অপেক্ষা এবার ফাইনালের!

দুটো মাত্র ম্যাচ আর। ভালোয় ভালোয় কাটলে এই দুই ম্যাচের পরেই ঘুচতে পারে কোন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার সিনিয়র ফুটবল দলের শিরোপা-খরা। পাঁচ বছরের মধ্যে টানা তৃতীয়বারের মত হাতছানি দিয়ে ডাকা কোপা আমেরিকার শিরোপা পেতে এখনো ডিঙ্গাতে হবে ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা আর চিলি/কলম্বিয়া বাধা।
 
১৯৯৩ সালে ইকুয়েডরের এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার জোড়া গোলে মেক্সিকোকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেই সে সর্বশেষ কোপা আমেরিকা জিতলো আর্জেন্টিনা, আজকের আর্জেন্টিনার কাণ্ডারি লিওনেল মেসির বয়স তখন সবেমাত্র ছয়। ম্যারাডোনা পরবর্তী যুগে আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা লম্বা চুলওয়ালা ড্যাশিং সেই স্ট্রাইকারের হাতে শিরোপা-সম্মান দেখে সেদিনের পুঁচকে মেসিরও নিশ্চয়ই খায়েশ হয়েছিল নিজের দেশকে সেরকম কোন গর্বের উপলক্ষ্য এনে দেওয়ার। গুণে গুণে তেইশ বছর, তিনটা কোপা ফাইনাল ও একটা বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে – ট্রফির কেইসটা এখনও সেই ফাঁকাই থেকে গেছে, মেসির স্বপ্ন পূরণ হয়নি এখনো। আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আজ সেই মেসি বাতিস্তুতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে। ট্রফি আসেনি তাতেও।
 
গত কয়েকটা টুর্নামেন্টের মত তাই এবারও বলতে হচ্ছে – হয়ত এবারই সেই অপেক্ষা ঘোচানোর পালা!
 
কাল সেমিফাইনালে খেলবেন না আমেরিকার তিনজন মূল খেলোয়াড় – নান্তেঁর মিডফিল্ডার অ্যালেজান্দ্রো বেদোয়া, স্ট্রাইকার ববি উড ও কলোরাডো র‍্যাপিডসের মিডফিল্ডার জার্মেইন জোনস। দলে ফিরেছেন রাইটব্যাক দে’অ্যান্দ্রে ইয়েডলিন। ওদিকে আর্জেন্টিনার কার্ড সমস্যা বলতে শুধুমাত্র উইঙ্গার নিকোলাস গাইতান। ইনজুরির কারণে যথারীতি খেলতে পারবেন না অ্যানহেল ডি মারিয়াও।
 
কিন্তু আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে যেই তারকার হাট, সেখানে এক গাইতানের না থাকাটা সেরকম প্রভাব ফেলতে পারেনা, ফেলাটা উচিতও না। উইঙ্গার এরিক লামেলার ফর্মে ফেরার কারণেই হোক কিংবা এভার বানেগা ও মাতিয়াস ক্রানেভিটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সের কারণেই হোক – গ্রুপপর্বে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মত দলের বাদ পড়ে যাওয়ার পরে এ ধরণের অবস্থায় শিরোপাটা আর্জেন্টাইনদেরই জেতা উচিত, সেটা চিলির প্রতি সর্বান্তকরণে সম্মান জানিয়েই বলছি, আকাশী-সাদাদের টুর্নামেন্টই শুরু হয়েছে যাদের ২-১ গোলে হারিয়ে।
এই হাসি থাকবে ত মেসিদের?
এই হাসি থাকবে ত মেসিদের?
 
ইউএসএ কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের কথা মাথায় রাখলে, আমেরিকা মোটামুটি নিজের খেলাটাই খেলবে, হারার আগেই হেরে যাবে – চেষ্টা করবে আক্রমণ চালানোর। কিন্তু আর্জেন্টিনার মত দলের সাথে সেটা করার জন্য কিরকম শক্তি ও সাহস লাগে সেটা আর না বলে দিলেও হচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ভেনেজুয়েলাও মোটামুটি সেরকমই কিছু একটা করতে চেয়েছিল। রিঙ্কন-রনডনদের ভেনেজুয়েলা আর্জেন্টিনার তারকাসমৃদ্ধ দলকে জবাব দিতে চেয়েছিল আক্রমণের মাধ্যমেই, হাই-লাইন প্রেসিংয়ে চেপে ধরে রাখতে চেয়েছিল আর্জেন্টাইন মিডফিল্ড, যাতে কোন ডিফেন্সচেরা থ্রু বল কিংবা পাস আলবিসেলেস্তি স্ট্রাইকারদের কাছে যেতে না পারে। যেটা সফল হয়েছিল মোটে সাত মিনিট। এতশত ট্যাকটিক্সের ফাঁক গলে সেই মেসির একটা বলই খুঁজে পায় হিগুয়াইনকে, প্রথম গোল খাওয়া লাগে ভেনেজুয়েলার, পরে আর ম্যাচে সেভাবে ফিরতেই পারেনি তারা। 
 
কিংবা চিলির কোয়ার্টার ফাইনালটার কথাই ভাবা যাক, মেক্সিকোও চেয়েছিল হাই প্রেসিং ফুটবল খেলে চিলিকে আটকে রাখতে, তাঁদের সেই অস্ত্রও বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে তাদেরই কাছে। ফলে ক্লিন্সম্যানের কথা তাঁর শিষ্যরা কতটুকু রাখতে পারবেন – সেটা দেখার বিষয়। কারণ মেসির মত খেলোয়াড়েরা কিন্তু গ্রেইট এইসব একক কিছু মুহূর্তের জন্যই।
 
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দেখে নেওয়া যাক আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশটা কিরকম হতে পারে –
 
সার্জিও রোমেরো, গ্যাব্রিয়েল মের্কাদো, রামিরো ফ্যুনেস মোরি, নিকোলাস ওটামেন্ডি, মার্কোস রোহো, এভার বানেগা, হাভিয়ের ম্যাশচেরানো, অগাস্তো ফার্নান্দেজ, এরিক লামেলা, গঞ্জালো হিগুয়াইন, লিওনেল মেসি
 
আর বেঞ্চে অ্যাগুয়েরো, ক্রানেভিটাররা ত থাকবেনই। অপেক্ষা এবার ফাইনালের!

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

1 + 7 =