অলিভার কান : জার্মান টাইটানের কথা

অলিভার কান : জার্মান টাইটানের কথা

১৯৬৯ সালের ১৫ই জুন।।
জার্মানির (তখন ছিল পশ্চিম জার্মানী) কার্লসরুহ শহরের সকাল টা একটু বেশি ঝকঝকে ছিল, কেননা সেদিন পৃথিবী আলোকিত করে বাবা- মায়ের কোল জুড়ে এক ছোট্ট শিশুর জন্ম হয়, কে জানতো এই শিশুই পুরো ফুটবল দুনিয়াকে তার দু হাতের কারিশমায় মাতিয়ে রাখবে।। ক্রিকেট নিষিদ্ধ হওয়ায় তখন জার্মানী ছিল ফুটবলার তৈরির চারণভূমি। তাই কানের বাবা-মা ও সেদিন ভুল করেন নি, তাই মাত্র তিন বছর বয়সেই ফুটবলে হাতেখঁড়ি কানের।। ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালবাসা আর আগ্রহের কারনে মাত্র ৬ বছর বয়সেই পিচ্ছি কান যোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় ক্লাব ” কার্লসরুহ সকার ক্লাব” এ।।
প্রথমে তিনি একজন মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেছেন।। একদিন ম্যাচ চলাকালীন গোলকিপার ইঞ্জুরীতে পড়ে, রিজার্ভ কোন গোলকিপার না থাকায় কান গিয়ে গোলবারের সামনে দাঁড়ান।। সে ম্যাচে অসাধারণ পারফরমেন্স করেন কান এবং কিছু দুর্দান্ত সেভ ও।। সেদিন ই কোচ আবিষ্কার করেন গোলকিপার কান কে।। তারপর থেকে গোলকিপিং এর দায়িত্ব আসে কানের উপর, এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি।। সেদিন যদি ঐ গোলকিপার ইঞ্জুরীতে না পড়ত তাহলে আজকে আমরা এই কান কে হয়ত এভাবে পেতাম না।

ক্লাব ক্যারিয়ার :
————————
১৯৭৫ থেকে ১৯৮৭ এই এক যুগ তিনি কার্লসরুহ ইয়ুথ টিমে খেলেন।। এরপর ১৯৮৭-৮৮ সিজনে তিনি মূলদলে ডাক পান।। তখন তিনি কার্লসরুহর ব্যাক-আপ গোলকিপার হিসেবে ছিলেন।। কিন্তু এই অনন্য প্রতিভাধর ব্যাক-আপ হিসেবে থাকবে এটা তখন সময় ও মানতে চাইছিলনা।। তাই তো ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর ডেভিউ হয় কানের।। তার ডেভিউ ও ছিল চরম সুখকর।। কেননা তার দল সে ম্যাচে “এফসি ক্লোন ” এর বিরুদ্ধে জয় পায় ৪-০ গোলের ব্যাবধানে।।
কিন্তু বেশি ম্যাচ খেলা হয় নি কানের ঐ সিজনে।। কেননা কার্লসরুহর মূল গোলকিপার আলেক্সন্ড্রা ফামুলা ছিল দুর্দান্ত ফর্মে।। তাই কোচ উইনফ্রাই ফামুলাকেই মূল একাদশে নিচ্ছেন।। ১৯৮৯-৯০ সিজন পর্যন্ত কান ২য় গোলকিপার হিসেবেই খেলেন কার্লসরুহ তে।। ক্লাবের প্রতি ভালবাসা আর তার অসাধারণ ব্যাক্তিত্বের কারণে ১৯৯০ সালে কান মূল একাদশে সরাসরি অধিনায়ক হিসেবে জায়গা পান।। পুরো সিজনে দুর্দান্ত ছিলেন কান।। দলকে নেতৃত্ব দেন ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ।। ততদিনে এই হীরের খবর ছড়িয়ে পড়ে জার্মানী সহ পুরো ফুটবল বিশ্বে।।
তাইতো ১৯৯৪-৯৫ সিজনে একজন গোলকিপার হিসেবে সেসময়ে রেকর্ডসংখ্যক ট্রান্সফার ৪.৬ মিলিওন ইউরোর বিনিময়ে বায়ার্ন মিউনিখ তাকে দলে ভেড়ায়।

বায়ার্নে এসে নিজের জাত চেনাতে ভুল করেন নি কান। তাইতো ঐ সিজনেই জিতে নেন সেরা গোলকিপারের মুকুট।।

নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরলেও বায়ার্নের সাথে তার ১ম শিরোপা জিততে সময় লাগে দুই বছর।। ১৯৯৬ সালে বর্ডেক্স কে হারিয়ে উয়েফাকাপ এর শিরোপা জিতে বায়ার্ন সাথে কাটে কানের শিরোপা খরাও। ওই সিজনে(৯৬-৯৭ তে) কান তার কারিশমা দেখান। সেরা গোলকিপার এর পাশাপাশি তার দলকেও জেতান বুন্দেস লীগা ।। জলন্ত আগুনের লেলিহান শিখার মত উড়তে থাকা কানের বায়ার্ন লীগ শিরোপা জিতলেও খালি হাতেই ফিরতে হয় চ্যাম্পিয়নস লীগ থেকে।। ছুটছে বায়ার্নের জয়রথ আর সাথে বিশ্বস্ত হাতে গোলবার সামলানোর কাজ।।জার্মানীতে ফুটবল খুব ই জনপ্রিয়, এমনকি সবথেকে বেশি দর্শক গ্যালারীতে বসে খেলা উপভোগ করে জার্মানিতেই।। সেদিন কানের প্রতি ও মুগ্ধ হয়েছিল লাখো জার্মানবাসী।। কান ও তাদের সম্মানের দাম দিয়েছিলেন।। তাইতো ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলির টাকার বস্তা সেদিন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কান।। কথায় আছে ভাগ্য যদি সহায় তাকে তাহলে ঠেকায় কে, তাই সেদিন চরম মূল্য দিতে হয়েছিল কান এবং তার টিম বায়ার্ন কে।।

১৯৯৯ সালের চ্যাম্পিয়ন লীগের ফাইনাল এর কথা।। হট ফেভারিট দুই দল ফাইনালে।। বায়ার্ন এর প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ১-০ গোলে এগিয়ে বায়ার্ন। খেলার ঠিক শেষ মুহূর্ত, শেষ বাশিঁঁ বাজার ঠিক ১মিনিটের মধ্যে গানার আর শেরিংহাম ২গোল করে বসেন।। মূহুর্তেই স্তব্ধ পুরো ফুটবল বিশ্ব।। স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বায়ার্ন সাপোর্টারসদের সাথে কানেরও চ্যাম্পিয়ন লীগ হারানোর আক্ষেপ।। আর্শচজনকভাবে সবাইকে হতবাক করে চ্যাম্পিয়ন লীগ শিরোপা জিতে যায় ম্যান ইউ।।
২০০১ সালে আবারো চ্যাম্পিয়ন লীগের ফাইনালে বায়ার্ন। এবার প্রতিপক্ষ স্প্যানিশ টিম ভ্যালেন্সিয়া। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ এ শেষ হওয়ায় খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে।। এবার পুরো দায়িত্ব কানের উপর।। গতবারের তীরে এসে তরী ডুবানোর আক্ষেপ মাথায় নিয়ে গোলবারের নিছে গিয়ে দাঁড়ায় অলিভার।। নাহ এবার আর ভুল করেননি কান।। চীনের প্রাচীরের মত দুর্ভেদ্য হয়ে ফিরিয়ে দেন পরপর তিনটি শট। সাথে মধুর জয়, সফলতার মুকুটে যোগ করেন চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়ের সাথে “উয়েফা ফেয়ারপ্লে এওয়ার্ড ” এর পালকও। সেরা খেলোয়াড় এর পাশাপাশি কান একজন ভালো মানুষ ও। ঐ ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার গোলকিপার কানিজেয়ার এর মা মারা যান। প্রথমার্ধের পর এই খবর শুনে কানিজেয়ার খুব কান্না শুরু করেন। তখন কান তার কাছে গিয়ে তাকে শান্তনা দে

– “কানি কেদো না, তোমার মত গোলকিপারের জন্ম দিয়ে তোমার মা গর্বিত। ফুটবল বিশ্ব আরেকবার দেখতে পায় গভীর মানবতাবোধ।
বায়ার্ন কে তিনি দিয়েছেন দুহাত ভরেই।”

এখনো পর্যন্ত বুন্দেস লীগার টপ ক্লিনশীট লিডার হলেন অলিভার।। বায়ার্ন এর হয়ে জিতেছেন ৮ টি বুন্দেস লিগা, ৬ টি ডিএফবি পোকাল, ৬ টি ডিএফবি লিগা পোকাল, ১ টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ১ টি ইউয়েফা কাপ, ১ টি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ।।
১মে ২০০৮, জেনিথ এর বিরুদ্ধে বায়ার্নের জার্সি গায়ে ইউরোপিয়ান কম্পিটিশন এ শেষ ম্যাচ টি খেলেন এবং একই মাসে১৭ তারিখে বার্লিনের বিরুদ্ধে ৪-১ এর জয় দিয়ে বুন্দেস লীগার শেষ ম্যাচ টি খেলেন এই কিংবদন্তি।।
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ একটি ফেয়ারওয়েল ম্যাচ খেলেন অলিভার এবং সেটি ১-১ এ ড্র হয়।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার :
————————–——–

ক্লাবের হয়ে সেরা গোলকিপার হওয়ায় ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ডাক পেলেও ওই বিশ্বকাপে কোন ম্যাচে মূল একাদশে ঠাই হয়নি কানের।

সাইড বেঞ্চে বসেই কাটাতে হয় পুরো বিশ্বকাপ।। এরপর ১৯৯৫ সালের ১৯শে জুন সুইজারল্যান্ড বিপক্ষে স্বপ্নের অভিষেক হয় কানের।। ক্লাবের মত জাতীয় দলেও তার অভিষেক সুখকর হয়। তার দল জয়লাভ করে ২-১ এ।

তখন জার্মান দলের মূল গোলকিপার কোপকে ছিলেন অসাধারণ ফর্মে। তাই ৯৬ এর ইউরো ও কান কে দেখতে হয় সাইড বেঞ্চে বসেই। ইউরো জয় করলেও জার্মানরা, কোন ম্যাচেই মূল একাদশে জায়গা হয় নি কানের।। কোপকের দুর্দান্ত ফর্ম আর ইউরো জয়ের সুখস্মৃতি সব মিলিয়ে ৯৮ এর বিশ্বকাপেও রিজার্ভ গোলকিপার হিসেবেই থাকতে হয় কান কে। ৯৮ এর বিশ্বকাপে ব্যার্থ হয় জার্মানী এবং সেই সাথে নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন কোপকে।।
২০০২ বিশ্বকাপ, ভাঙাচোরা জার্মান দল।। কোয়ালিফায়িং রাউন্ডে ইংল্যান্ডের কাছে ৫-১ গোলে হারায় কোয়ালিফাই নিয়েই নিয়েই সংশয় দেখা দেয়।। কোয়ালিফাই করতে হলে শেষ ম্যাচে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতেই হবে। ২-১ এর জয় নিয়ে কোনমতে কোয়ালিফাই করে জার্মানি। হট ফেভারিট হিসেবে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের নাম আসলেও জার্মানি যে ২য় রাউন্ড ও পার করতে পারবেনা সেটা পুরো ফুটবল বিশ্ব ধরে নিয়েছিল।।
৩১ মে,২০০২। মাঠে গড়ালো এশিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ।
অভিষেকেই নবাগত সেনেগালের চমকে ধরাশায়ী হল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
আর্জেন্টিনা বিদায় নিল মৃত্যু উপত্যকা থেকে প্রথম পর্বেই।

গোলবার সামলানোর দায়িত্ব আর সাথে পুরো জার্মানি টিমের দায়িত্ব ও আসে তার ঘাড়ে।। তাই বিশ্বস্ত গ্লাভস জোড়ার পাশাপাশি আর্মব্যান্ড পড়ে নামেন কিং কান।।

ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই এবং সেটার প্রমাণ হাতে হাতে দেখলো পুরো বিশ্ব। যেই ভাঙাচোরা টিম ঠিকমত কোয়ালিফাই করতে পারছিলনা সেই টিম কে কিং কান একাই টেনে নিয়ে যান ফাইনালে।। মাত্র একবার প্রতিপক্ষ তার জালে বল জড়াতে পেরেছিল ফাইনালের আগ পর্যন্ত।। পুরো বিশ্বকে বিমোহিত করেছিলেন দ্য টাইটান।
। একজন গোলকিপার হয়েও কিভাবে একাই দলকে টেনে নিয়ে যান সেটার চাক্ষুস দেখলো কোটি ফুটবল ভক্ত।

ফাইনালে প্রতিপক্ষ লাতিন পরাশক্তি ব্রাজিল।

। একপাশে ভয়ংকর ত্রয়ী ফেনোমেনন, রিবালদো এবং রোনালদিনহো আর অন্যপাশে অলিভার কান।। এই সমীকরনে শুরু হয় ফাইনাল।

১ম অর্ধের মধ্যভাগে রিভালদোর থেকে ডি-বক্সের মধ্যে বল পায় দিনহো। দুই জন প্লেয়ারদের ধোঁকা দিয়ে থ্রু পাস দেয় গোল মার্কিং পজিশনে থাকা ফলস নাইন রোনালদোকে। কিন্তু রোনালদোর শট সেকেন্ড বার ঘেষে চলে যায় বাহিরে..! মিস এরপর আবার ঠিক একই ভঙ্গিমায় বল পেয়ে রোনালদোকে পাস দেয় দিনহো। কিন্তু রোনালদোর আলতো শটকে আটকিয়ে দেয় সর্বকালের সেরা গোলকিপার অলিভার কান..! আবার মিস। ডি-বক্সের মধ্যে মিডফিল্ড থেকে বল পেয়ে যায় ক্লেবারসান। তার বাম পায়ের গ্রাউন্ড শট অলিভার কানকে পরাস্থ করতে পারে নি। ডান সাইডের বার ঘেষে চলে যায় বাহিরে। এরপর আবার রোনালদিনহো থেকে বল নিয়ে ডি-বক্সের বাহির থেকে ক্লেবারসনের শট বারে লেগে ফিরে আসে। মিস..। ঘামতে থাকে গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অলিভার কান..! প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার একটু আগে রোনালদোর শিউর গোল হওয়া শটকে ফিরিয়ে দেয় অলিভার কান। মিস, আবার মিস..

“প্রতিরোধ নয়, আক্রমণ কর” হিটলারের এই বিখ্যাত উক্তিকে মনবোল হিসেবে নিয়ে ২য় অর্ধে মাঠে নামে জার্মানরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জার্মানরা ফ্রিকিক পেলে ফ্রিকিক টি সেলেসাওদের সাইড বারে লেগে ফিরে আসে। এবারের মত বেঁচে গেলো সেলেসাওরা..! খেলার বয়স ৬৮ মিনিট। দিনহোর থেকে মিডফিল্ড হতে ল্যাফট উইং এ বল পায় রোনালদো। তাকে মার্কিং এ দুই প্লেয়ার। রোনালদো পড়ে গেলে বল থাকে ডি-বক্সের একটু বাহিরে জার্মানদের পায়েই। মাটি থেকে উঠে রোনালদো ছোঁ মেরে বলটাকে নিয়ে পাস দেয় রিভালদোকে এবং সাথে সাথে পাস দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে যায়। ডি-বক্সের বাহিরে রিভালদোর জোড়ালো শট এবং অলিভারের কানের সেইভ কিন্তু হাত ফসকে বেরিয়ে যায়, এবং সেটি জালে জড়ায় দৌড়ে আসা টেকো মাথার রোনালদো। গোল..!! পরাস্থ করলেন অলিভার কানকে। করলেন বিশ্বকাপের ৭ম গোল। তর্জনী উদযাপন। ব্রাজিল ১-০ এ এগিয়ে। আবারো রোনালদো ম্যাজিক। খেলার বয়স ৭৯ মিনিট। ক্লেবারসন ডি-বক্সে পাস দেয় রিভালদোকে, রিভালদো সেটি রিসিভ না করে ধোঁকা দিয়ে রোনালদোকে দেয়। ওখান থেকেই রোনালদোর ডান পায়ের শট এবং গোল…!!!!!!

মুখ থুবড়ে পড়লো অলিভার কান। দুই হাত দুই দিকে দিয়ে টেকো মাথা রোনালদোর উদযাপন..! ব্রাজিল ২-০ জার্মান। ৫ম শিরোপার অনেক কাছে ব্রাজিল। বাকী সময় চলে হিংস্র জার্মানের পাশবিক আক্রমন। সব কটি আক্রমন ফিরিয়ে দেয় মার্কোস। রেফারীর শেষ বাঁশি এবং ব্রাজিল জিতে গেলো ২-০ গোলের ব্যবধানে। ব্রাজিল পায় ৫ম বিশ্বকাপ শিরোফা।

নিজেকে পুরো মেলে ধরলেও ফাইনালে তার দল কে জেতাতে পারেননি অলিভার।। কিন্তু ততক্ষণে চলে গিয়েছেন লিজেন্ড বনে।
পেয়েছিলেন বিশ্বকাপের সেরা পুরস্কার ” এডিডাস গোল্ডেন বল এওয়ার্ড ” এবং “লেভ ইয়াসিন বেস্ট গোলকিপার এওয়ার্ড”।।
অন্যদিকে তার আরেক সতীর্থ্য গোলকিপার বরুশিয়া এবং আর্সেনাল কাপালেও জাতীয় দলে কানের জন্য কোনমতেই জায়গা হচ্ছিলনা। সাইড বেঞ্চে বসে কান জাদু দেখেই কাটাচ্ছিলেন তিনি।।
২০০৪ সালের ইউরোতেও কান ই ছিল মূল একাদশে। দলের দায়িত্বভার তুলে দেন বালাক কে। কিন্তু জার্মানরা গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেয়।

বয়সের চাপে আগের তুলনায় ধার কমে যাওয়ায় ২০০৬ বিশ্বকাপে তার লংটাইম সতীর্থ্য লেমানের কাছে জায়গা হারান কান। সাইড বেঞ্চে বসেই অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন বালাক বাহিনি কে।। ২০০২ এর পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছিল ২০০৬য়ে ও। কিন্তু সেমিফাইলে ইতালীর কাছে হেরে বিদায় নেয় জার্মানি।। এরপর ৩য় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে বালাক ইঞ্জুরীতে পড়লে কান দায়িত্ব পান ক্যাপ্টেন্সির।। ৩-১ গোলে জয় পায় পর্তুগালের বিরুদ্ধে।। বিশ্বকাপ শেষে ইতি টানেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।। শেষ হয় কানের জার্মান অধ্যায়।।
মোট ৮৬ ম্যাচ খেলেছিলেন জার্মানীর জার্সি গায়ে,নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ৪৯ ম্যাচ।।
দলকে বিশ্বকাপ জেতাতে না পারলেও ২০০২য়ে রানার্স-আপ এবং ০৬য়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে জার্মানী।।

শেষ করবো কিছু বিখ্যাত ব্যাক্তিদের উক্তি দিয়ে :
রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার এক ম্যাচে ডেভিড বেকহামের সুনিপুণ ফ্রী কিক থেকে সুনিশ্চিত হতে যাওয়া একটি গোল অলিভার কান সাবলীল ভঙ্গিতে আটকানোর পর আরেক ফ্রী কিক স্পেশালিস্ট এবং বেকহামের সতীর্থ রবার্তো কার্লোস এক বিবৃতিতে বলেন, “বেকসের শট নেওয়ার পর আমি এমনকি সেলিব্রেশনের জন্য মনে মনে প্রস্তুতও হয়ে গিয়েছিলাম কিন্তু সেখানে ছিলো অলিভার কান। সে অবিশ্বাস্য। আমি এমন আগে দেখিনি যে কিনা এভাবে বেকহামকে থামিয়ে দিতে পারে।”
ইংলিশ গোলকিপার জো হার্ট কান সাহেবকে আদর্শ মানেন। তিনি বলেন, “অলিভার কানের খেলা দেখেই আমি ভাবতাম একদিন আমিও অমন হবো। সেই থেকেই ইয়োথ একাডেমীতে মিডফিল্ডার থেকে গোলকিপিং শুরু করে দিই আমি।”
জার্মানীর একসময়ের বিধ্বংসী মিডফিল্ডার মাইকেল বালাক একবার এক টিভি অনুষ্ঠানে বলেন, “আপনারা জার্মানীর ডিফেন্সকে যতটা শক্তিশালী ভাবেন, আসলে কিন্তু তা না। মূল ব্যাপার হচ্ছে আমাদের অলিভার কান।”
সাবেক মাদ্রিদ এবং বর্তমান ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেলেগ্রিনির মতে, “আমি লেভ এবং কান, দুজনের খেলাই দেখেছি। কাউকে অসম্মান করবোনা তবে আমার বলা উচিত যে কানের সময়ের ফুটবল লেভের আমলের চেয়ে শতগুণ কঠিন ছিলো। রিফ্লেকশনের দিক দিয়ে দুইজন সমান হলেও কানের মধ্যে আলাদা কিছু ছিলো।”
————————–————————–————————–——
অলিভার কান ই একমাত্র প্লেয়ার যিনি একজন গোলরক্ষক হিসেবে বিশ্বকাপ ফুটবলের সেরা খেলোয়াড় এর পুরষ্কার “ফিফা গোল্ডেন বল এওয়ার্ড” জিতেছেন।।
কানের স্পেশালিটি বলতে সে সব দিক দিয়েই শতকের যেকোন গোলকিপারের চেয়ে সেরা। অসম্ভব জাম্পিং কোয়ালিটির কারনে হতাশ করেছেন সে সময়ের বিশ্বের সব বাঘা বাঘা স্ট্রাইকারদের। কানের সামনে শূন্যহাতে ফিরতে হয়েছিল তাই অনেক সেরা সেরা দলকে।। তার এই অতিমানবীয় পারফরমেন্স এর জন্য তাকে বলা হত “দ্য টাইটান “।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

nine + five =