্রে আইয়ু, দিমিত্রি পায়েতের সাথে সোফিয়ানে ফেগহৌলি – ওয়েস্টহ্যামের অ্যাটাকিং লাইনআপ তাই এবার যেকোন বড় দলের বুকে কাঁপন ধরাতে যথেষ্ট!
 west-ham-united-sofiane-feghouli-new-signing-olympic-stadium_3484021-735x400
  • ইদ্রিসা গেয়ে (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, এভারটন, ৯ মিলিয়ন পাউন্ড)
গতবার অ্যাস্টন ভিলার জঘন্য মৌসুমে একমাত্র আশার আলো দেখিয়েছিলেন ক্লাবের সেনেগালিজ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গেয়ে। তাঁর পারফরম্যান্স নজরে এড়ায়নি অন্যান্য ক্লাবগুলোর। তাই এই মৌসুমে ভিলা যখন অবনমিত হয়ে গেল তখন গেয়ে কে নিজেদের দলে রাখাটা একটা অনেক বড় সমস্যা হয়ে গেল ভিলার জন্য, সেই সুযোগটাই মূলত নিয়েছে এভারটন। ৯ মিলিয়ন পাউন্ডে এই ডেস্ট্রয়্যারকে আবারো প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে এনেছে তারা।
  • স্টিভেন ডিফোর (মিডফিল্ডার, বার্নলি, ৬ মিলিয়ন পাউন্ড)
বেলজিয়ান মিডফিল্ডার স্টিভেন ডিফোরের কথা মনে আছে? ২০০৯ সালে তৎকালীন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তাঁকে এতটাই নিজের দলে চেয়েছিলেন যে ডিফোরের ইনজুরির কথা শুনে তাঁকে শুভকামনা জানিয়ে একটা আস্ত একটা চিঠিই পাঠিয়েছিলেন তিনি! তখন বেলজিয়ান ক্লাব স্ট্যান্ডার্ড লিয়েগে তে খেলা স্টিভেন ডিফোরের উন্নতির দিকে শ্যেনদৃষ্টি রেখেছিলেন ফার্গি, যদিও ডিফোরকে আর কখনো ইউনাইটেডের জার্সিতে দেখা যায়নি। স্ট্যান্ডার্ড লিয়েগে ছেড়ে পোর্তো ও আন্ডারলেখট হয়ে এই বেলজিয়ান মিডফিল্ডার অবশেষে ইংলিশ ফুটবলের স্বাদ পাচ্ছেন, তবে সেটা বার্নলির হয়ে। ৬ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বেলজিয়ান ক্লাব আন্ডারলেখট থেকে বার্নলিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি।
স্টিভেন ডিফোর
স্টিভেন ডিফোর
  • বোর্হা বাসতন (স্ট্রাইকার, সোয়ানসি সিটি, ১৫.৫ মিলিয়ন পাউন্ড)
স্প্যানিশ লিগে গত দুই মৌসুমে গোলের ফোয়ারা ছোটানো এই স্ট্রাইকারকে এবার দলে টেনেছে সোয়ানসি সিটি। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের এই স্ট্রাইকার দলের গেম প্লে এর সাথে না যাওয়ার কারণেই হোক, কিংবা তাঁর থেকে আরো বেশী ভালো খেলোয়াড় থাকার কারণেই হোক – কখনো ডিয়েগো সিমিওনের অ্যাটলেটিকোতে সুযোগ পাননি, ধারে ধারে খেলে বেড়িয়েছেন লা লিগার বিভিন্ন ক্লাবে। আর এই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে সোয়ানসি। ক্লাব রেকর্ড ফি ১৫.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বাসতনকে দলে এনেছে তারা।
borja-shirt-4x3-358-3239180_613x460
  • ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে (স্ট্রাইকার, সোয়ানসি সিটি, ফ্রি)
সেভিয়া, অ্যাথলেটিক বিলবাও ও জুভেন্টাসের হয়ে মাঠ মাতানো এই স্ট্রাইকারকেও দলে এনেছে এবার সোয়ানসি সিটি, একেবারে ফ্রি তে, স্ট্রাইকে বাসতনের সঙ্গী হবার জন্য।
  • ভিনসেন্ট ইয়ানসেন (স্ট্রাইকার, টটেনহ্যাম হটস্পার, ১৭ মিলিয়ন পাউন্ড)
গত দুই মৌসুম ধরে স্পার্সদের স্ট্রাইকে একমাত্র কান্ডারি হয়ে ছিলেন হ্যারি কেইন। রবার্টো সলদাদো, ক্লিন্টন এনজিয়ে কেউই ভালো খেলা দিয়ে কেইনকে সরাতে পারেননি, ফলে কেইনকে বলতে গেলে মৌসুমের প্রায় প্রত্যেকটা ম্যাচই খেলতে হয়েছে যন্ত্রের মত। সমস্যাটা চোখ এড়ায়নি কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর, তাই এবার দলবদলের বাজার খোলার সাথে সাথেই কেইনের একজন যোগ্য পার্টনার/ব্যাকআপ নিয়ে এসেছেন তিনি। এজেড আলকমারের হয়ে ডাচ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ভিনসেন্ট ইয়ানসেন নিজের নামের প্রতি কতটুকু সুবিচার করতে পারেন এটাই দেখার বিষয়।
vincent-janssen-tottenham_3742582
  • র‍্যাগনার ক্লাভান (সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, লিভারপুল, ৪.২ মিলিয়ন পাউন্ড)
বিভিন্ন সময়ে মামাদু সাখো, দেয়ান লভরেন, আলবার্তো মোরেনো, জ্যো গোমেজ ও জ্যল মাতিপদের ইনজুরির কারণে এবং মার্টিন স্কার্টেল, কোলো ট্যুরেদের ক্লাব ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে যাতে লিগের মাঝপথে কোন সমস্যা না হয় এজন্য জার্মান ক্লাব অগসবুর্গ থেকে অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক এস্তোনিয়ার অধিনায়ক র‍্যাগনার ক্লাভানকে দলে এনেছেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। এরইমধ্যে ক্লাভান বুঝিয়েছেন শুধুমাত্র ব্যাকআপ নয়, লভরেন, সাখোদের টেক্কা দেওয়ারও যথেষ্ট যোগ্যতাই আছে তাঁর কাছে।
  • বারটোশ কাপুস্তকা (উইঙ্গার, লেস্টার সিটি, ৯ মিলিয়ন পাউন্ড)
পোলিশ এই উইঙ্গারের প্রতিভা সম্পর্কে এই ইউরোর আগে পোল্যান্ডের বাইরে সেরকম কেউই জানত না। কিন্তু এবার নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার পর থেকেই বিশ্ব জেনে যায় ক্র্যাচোভিয়া ক্র্যাকোতে খেলা এই পোলিশ তরুণ সুপারস্টার সম্বন্ধে। সাধারণত বাম উইঙে খেলে স্বাচ্ছ্বন্দ্যবোধ করা কাপুস্তকা খেলতে পারেন সেন্ট্রাল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও। নজরে পড়ে যান লেস্টার সিটির কোচ ক্লদিও রানিয়েরির, ভার্ডি, মাহরেজদের সাথে খেলার জন্য তাই দলে এনেছেন কাপুস্তকাকে তিনি।
বারতোশ কাপুস্তকা
বারতোশ কাপুস্তকা
  • নামপ্যালিস মেন্ডি (ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, লেস্টার সিটি, ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড)
গতবার লেস্টার রূপকথার পেছনে ভার্ডি, মাহরেজ ছাড়াও আরেকজন যার ভূমিকা ছিল সবচাইতে বেশী তিনি ক্লাবের ফরাসী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে। এবার কান্তে চলে গেছেন চেলসিতে, ফলে তাঁর জায়গায় কোচ ক্লদিও রানিয়েরি এনেছেন মোনাকোতে তাঁর সাবক শিষ্য নামপ্যালিস মেন্ডিকে। ১৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে নিস থেকে লেস্টারে আসা মেন্ডি কান্তের অভাব কতটুকু পূরণ করতে পারবেন সেটা সময়ই বলে দেবে।
  • মার্কো গ্রিউয়িচ (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, লিভারপুল, ৫.১ মিলিয়ন পাউন্ড)
লিভারপুলের একজন জাতের সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার না থাকার আক্ষেপটা সেই হাভিয়ের ম্যাশচেরানো যাবার পর থেকেই। লুকাস লেইভা বহুদিন ক্লাবে থাকলেও কখনই সেরকম ক্লাবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। তাই এবার কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ রেড স্টার বেলগ্রেড থেকে সার্বিয়ান প্রতিভা মার্কো গ্রিউয়িচকে এনেছেন ৫.১ মিল্যন পাউন্ডের বিনিময়ে, এর মধ্যেই প্রাক মৌসুমে বার্সেলোনা সহ অন্যান্য ক্লাবের বিরুদ্ধে গোল করে ঝলক দেখানোও শুরু করেছেন তিনি।
  • পিয়েরে এমিল হোবইয়ার্গ (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, সাউদাম্পটন, ১২.৮ মিলিয়ন পাউন্ড)
ক্লাবের নির্ভরযোগ্য সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ভিনসেন্ট ওয়ানইয়ামা এবার জমিয়েছেন টটেনহ্যামে, ফলে তাঁর জায়গায় সাউদাম্পটন এবার দলে এনেছে বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ প্রতিভা পিয়েরে এমিল হোবইয়ার্গকে। নজর থাকবে তাঁর উপরেও।
  • মার্টেন ডে রুন (মিডফিল্ডার, মিডলসব্রো, ১২ মিলিয়ন পাউন্ড)
এবার লিগে প্রমোশান পেয়েই দল ভালোমত গোছাতে শুরু করেছে আইতর কারাঙ্কার মিডলসব্রো। যার প্রমাণ ডাচ লিগ ও সিরি অ্যা মাতানো মিডফিল্ডার মার্টেন ডে রুনকে দলে আনা।
  • জর্ডন আইব (উইঙ্গার, বোর্নমাথ, ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড)
শ্যেই ওজো, সাদিও মানে, রবার্টো ফার্মিনিও, ফিলিপ ক্যুটিনিও, অ্যাডাম লালানাদের জন্য প্রতিভাধর হওয়া সত্বেও লিভারপুলের মূল একাদশে সূযোগ না পাওয়া জর্ডন আইবকে এবার সেই সুযোগ দিচ্ছে বোর্নমাথ। ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে বোর্নমাথে যোগ দেওয়া আইব কি এইবার সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন?
  • পাপি জিলোবোজি (সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, স্যান্ডারল্যান্ড, ৮ মিলিয়ন পাউন্ড)
চেলসিতে জিলোবোজির কাজ ছিলো মূলতঃ জন টেরি, ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচ, কার্ট জুমা দের ব্যাকআপ হিসেবে থাকা। নিজের প্রতিভা দেখানোর সেরকম সুযোগ পাননি তিনি সেখানে, গত মৌসুমের শেষের দিকে ধারে জার্মান ক্লাব ওয়ের্দার ব্রেমেনে গিয়ে আবার দেখিয়ে দিয়েছেন পর্যাপ্ত পরিমাণ সুযোগ পেলে তাঁর কি করার সামর্থ্য আছে। নজর এড়ায়নি স্যান্দারল্যান্ড কোচ ডেভিড ময়েসের। চেলসি যে সুযোগ দিতে পারেনি জিলোবোজিকে, স্যান্ডারল্যান্ড কি পারবে?
  • আন্দ্রে গ্রে (স্ট্রাইকার, বার্নলি)
এইবার বার্নলির হয়ে ইংলিশ লিগ খেলপ্তে আসা এই স্ট্রাইকারের উপরেও নজর থাকবে অনেকের। গত মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ২৩ গোল করে তিনিই ত এবার বার্নলির প্রিমিয়ার লিগে খেলার স্বপ্ন সার্থক করেছেন!
  • লুইস হার্নান্দেজ রদ্রিগেজ (সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার, লেস্টার সিটি, ফ্রি)
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন লেস্টারের সেন্ট্রাল ডিফেন্স সামলানোর মূল দায়িত্ব ছিল অধিনায়ক ওয়েস মরগান ও রবার্ট হাথের কাঁধে। এবার সেই চাপ কমানোর জন্য স্পোর্টিং গিহন থেকে ফ্রি তে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার লুইস হার্নান্দেজকে দলে এনেছেন কোচ ক্লদিও রানিয়েরি।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

7 − three =