অতি-কে না বলি!

ব্যাপারটা অনেক আগের থেকেই লক্ষ্য করতেছি। গতকালকের ম্যাচের পর আবার লক্ষ্য করলাম।

critic

ব্যাপারটা হল যখন আমাদের দল জিতে তখন আমরা আনন্দে বেহুঁশ হয়ে যাই। আনন্দ করতে করতে রাজু ভাস্কর্য পদদলিত করি। প্লেয়ারদের পারলে মাথায় তুলে নাচি। আবার যখন হেরে যাই তখন প্লেয়ারদের মা মাসি বউ বাচ্চাসহ চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করে ফেলি। এতটাই আবেগ নিয়ে চলি আমরা।

আমাদের মাঝে অনেকে আছে কোন কোন বিশেষ খেলোয়াড়ের অন্ধ ভক্ত। আবার অনেকে আছে কোন কোন প্লেয়ারের অন্ধ হ্যাটার। একদল তার পছন্দের প্লেয়ারের নুন্যতম সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। আরেক দল তার অপছন্দের প্লেয়ারের পান থেকে চুন খসলে তার চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করে ছেড়ে দেন। এই দুটা প্র্যাকটিসই যেকোনো প্রফেশনাল কাজের জন্য ক্ষতিকর। খেলাধুলার জন্য যে ক্ষতিকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই প্র্যাকটিসগুলোর কারণেই আমরা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় মোহাম্মদ আশরাফুলকে হারিয়েছি। আরেক মারকুটে ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকেও হারাতে বসেছি। তামিম ইকবালের বাজে ফর্ম নিয়ে কথা বললে অনেকে ত্যাড়ে আসে। গলার রগ ফুলিয়ে বলে, তামিমের অবদান ভুলে গেলেন? তামিম দেশের জন্য এই করেছে, সেই করেছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। তামিম যখন ভালো খেলেছে তখন তাকে সবাই মাথায় তুলে নেচেছে। তাহলে এখন খারাপ খেললে কেন কিছু বলা যাবে না? ভালো খেললে যদি প্রশংসা করা যায় খারাপ খেললে কেন সমালোচনা করা যাবে না? আজকের খারাপকে গত দিনের ভালো দিয়ে জাস্টিফাই করা কি প্রফেশনালিজম? সাকিব ৪ উইকেট পাইছে বলে তার ক্যাপ্টেন্সির ভুল নিয়ে কেন কথা বলা যাবে না?

কোন খেলোয়াড় যখন ভালো করে তখন যেমন তার প্রশংসা যেমন সবাই করে তেমনি কোন প্লেয়ার খারাপ খেললে তার সমালোচনা করাও জরুরি। এটাই প্রফেশনালিজম। এটাই নিয়ম। এটাই নর্ম। যারা উন্নতি করেছে তারা এই সিঁড়ি বেয়েই উন্নতির শিখড়ে উঠেছে। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের বয়স ১৫ বছর হয়ে গেলও এখনও আমাদের মাঝে প্রফেশনাল এটিচিউড গ্রো করে নাই। এখনও আমরা কিছু কিছু প্লেয়ারের অন্ধ ভক্ত অথবা অন্ধ হ্যাটার। কেউ যৌক্তিক সমালোচনা করি না।

প্লেয়াররা জবাবদিহীতার বাইরে না। তারা চাকরি করে। চাকরি করে বেতনও নেয়। ফ্রিতে সেবা দেয় না। যেহেতু বিনিময় নেয় তার জবাবদিহীতা থাকবেই। না হলেই যত সর্বনাশ।

তবে হ্যাঁ, প্লেয়ারদের আমরা বেতন দিই। তামিম মাঠে নামলেই আড়াই লাখ টাকার মত স্যালারি পায় নাকি! এই আড়াই লাখ টাকা আমি তাকে কেন দিচ্ছি, সে আড়াই লাখ টাকার কাজ আমাকে করে দিচ্ছে কিনা সেটা তাকে জিজ্ঞেস করার পূর্ণ রাইট আমার আছে। তার পারফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করার রাইট আছে। সে এগুলার জবাব দিতে বাধ্য যতদিন সে স্যালারি নিবে।

কিন্তু তার মা-বাপ নিয়ে গালিগালাজ করার রাইট আমার নাই। কারণ তার মা-বাপকে আমি স্যালারি দিই না। হ্যাঁ, তার চাচা যেহেতু স্যালারি নিচ্ছে সেহেতু তাকে নিয়েও কথা বলতে পারি। তার মা-বাপকে গালি দিতে পারি না।

সবাই খেলা দেখুন। এনালিটিক্যাল, প্রফেশনাল, লজিক্যাল সমালোচনা করুন। অতি ভক্ত বা অতি হ্যাটার হবেন না। ধন্যবাদ।

কমেন্টস

কমেন্টস

মন্তব্য করুন

two + two =