অধিনায়কত্বঃ মাশরাফি এবং আমরা আমজনতা

কিছুদিন আগেই খেয়াল করছিলাম কিছুলোক নিজেদের মাশরাফির খুব বড় ভক্ত দাবি করে বসেছে। এক ম্যাচ হারায় ওরাই শুরু করল, ওর অধিনায়কত্বে সমস্যা, এই সেই। সাকিবের ফর্ম খারাপ ছিল। যতরকমভাবে সম্ভব ওরে পচাচ্ছিল। গতবছর তামিম যখন বাজে খেলতেছিল, তখন কিসব লিখত, আর কিসব বলত ওরে নিয়ে, তা আর বললাম না। হয়তো অইসব লোক আবার স্ট্যাটাস দিবে, “তোমরা যারা তামিম/সাকিবের সমালোচনা করতে।”
লাইক, শেয়ার কামানোর জন্য এসব খুব ভালো উপায়। কিন্তু খেলাধুলা নিয়ে যখন লিখে, এদের এই ব্যাপারে একটু জ্ঞান রাখাও দরকার।

প্রথমেই একটু গাভাস্কারের কথায় আসি। ভারতের যে অল্প কয়েকজন খেলোয়াড়কে সম্মান করি, তাদের মধ্যে তিনি ওপরেই থাকবেন। সেরা ওপেনারের তালিকা করলে ওনাকে বাদ দেয়ার ধৃষ্টতা কেউ দেখাবে না। কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে ওনার করা কিছু এনালাইসিস আমার কখনই ভালো লাগে না। প্রথমেই বলি, গ্রেগ চ্যাপেল ভারতের কোচ থাকাকালে টেনডুলকার কয়েকদিন যখন একটু বাজে খেলছিল, তখন এই ভদ্রলোকও বলে বসলেন, সচিনের অবসর নেয়া উচিত। ভারত বিশ্বকাপের সময়ও ৮ ব্যাটসম্যান -৩ বোলার খেলানোর তত্ত্ব নিয়ে আমি না হেসে পারি নি। তবে এবার মাশরাফিকে নিয়ে করা মন্তব্যের নিন্দা না করে পারছি না।

ক্যাপ্টেনসি একটা ব্যাপার যেটাতে আপনাকে একটু ডিফারেন্ট কিছু ভাবতেই হবে আপনি যদি সফল হওন, সবাই আপনাকে মাথায় তুলে নাচবে। আপনি হবেন জাতীয় তারকা। আর না হলে কী হবেন, সেটা মাশরাফিকে নিয়ে করা স্ট্যাটাস থেকে নিশ্চয়ই টের পেয়ে যাচ্ছেন।

যেমন ধরুন টস। ১৯৯৬ এর বিশ্বকাপ ফাইনাল। অর্জুনা রানাতুঙ্গা টসে জিতে নিয়ে বসলেন ফিল্ডিং। এর আগ পর্যন্ত কোন ফাইনালে এই কাজ কোন অধিনায়ক করেন নি। অসি অধিনায়ক মার্ক টেলর থেকে শুরু করে ধারাভাষ্যকার, সবাই অবাক। কিন্তু ম্যাচ জিতে যখন উনি বের হলেন, তখন তাকে বাহবা দিতেই হয়।
আবার একইরকম আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে (২০০৩ ) সৌরভ গাঙ্গুলি যখন টস জিতে ফিল্ডিং নিলেন, এক ইনিংস পরেই কার্যত খেলা শেষ। অস্ট্রেলিয়া ততক্ষণে তুলে নিল ৩৫৮-২।
আর দাদার এই সিদ্ধান্তকে ধরা হয় সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্ত হিসেবে।
অধিনায়কত্বে আপনার মুভগুলো ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে কখনই বোঝা যাবে না, তা কতটা কার্যকরী ছিল।

আর মাশরাফি কেন নিজেকে শেষ দিকে বলে না এনে সজীবকে দিয়েছে, এটা বুঝতে খুব একটা বিশেষজ্ঞ হওয়ার কথা না। তখন ক্রিজে ছিল ফকনার। সে ব্যাটিং পিচে স্লগ ওভারে মিডিয়াম পেসে কি করতে পারে তা জানতে হলে ভারত আর ইংল্যান্ড এর সাথে খেলা কয়েকটা ইনিংসের কথা ভাবুন। পেস বলে তার মিস হিটগুলোও বড় ছয় হয়। সেখানে স্পিনে মিস টাইম হলে আউট এর চান্সই বেশি। আর স্পিনে অসিদের দুর্বলতা নতুন করে বলার কিছু নেই। কিন্তু ব্যাপারটা হল সাকলাইন সজীব মাশ্রাফির সিদ্ধান্তের প্রতিদান দিতে পারল কই?

তবে সবচেয়ে বড় কথা হল, একজন অধিনায়কের সবসময় ব্যাটিং , বোলিং করতে হয় না। তার দ্রুত চিন্তা থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে। আর যদি মনে করেন, আমাদের অধিনায়ক ব্যাট , বল পারেন না, শুধু এটাই বলি উনি যে এখনও এতগুলো বড় অপারেশনের পরেও খেলছেন, তা কি কম?আর খেলার উদাহরণ নাই বা দেই।

আর আমরা সাধারণ ফ্যানরা তো আরও বস। এরে কেন নামায় না, ওরে কেন বল দেয় না, ও কেন আগে নামে না ইত্যাদি। ভাই এত যদি বুঝেন, তাহলে আপনি কেন ওখানে খেলতেছেন না?

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

18 − five =