অ্যানচেলত্তিকে স্যাক করার আসল কারন

দিনটি ছিল ২৫ মে ২০১৫। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সেদিন মাদ্রিদের ওয়েলিংটিন হোটেলে রিয়াল মাদ্রিদের ভারপ্রাপ্ত কোচ অ্যানচেলত্তির সাথে জরুরী এক বৈঠক করলেন। কোচের ভাগ্য নির্ধারণের বৈঠক আরকি। বৈঠক শেষ হল। এবার বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত বোর্ড অব ডিরেক্টরদের জানাতে হবে। হোটেল থেকে বেরিয়েই তাই তৎক্ষণাৎ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন পেরেজ। ওইদিকে বোর্ড মিটিং শুরু হতে আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। বোর্ডের বাকি সদস্যরা সবাই লম্বা একটি টেবিল ঘিরে বসে আছেন। সবার মধ্যে টান টান উত্তেজনা। প্রেসিডেন্ট সাহেব আজকে খুবই জরুরী বক্তব্য রাখবেন। তার খামখেয়ালী কর্মকাণ্ডের কারন তুলে ধরবেন। ‘খামখেয়ালী’ কারন কিছুক্ষন আগেই তিনি ফোনে জানিয়ে দিয়েছেন যে অ্যাঞ্চেলত্তিকে রিয়ালের কোচের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং তিনি এর যুক্তিযুক্ত কারন দর্শাতেই এই বোর্ড মিটিং ডেকেছেন। সবার মনে তখন একটাই প্রশ্ন “কি কারন দেখাবেন পেরেজ?”

যাই হোক কাঁটায় কাঁটায় পাঁচ মিনিট পর রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবল ক্লাবের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বোর্ড মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করলেন। সবার সামনে আসন গ্রহন করে তিনি কিছুক্ষন চুপ করে রইলেন। সবাই একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষন চুপচাপ থেকে পেরেজ শুরু করলেন……

কি করলেন না করলেন সেই কনভারসেশান আমার জানা নেই। তবে তার একটা সারাংশ আমার জানা আছে। সেটাই বলছি…পেরেজ তার সিদ্ধান্ত রিয়ালের ডিরেক্টরদের অফিসিয়ালি জানানোর পরপরই তাদের মধ্যে কথাবার্তা ছিল অনেকটা এরকম,

ডিরেক্টরসঃ আপনি কেন তাকে স্যাক করলেন?
পেরেজঃ আমি তার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলাম
একজন অতি চালাক ডিরেক্টরঃ রিয়ালের হয়ে প্রথম বছরেই যিনি ৪ টি শিরোপা জিতেছেন তার উপর থেকে আপনি কোন হিসেবে আস্থা হারালেন?
পেরেজঃ আমি জানি না।

আগে জানলে হয়ত বেলকে ভুলেও মাঠ থেকে তুলে নিতেন না অ্যানচেলত্তি

পেরেজ কি জানেন না তা তিনি নিজেও জানেন না। কিন্তু তারপরও তাকে জোড়াজোড়ি করা হলে অবশেষে তিনি মুখ ফুটে বলেই ফেলেন “অ্যানচেলত্তি গ্যারেথ বেলের সাথে সঠিক আচরন করে নি”। একথা বলার সাথে সাথেই বোর্ডে মৃদু গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। কি বলতে চাইছেন পেরেজ? পেরেজ নিজেই ব্যাপারটা ক্লিয়ার করে দিলেন এভাবে, “বেল আমাদের জন্য খুবই স্ট্র্যাটেজিক একজন খেলোয়াড়। সেদিন অ্যানচেলত্তি যখন বেলকে মাঠ থেকে তুলে নিল তখন বেলকে উঠানো যে ঠিক হয়নি সেটা বলার জন্য আমি কোচের সাথে দেখা করলাম। কিন্তু তিনি আমার কথা বুঝলেনই না! ঠিক সেদিন থেকেই আমি তার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছি”

এখানে সেদিন বলতে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মেস্তিয়া স্টেডিয়ামে ৭১ মিনিটের সময় বেলকে তুলে নেয়ার ঘটনাকে ইন্ডিকেট করা হচ্ছে।

তবে এই জিনিসটা পরে নাকি আরও ঘোলাটে হয়। অনেক বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি ওই ম্যাচের পর ড্রেসিং রুমে গিয়ে পেরেজ নাকি অ্যানচেলত্তিকে বলেন যে, “বেলকে উঠিয়ে ফেলা আর আমাকে অপমান করা সমান কথা”

রোনালদোর পরই পেরেজের সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড় হয়ত বেল

আর এই জন্যই তো বলি বেনিতেজ সাহেব কেন মাদ্রিদে এসেই তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে ওয়েলস কাম বেলের খেলা দেখতে একেবারে সোজা কার্ডিফে চলে গেছেন। এমনকি ম্যাচের আগে পার্সোনালি বেলের সাথে সাক্ষাতও করেছেন। এসব করার পিছনে হয়তোবা কারন একটাই। সেটা হল পেরেজ তাকে বোধহয় ইতোমধ্যেই বলে দিয়েছেন যে “Whether you play him or you get sacked”

সর্বশেষে খুব হতাশা নিয়ে একটা কথাই বলব যে যতদিন না পর্যন্ত রিয়ালে স্পোর্টিং ডিরেক্টর পোস্টটি পুনরায় খোলা হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত ফুটবল না বোঝা প্রেসিডেন্টদের এই ছেলেমানুষি কার্যক্রম চলতেই থাকবে এবং ফলস্বরূপ রিয়ালের ঘরে মেজর কোন শিরোপাই হয়ত আর আসবে না।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

four × five =