অবশেষে ফেডারেশান দেখালো তাঁদের কীর্তি

এইবারের অলিম্পিকে সোনা জেতার পর মার্গারিটা মামুনকে নিয়ে পাব্লিকের লাফ ঝাঁপ দেখে মনে পড়ছিলো, আরো বছর খানেক আগেই আমি তাকে নিয়ে নিজের ওয়ালে লিখেছিলাম। কিভাবে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একটা মেয়ে অন্য একটা দেশে বড় হয়েও এই দেশের হয়ে খেলতে চেয়ে অবহেলা পেয়ে ফিরে গেছে, এখন অন্যদেশের হয়ে একের পর এক পদক জিতছে। খুব আফসোস লাগছিলো। তারপর আবার এটাও ভাবলাম- ভালোই হইসে, এদেশে থাকলে সে কোনদিনই এই উচ্চতায় উঠতে পারতো না। একে তো মেয়ে, তার উপর এথলেটিক্স এ যে রকম গেট-আপ পরা লাগে, এই বক-ধার্মিক হিপোক্র‍্যাট বহুল পাব্লিকের দেশে তাকে যাস্ট মাটিতে মিশিয়ে ফেলা হতো।
.
এক বছর পর এক্সাক্টলি তাই ঘটলো। মেয়েটা রাশিয়ার হয়ে ঠিকই অলিম্পিকে স্বর্ণজিতলো। আর সৌজন্য বসত বাংলাদেশের নাম মুখে নিসে- আর যায় কোথায়, নির্লজ্জ বেহায়া এদেশের মিডিয়া তার এই সাফল্যে ভাগ বসানো শুরু করলো! মার্গারিটা হয়ে গেলো “রিতা”… এতদিন কোন খবর নাই, যারা একচুয়ালি বাংলাদেশের হয়ে অলিম্পিকে খেলতে গেসিলো তাদের কোন যত্ন নাই, রাশিয়ার সোনা নিয়া টানাটানি শুরু হয়ে গেলো! আমার তখন এই আইডিটা বন্ধ, অন্য একটা আইডি দিয়ে দেখলাম, ঠিক একবছর আগে আমি যা যা লিখেছিলাম, বুঝদার মানুষেরা এখন তাই লিখছে- মার্গারিটা রাশিয়ায় না চলে গেলে আজ কোন অন্ধকার গহবরে হারিয়ে যেত কেউ খবরই নিতো না!
.
মার্গারিটার কপালে এক্সাক্টলি কি ঘটতো আজকে তার একটা দারুন ডেমো হয়ে গেলো। গত কিছুদিন ধরে সব মিডিয়া, স্যোশাল সাইডে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৬ মেয়েদের ফুটবল দল নিয়ে খুব মাতামাতি হচ্ছে, তারা বিশাল বিশাল গোল ব্যবধানে জিততেসে তাই। এতদিন এরা কই থাকতো, কি খেতো, কেমন সুযোগ সুবিধা পেত কোন খবর নাই, সাফল্য পাবার সাথে সাথে সব ক্ষুধার্তের মত ঝাঁপিয়ে পড়লো ভাগ বসাতে। এই মেয়েরা এখন সবার বোন, মেয়ে, একজন বিশিষ্ট ভেরিফায়েড সেলেব তো তাদের কোচই হয়ে যাবেন বলে দাবি করলেন! আমার খুবই মজা লাগছিলো সবার লাফ ঝাঁপ দেখে- কতদিন এদের কথা আম-পাব্লিক আর অতি উৎসাহি সুশীল জনতা তো দূরের কথা, খোদ ফুটবল ফেডারেশনের লোকজন মনে রাখে সেটা নিয়েই সন্দেহ ছিলো। আজকে সুন্দর প্রমাণ হয়ে গেলো- দ্যা নেভার একচুয়ালি গিভ শিট।
.
এই মেয়ে গুলো এতদিন পুরো দুনিয়া, নিজেদের ফ্যামিলি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলো, তাও তারা ঈদে বাড়ি যেতে চায় নাই- কারণ গ্রামে তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই নিজেদের ফিটনেস ধরে রাখার মত। কি ডেডিকেশন! আর আমাদের বুলি সর্বস্ব ফেডারেশন তাদের গ্রামে পাঠিয়েছে লোকাল বাসে করে! শুধু তাই না, আমাদের বীর পুংগব বখাটেরা তাদের হ্যারাস করে ষোল কলা পূর্ণ করেছে 🙂
.
দুঃখটা হলো- এই ঘটনার জন্য ফুটবল ফেডারেশনের কারো কোন জবাবদিহিতা বা শাস্তি কিছুই হবে না, কোন লজ্জাও হবে না কারো। আর “মেয়ে হয়ে কিসের ফুটবল খেলা, আর এরকম পোশাক পড়ে পাব্লিকালি চললে একটু আকটু কথা শোনা তো লাগবেই” এই মেন্টালিটির কোটি কোটি পাব্লিক আছে যারা কখনই ছেলেদের কোন দোষ খুঁজে পায়না- সেটা ধর্ষক হোক অথবা দেশের সবচেয়ে মূল্যবান মেয়েগুলোকে টিজ করা বখাটে!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

ten − six =